চবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনেও বিদ্রোহী প্রার্থী, ভোট কেনার অভিযোগ|339881|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ২৩:৩০
চবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনেও বিদ্রোহী প্রার্থী, ভোট কেনার অভিযোগ
চবি প্রতিনিধি

চবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনেও বিদ্রোহী প্রার্থী, ভোট কেনার অভিযোগ

বিরোধীদল বিহীন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে চারটি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী ও বামপন্থী সমর্থিত শিক্ষক সমাজের (হলুদ দল) মনোনয়ন না পেয়ে সভাপতি ও যুগ্ম-সম্পাদক পদে জয়লাভ করেন বিদ্রোহী প্রার্থী।

বর্তমান প্রশাসনের আস্থাভাজন হওয়ায় তাদের জয়ী করতে নির্বাচনে প্যানেল না দিয়েও পদন্নোতি দেওয়ার ‘আশ্বাসে’ বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের ভোট প্রদানে উৎসাহ যোগানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষক নেতারা।

সোমবার অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি পদে জয়লাভ করেছেন হলুদ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিনা আখতার এবং যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে বিদ্রোহী প্রার্থী ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এ এম জিয়াউল ইসলাম।

বাকি দুটি পদের মধ্যে সহ-সভাপতি পদে হলুদ দলের প্রার্থী ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবুল হক ও কোষাধ্যক্ষ পদে চারুকলা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন জয়লাভ করেন। ১১টি পদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদকসহ সাতজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেন।

অভিযোগ উঠেছেবর্তমান প্রশাসনের অস্থাভাজন প্রার্থীদের মনোনয়ন না দেওয়ার চারটি পদে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। তবে দলীয় সমর্থিত প্রার্থীদের প্রচারণাপত্রে মূল হলুদ দল দাবি করে সিলও লক্ষ্য করা যায়। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থীদের জয়ী করতে নানা প্রলোভন দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের ভোট প্রয়োগে আগ্রহী করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে লেখা একটি খোলাচিঠিও বিভিন্ন মাধ্যমে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক হলুদ দলের কয়েকজন সদস্য জানান, এই চারটি পদে বর্তমান প্রশাসনের আস্থাভাজনদের মনোনয়ন না দেওয়াতে হলুদ দলেরও একক অংশগ্রহণ সত্ত্বেও শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিজয়ী করেতে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের পদন্নোতি দেওয়ার প্রলোভন দেওয়ায় তাদের ব্যাপকহারে ভোটে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে খোলা চিঠিও আমরা দেখেছি।

এসব অভিযোগ ‘হাস্যকর’ মন্তব্য করে জামায়াত ও বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ শামীন উদ্দিন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনের কোনো পরিবেশ না থাকায় আমরা প্যানেল দেইনি। আর নির্বানের ভোট দেওয়া না দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্তও ছিল না। প্রত্যেকে নিজ উৎসাহে ভোট দিতে গিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার পরিবেশ, অযোগ্যদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদানসহ নানা কারণে গত ১১ বছরে প্রসাশনের কোনো কাজে আমরা যাইনি। এসব বিষয়ে ওপর মহলেও অভিযোগ জানিয়েছি। সেখানে কোন প্রলোভনে ভোট দিতে যাব এমন অভিযোগ হাস্যকর। আমি নিজেও ভোট দিতে যাইনি।

এদিকে নির্বাচন শেষে চবি শিক্ষক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি অধ্যাপক ড. সেলিনা আখতার বলেন, আমরা সৎ, সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। তাই শিক্ষকরা আমাকে ভালবেসে ভোট দেওয়ায় আমি জয়যুক্ত হয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বানের পূর্বে প্রচরণায় আমি কোনো বাধা পাইনি। তবে আমার অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীর কিছু সমস্যা হয়েছিল। নানা অপপ্রচার যুক্ত একটি ভূয়া ইমেইল এসেছে অনেকের কাছে, যা আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা মূল দল না, এটা ঠিক নয়। আমরাও মূল দল। দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়েছি।  মূল দলে আছি, ছিলাম, থাকব।

হলুদ দলের মনোনীত প্রার্থীদের পরাজয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী বলেন, অতীতেও বিরোধী দলের প্রার্থীদের কাছে অনেক পদে দলীয় মনোনীত প্রার্থীরা পরাজয় করেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু তারা (বিদ্রোহী প্রার্থীরা) চারজনও হলুদ দলের প্রচারপত্রের মতো করে নিজেদের প্রচারপত্র তৈরি করেছেন তাই হয়তো দলীয় সমর্থিত প্রার্থীরা তাদের প্রচারপত্রে  ‘মূল হলুদ দল’ সিলটি লাগিয়েছেন। তবে তা কতটুকু যুক্তিযুক্ত সে বিষয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করা হবে।

এর আগে সোমবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৪ টা পর্যন্ত সমাজবিজ্ঞান অনুষদে চলে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। মোট ৮৬২ ভোটারের মধ্যে নির্বাচনে ৭১১ জন ভোট প্রদান করে। এর মধ্যে ১১টি ভোট বাতিল হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টায় নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়।

এতে প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত  ড. সেলিনা আখতার পেয়েছেন ৩৯১ ভোট। তার নিকটতম কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হানিফ সিদ্দিকী পেয়েছেন ২৯৬ ভোট।

এ ছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সজীব কুমার ঘোষ এবং সদস্য পদে জিন প্রকৌশল ও জৈবপ্রযুক্তি বিভাগের নাজনীন নাহার ইসলাম, বাংলা বিভাগের শারমিন মুস্তারী, সমাজতত্ত্ব বিভাগের মুহাম্মদ শোয়াইব উদ্দিন হায়দার, রসায়ন বিভাগের ফণীভূষণ বিশ্বাস, পদার্থবিদ্যা বিভাগের সৈয়দা করিমুন্নেছা ও আইন বিভাগের হোছাইন মোহাম্মদ ইউনুছ সিরাজী।