শর্ত পূরণে আরও সময় চায় পিপলস ব্যাংক|339831|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
শর্ত পূরণে আরও সময় চায় পিপলস ব্যাংক
নিজস্ব প্রতিবেদক

শর্ত পূরণে আরও সময় চায় পিপলস ব্যাংক

তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও তার মাকে পরিচালক করার উদ্যোগ নেওয়ার পরও প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংকের লেটার অব ইনটেন্ড (এলওআই) এর মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। তবে বিষয়টি আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভায় আলোচনার জন্য তোলা হবে। ওই সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালকরা সম্মত হলে আরও ৩ মাসের জন্য এলওআই’র মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংকের এলওআই’র মেয়াদ শেষ হয়। এর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রস্তাবিত ব্যাংকটি আবেদনও করেছে। তবে পর্ষদের সিদ্ধান্ত নিয়েই মেয়াদ বাড়াতে হবে। তাছাড়া সাকিব ও তার মায়ের পরিচালক হওয়ার বিষয়টিও একই সঙ্গে বিবেচনাধীন রয়েছে। সব ধরনের শর্ত পূরণ করে পরিচালক হলে এখানে কোনো অসুবিধার কিছু থাকবে না।’

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকিং ব্যবসার জন্য লাইসেন্স নিতে চেষ্টা করছে। তবে প্রাথমিকভাবে এই লাইসেন্সর জন্য এলওআই’র শর্ত পূরণ করতে হয়। এই শর্ত পূরণ না হওয়ায় লাইসেন্স পাচ্ছিল না প্রতিষ্ঠানটি। ফলে কয়েক দফা এলওআই’র মেয়াদ বাড়িয়ে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সবশেষ এলওআই’র মেয়াদ শেষ হয় গত ৩১ ডিসেম্বর। তবে এর আগেই কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন পূরণের জন্য সাকিব আল হাসান ও তার মা শিরিন আক্তারকে পরিচালক করার বিষয়ে অনাপত্তি চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করে প্রস্তাবিত ব্যাংকটি।

গত ডিসেম্বরে প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংক সাকিব আল হাসান ও তার মা শিরিন আক্তারকে পরিচালক করার জন্য নথিপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠায়। সাকিব ও তার মায়ের বিনিয়োগ করতে হবে ২০ কোটি টাকা। তবে ২৫ কোটি টাকার মতো মূলধন দিচ্ছেন সাকিব। পরিচালক হওয়ার নথিপত্র পাঠানোর পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের দপ্তরে গিয়ে তার সঙ্গে দেখাও করেন সাকিব।

এদিকে আগামী বৃহস্পতিবার এ বছরের প্রথম পর্ষদ সভা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সভায় প্রস্তাবিত এই ব্যাংকের এলওআই’র মেয়াদ বাড়ানোসহ আরও বেশ কিছু বিষয় আলোচনার জন্য তোলা হবে।

করোনা গেছে, ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক পিপলস ব্যাংককে এলওআই দেয়। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারলে তাদের ব্যাংকিং ব্যবসা করার লাইসেন্স দেওয়ার কথা বলা হয়। প্রধান শর্ত ছিল ব্যাংকটির মালিকরা ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু করার আগে ৪৮৫ কোটি টাকা মূলধন সরবরাহ করবে। এরপর লাইসেন্স পাওয়ার প্রায় তিন বছরের মধ্যে ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে হবে।

পিপলস ব্যাংককে দেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এলওআইর ৩১ নম্বর শর্তে বলা হয়েছিল, এলওআই ইস্যুর ছয় মাসের মধ্যে সব শর্ত পূরণ করে লাইসেন্স গ্রহণের আবেদন না করলে এলওআই বাতিল হবে। যদিও এর ৩ নম্বর শর্ত গত প্রায় তিন বছরেও পূরণ করতে পারেননি ব্যাংকটির মূল উদ্যোক্তা আবুল কাশেম। ৩ নম্বর শর্তে বলা আছে, ব্যাংকের প্রস্তাবিত চেয়ারম্যানের বাংলাদেশি নেটওয়ার্কের ৫৬ লাখ টাকা বাদে অবশিষ্ট প্রয়োজনীয় অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে তার নেটওয়ার্ক হিসেবে প্রদর্শিত সম্পদ থেকে অর্জিত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আনতে হবে।

এসব শর্ত পূরণ করতে না পারায় প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংককে তিনবার সময় বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সর্বশেষ গত ৮ সেপ্টেম্বর সাড়ে তিন মাসের বেশি সময় বাড়িয়ে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ সময় শেষ হয় গত ৩১ ডিসেম্বর। ওই চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক লিখেছিল, এরপর শর্ত পূরণ না হলে এলওআই চূড়ান্তভাবে বাতিল হবে। এখন সাকিব ও তার মা পরিচালক হওয়ার আগ্রহ দেখালে এলওআইর মেয়াদ আরও কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনার জন্য আগামী পর্ষদ সভায় তুলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।