স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না পর্যটকরা|340454|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না পর্যটকরা
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না পর্যটকরা

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করায় ইতিমধ্যে দেশের ১২টি জেলাকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। তবে এ ধাপে সবার আগে ঢাকার সঙ্গে রাঙ্গামাটি জেলাকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়। রাঙ্গামাটিকে রেড জোন ঘোষণার পর জনসাধারণের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় আরও কঠোর হওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি জেলার পর্যটন স্পটগুলো খোলা রাখা হলেও অর্ধেক পর্যটক প্রবেশ এবং স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু সরেজমিন দেখা গেছে, জেলা প্রশাসনের এসব নির্দেশনা পালনে আগ্রহ নেই পর্যটকদের। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে মাস্ক ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছেন পর্যটকরা। ট্যুরিস্ট পুলিশ এ বিষয়টি তদারকি করার কথা থাকলেও তাদের তেমন কর্মতৎপরতা চোখে পড়েনি।

পর্যটন করপোরেশনের ঝুলন্ত সেতু ঘুরে দেখা যায়, ঝুলন্ত সেতু ও হ্রদের নৌবিহারে পর্যটকের ভিড়। মাস্ক ছাড়া প্রবেশের অনুমতি না থাকলেও বেশিরভাগ পর্যটকের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই। মাস্ক না পরার ব্যাপারে পর্যটকরা নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন।

মাস্ক না পরার বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মো. ইলিয়াছ বলেন, ‘মাস্ক পরে ছবি তুললে চেহারা দেখা যায় না। তাই মাস্ক খুলে পকেটে রেখেছি।’ আরেক পর্যটক সোহেল মিয়া বলেন, ‘গাড়ি থেকে নামার পর মাস্ক হারিয়ে গেছে। সরকারি নির্দেশনা তো অনেকেই মানছেন না, তবে মাস্ক পরা উচিত ছিল।’

কুমিল্লা থেকে বেড়াতে আসা সোহেল রানা বলেন, ‘এখানের প্রকৃতি খুবই সুন্দর, তবে বেশিরভাগ পর্যটক অসচেতনভাবে ঘোরাফেরা করছে তাতে আমিও ঝুঁকিতে পড়ছি। এ ব্যাপারে নিজেরা নিজ তাগিদে সচেতন হওয়া উচিত।’

রাজধানীর উত্তরা থেকে আসা আরেক পর্যটক মো. জাবেদ খান অভিযোগ করে বলেন, ‘যাদের এ বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব তাদের তো দেখছি না। ট্যুরিস্ট পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন থাকলে পর্যটকরা আরও সতর্ক হতো। বেড়াতে এসে নিজেকে ঝুঁকিতে ফেলছি বলে মনে হচ্ছে।’

রেড জোন ঘোষণার পর পর্যটক কিছুটা কমেছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা। রাঙ্গামাটি পর্যটক বোটঘাট ইজারাদার রমজান আলী বলেন, ‘বিগত বন্ধের দিনে যে পরিমাণ পর্যটক আসে সে তুলনায় কিছুটা কম। আমরা সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেই হ্রদ ভ্রমণের জন্য বোট ভাড়া দিচ্ছি।’

রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশন ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়–য়া বলেন, ‘রেড জোন ঘোষণার পর অনেক বুকিং বাতিল হয়েছে। পর্যটকের সংখ্যাও কমে এসেছে। আমরা মাস্ক ছাড়া ঝুলন্ত সেতুতে কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছি না। তবে প্রবেশের পর অনেকেই মাস্ক খুলে ফেলছেন। লোকবল সংকটের কারণে পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে হোটেলে সরকারি বিধি অনুসরণ করে রুম ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।’

ট্যুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘যতক্ষণ আমরা পর্যটকদের সামনে থাকি, ততক্ষণ তারা মুখে মাস্ক দেয়, সরে গেলে আবার খুলে ফেলে। নিজেরা সচেতন না হলে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করানো কঠিন হয়ে যাবে।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় অর্থনীতির বিষয়টি বিবেচনা করে পর্যটন স্পটগুলো এখনই বন্ধ ঘোষণা হয়নি। তবে পর্যটন কেন্দ্রে ধারণক্ষমতার অর্ধেক প্রবেশের ব্যবস্থা রাখতে হবে। জেলা প্রশাসনের মোবাইল টিম মাঠে কাজ করছে।’