শাবিপ্রবিতে পুলিশকে ফুল দেয়া নিয়ে ফেসবুকে পক্ষে-বিপক্ষে মত|339801|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ২২:০৯
শাবিপ্রবিতে পুলিশকে ফুল দেয়া নিয়ে ফেসবুকে পক্ষে-বিপক্ষে মত
অনলাইন ডেস্ক

শাবিপ্রবিতে পুলিশকে ফুল দেয়া নিয়ে ফেসবুকে পক্ষে-বিপক্ষে মত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে। পরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।

প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে রবিবার রাত থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছে।

আজ সোমবার সারাদিন উপাচার্যের পদত্যাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল, উপাচার্য ভবনসহ সমস্ত ভবনে তালা দেয়াসহ নানা কর্মসূচিতে ক্যাম্পাস উত্তাল।

এর মধ্যে ‘পুলিশবাহিনীকে’ ফুল দিয়ে ঘরে ফেরার আহ্বান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা-সমালোচনা তৈরি করেছে।

গতকালও পুলিশকে ফুল দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা, তারপরও তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে ফেসবুকে আলোচনা রয়েছে।

ফুল দেয়া প্রসঙ্গে আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘তারা আমাদের ক্যাম্পাসে অতিথি। তাই তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়েছি। আশা করি তারা ফুল নিয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাবেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আমরা কোনো পুলিশ চাই না।’

দিনভর পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিলেও উপাচার্য ভবনের সামনে এসে পুলিশ সদস্যদের দিকে ফুল হাতে এগিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। তবে পুলিশ সদস্যরা তাদের দেয়া ফুল নেননি।

এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে থাকেন- ‘পুলিশ তুমি ফুল নাও, আমার ক্যাম্পাস ছেড়ে দাও।’

পুলিশ ফুল না নেয়ায় মাইকে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে খোলা চিঠি পাঠ করেন শিক্ষার্থীরা। চিঠিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বাধা না দেয়া ও ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এ দিকে পুলিশকে ফুল দেয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নেটিজেনরা ফুল দেয়ার ছবি শেয়ার করে অনেকে প্রশংসা করেন আবার অনেকে বিরূপ মন্তব্য করেন।

প্রশংসা করে এক সাংবাদিক লিখেন, পুলিশকে মূলত ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে ব্যবহার করছে ক্ষমতাসীনরা। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলাও উপাচার্যের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্যই করা। শিক্ষার্থীদের ফুল দেয়া অবশ্যই নির্মমতার বিরুদ্ধে একধরনের শুভবোধের প্রকাশ। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৌভিক রেজা লিখেন, ‘এখন এইসব শান্তিবাদী নাটক মঞ্চস্থ না করে, ঘটনার শুরুতেই উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের হাত-পা ধরলেই তো সব ল্যাঠা চুকে যেতো। আত্মসম্মান নিয়ে দাঁড়ান। গুলির জবাব ফুল দিয়ে হয় না।’

ইয়াসিন আরাফাত নামে একজন লিখেন, ‘আচ্ছা, পুলিশগোরে এমনে ফুল দিলে কি পরেরবার লাঠির বারি আস্তে দেবে?’

সামসুল আলম রিপন নামে একজন লিখেন, ‘যুগে যুগে সকল আন্দোলনে পুলিশকে ফুল দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ফুলের বদলে দিয়েছে টিয়ারশেল আর রাবার বুলেট। আন্দোলন ফুল দিয়ে হয় না। স্লোগানে স্লোগানে ভেঙে দিতে হয় স্বৈরাচারীর মসনদ।’

কবি মৃদুল মাহবুব লিখেন, ‘এর চে‌য়ে ভন্ডা‌মিপূর্ণ, দ্বিচারি আচরণ আর কিছু হইতে পারে না। অ্যা‌ক্টি‌ভিস্ট‌দের নিরাপদ আন্দোলনের ভেতরে রাজপথের এই অকার্যকর নান্দনিক ফুলের জন্য। জুলুমের গুলির জবাব অন্তত ইটের ভাষা জানে। যারা গু‌লি কর‌তে‌ছে, মার‌তে‌ছে, জুলুমের পক্ষে দাঁড়াই‌তে‌ছে তাদের বিরুদ্ধে ফুল নিয়ে দাঁড়ানোর অ্যাস‌থে‌টিক্স বাংলাদেশে ক‌বে প্রতিষ্ঠিত হইলো? এই সমস্ত ফালতু অ্যা‌ক্টি‌ভিজমে ম‌জি‌য়েন না। পু‌লিশ কিন্তু ফুল নেয় নাই। না নিয়া এখ‌নো তারা আন্দোলনকারীদের থেকে শক্তিশালী। যদি তাদের ফুল নিতে বাধ্য করার মত অবস্থায় নি‌তে পা‌রেন তবেই ফুল দি‌বেন। নন্দন বাসনা এমনই খারাপ যে আন্দোলনকেও সে শেষ ক‌রে দি‌তে পিছপা হয় না। আপনা‌দের ফুলগু‌লো নিজ নিজ ভা‌লোবাসাগু‌লোর জন্য সংরক্ষিত করুন।’

আরেক অ্যাক্টিভিস্ট লিখেন, ‘এ দেশের ছেলেরা পুলিশের সামনে দাঁড়ায় ফুল নিয়ে। প্রেমিকার সামনে চাকু হাতে। এসব দেখে ফ্যাসিবাদ গান ধরে হুক্কাহুয়া।’

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ বলেন, ‘আমরা এখানে দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। ফুল গ্রহণ করা বা না করা আমাদের দায়িত্বের অংশ নয়।’

ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। আমরাও এখানে ঢুকতে চাই না। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের আহ্বানেই আমরা এখানে এসেছি।’