‘পুতুলনাচের ইতিকথা’য় কুসুম চরিত্রে জয়া আহসান |340342|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ জানুয়ারি, ২০২২ ১২:১৬
‘পুতুলনাচের ইতিকথা’য় কুসুম চরিত্রে জয়া আহসান
অনলাইন ডেস্ক

‘পুতুলনাচের ইতিকথা’য় কুসুম চরিত্রে জয়া আহসান

জয়া আহসান

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ বড়পর্দায় আনছেন কলকাতার পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায়। আর লাখো বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে দোলা দেওয়া কুসুম চরিত্রে থাকছেন ঢাকার প্রিয়মুখ জয়া আহসান।

কলকাতার পত্রিকা জানায়, ২০০৮ সাল থেকে এই ছবির পরিকল্পনা চললেও উপন্যাসের স্বত্ব এবং বাজেট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এত দিন ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

ছবিতে মূল উপন্যাসের নামটাই রাখছেন পরিচালক। প্রধান চরিত্রে আরও আছেন আবীর চট্টোপাধ্যায় ও পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। অন্য দুই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় এবং অনন্যা চট্টোপাধ্যায়।

নির্মাতা সুমনের কথায়, ‘এই ছবিটার জন্য দুটো জিনিস খুব জরুরি ছিল। দক্ষ অভিনেতা ও বড় বাজেট। ভালো অভিনেতা নির্বাচনের পাশাপাশি ছবির বিপণনের দিকটাও মাথায় রাখতে হয় এখন। আবীর, জয়া, পরম সেই ব্যালান্সটা করতে পারবে। প্রযোজক সমীরণ দাস বাজেটের বিষয়ে আমাকে নির্ভার করেছেন। এই ছবির শুটিং শিডিউল ২৫ দিনের, যেটা বাংলা ছবিতে এখন দেখা যায় না।’

ছবির আবহসংগীতের দায়িত্বে থাকছেন প্রবুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায়।

ব্রিটিশ ভারত বিভাগের পূর্ববর্তী সময়কে ফ্রেমবন্দী করবেন সুমন। তিরিশের দশকের শেষের দিক থেকে চল্লিশের দশকের শুরু পর্যন্ত। তিনি বলেন, ‘মূল উপন্যাসে সময়টা আরও পেছনে ছিল, আমি খানিকটা এগিয়ে এনেছি। তা ছাড়া উপন্যাসের সবকিছু ছবির চালচিত্রে ধরানো সম্ভব নয়। দুটো মাধ্যমের চলন আলাদা। আমি চারিত্রিক রসায়নের ওপরে বেশি জোর দিয়েছি।’

উপন্যাসের শশীর চরিত্রে রয়েছেন আবীর। জয়াকে দেখা যাবে কুসুমের ভূমিকায়। কুমুদের চরিত্রটি করছেন পরমব্রত। সুমন স্পষ্ট করে দিলেন তার ছবিতে শশীর অংশটা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ‘আমার মতে, মানিক বাবুর সৃষ্টির মধ্যে শশী অসম্ভব জোরালো একটা চরিত্র’, মন্তব্য তার।

কলকাতায় পড়াশোনা করা শশী গ্রামে আটকে পড়ে। লন্ডনে গিয়ে ডাক্তারিতে উচ্চশিক্ষার ইচ্ছেপূরণ হয় না তার। শশীর এই আটকে পড়া, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তার সমস্যা... এই দিকগুলো ভাবিয়েছে সুমনকে। তিনি বলেন, ‘গত শতাব্দীতে আমাদের একটা ইন্টেলেকচুয়াল ফেলিয়োর আছে। যার ফলস্বরূপ আমরা এখন এই ভয়ংকর ধর্মীয় উন্মাদনা, স্বৈরতন্ত্রের উত্থান দেখছি। বুদ্ধিজীবী শিক্ষিত মানুষের যেখানে যা বলার, সেখানে তারা সেটা বলেননি। কম্প্রোমাইজ করেছেন। শশীর চরিত্রটা এই ইন্টেলেকচুয়াল ফেলিয়োরের একটা প্রতীক আমার কাছে। মানুষকে কিছু নির্মম সিদ্ধান্ত নিতে হয় জীবনে। অনেকে সেটা পারে না।’

সুমনের বাবা অরুণ মুখোপাধ্যায় ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ মঞ্চস্থ করেছিলেন। সেই নাট্যরূপ ছিল নির্মাতার এই ছবি তৈরির পেছনে প্রথম অনুপ্রেরণা।