দুই মাসে সূচকের সর্বোচ্চ অবস্থান |339833|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
দুই মাসে সূচকের সর্বোচ্চ অবস্থান
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই মাসে সূচকের সর্বোচ্চ অবস্থান

নতুন বছরের শুরুর ঊর্ধ্বমুখী ধারায় বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচকটি দুই মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই গতকাল সূচকটি ৭০৫৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সূচকের এ অবস্থান গত ২১ নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। সেদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৭০৮৫ পয়েন্টে।

গত ১০ অক্টোবর সূচকটি ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে উন্নীত হওয়ার ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়। সেদিন সূচকটি ৭৩৬৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়। তবে এরপর অস্থিরতা তৈরি হলে পুঁজিবাজারে সাময়িক পতন দেখা দেয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ ডিসেম্বর সূচকটি নেমে আসে ৬৬২৯ পয়েন্টে। তবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব বছর শেষ হওয়াকে কেন্দ্র করে প্রাতিষ্ঠানিক বিক্রিচাপ কমলে ২৭ ডিসেম্বর থেকে ইতিবাচক ধারা দেখা দেয় বাজারে। এতে করে গত ১১ জানুয়ারি অবারও সাত হাজার পয়েন্টে উঠে আসে সূচকটি। তবে সাত হাজার পয়েন্টে এসে আবার অস্থিরতা দেখা দিলেও বড় মূলধনী শেয়ারের দরবৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত সূচকটিকে বর্তমান অবস্থানে উন্নীত করতে সহায়তা করে। 

এদিকে সূচক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জে কেনাবেচার পরিমাণও বাড়তে শুরু করেছে। সূচকের মাইলফলক অবস্থানে গত বছর ডিএসইর লেনদেন প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হলেও অস্থিরতায় পড়ে গত ২১ ডিসেম্বর শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ ৬৫২ কোটি টাকায় নেমে আসে। তবে নতুন বছরে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সূচকের সঙ্গে সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও বাড়তে থাকে। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ১ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১২ শতাংশ বেশি।

গতকাল ডিএসইর খাতওয়ারি লেনদেনে মিশ্র অবস্থা দেখা গেছে। একক কোনো খাতের প্রাধান্য ছিল না। তবে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ও বেক্সিমকো লিমিটেডের কারণে বিবিধ খাত ছিল লেনদেনের সর্বোচ্চ অবস্থানে। গতকাল এ খাতটিতে কেনাবেচা হয়েছে ২৩২ কোটি ৬১ লাখ টাকা, ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৪ শতাংশ। এছাড়া ফার্মাসিউটিক্যালস, প্রকৌশল ও বস্ত্র খাতে উল্লেখযোগ্য কেনাবেচা হয়েছে। 

গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩৭৯টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৩টির, কমেছে ১৫২টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৪টির দর। গতকাল ডিএসইতে প্রায় ৪৯ শতাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৩৫ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে ৭০৫৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৮৩ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট বা দশমিক ৪১ শতাংশ বেড়ে অবস্থান করছে ২০ হাজার ৬৫০ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে।

ডিএসইর খাতওয়ারি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল সূচক বাড়াতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক, সিমেন্ট, বিবিধ, সেবা ও নির্মাণ, টেলিযোগাযোগ, বীমা ও বস্ত্র খাত। একক কোম্পানি হিসেবে সূচকে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট যোগ করেছে বেক্সিমকো, ওরিয়ন ফার্মা, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, বিএসআরএম লিমিটেড, এসআইবিএল, সাইফ পাওয়ার, রবি ও লাফার্জহোলসিম। এসব কোম্পানি ডিএসইএক্সে ২৭ পয়েন্ট যোগ করেছে।

ডিএসইতে গতকাল সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে সেবা ও নির্মাণ খাতের শেয়ারে। গড়ে খাতটির বাজার মূলধন বেড়েছে ৫ শতাংশের বেশি। এছাড়া বিবিধ ও সাধারণ বীমার বাজার মূলধন বেড়েছে ২ শতাংশের বেশি। বিপরীতে সিরামিক খাত সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে, ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

গতকাল করপোরেট বন্ড দর হারানোর দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। সদ্য তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক বন্ড টানা দ্বিতীয় দিন দর হারিয়ে অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে এসেছে। গতকাল এ বন্ডটি ৩ টাকা ৫০ পয়সা দর হারিয়ে ৯১ টাকা ৫০ পয়সায় নেমেছে।