১৯ দিনে সংক্রমণ বেড়ে আড়াই গুণ|340494|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
১৯ দিনে সংক্রমণ বেড়ে আড়াই গুণ
বরিশাল সংবাদদাতা

১৯ দিনে সংক্রমণ বেড়ে আড়াই গুণ

বরিশালে হু-হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। সরকারের ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করা হলে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কেউ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাস্ক পরার ওপর জোর দেওয়া হলেও তা মানছেন না মানুষ। বিভাগটিতে গত বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে শনাক্তের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি শনাক্ত হয়েছে চলতি জানুয়ারি মাসের ১৯ দিনে। চলতি মাসে এ বিভাগের ৬ জেলায় ২৬৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে নভেম্বর ও ডিসেম্বরে শনাক্ত হয়েছিল ৮৮ জনে।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে বরিশাল বিভাগে ২৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন। এর পরের সাত দিনে শনাক্ত হন ৬৪ জন। ১৫ থেকে ১৯ জানুয়ারি এই পাঁচ দিনে শনাক্ত হয়েছেন ১৭২ জন।

এদিকে গতকাল বরিশাল নগরীতে দেখা যায়, শহরের চলাচলকারী ইজিবাইক, মাহেন্দ্র, রিকশা ও মোটরসাইকেলের কোনো যাত্রীর মধ্যে ছিল না স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা। ব্যস্ত নগরীতে অধিকাংশ মানুষই মাস্ক ব্যবহার না করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে বরিশালের জেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেও স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে উদাসীনতা দেখা গেছে।

শহরে চলাচল করা বিভিন্ন অটো, সিএনজি ও মাহেন্দ্রচালকরা মাস্ক ব্যবহার করছেন না। যাত্রী কম নেওয়ার কথা থাকলেও তারা গাদাগাদি করে যাত্রী তুলছেন। এতে করোনা সংক্রমণ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছে বরিশালের সচেতন মহল।

গতকাল নগরের সদর রোডে মাস্কবিহীন চলাচল করা বেশ কয়েকজন পথচারীকে মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাইলে তারা জানান, ‘মাস্ক পরলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তা ছাড়া তারা টিকা নিয়েছেন এখন আর ভয় কীসের।’ একই চিত্র লক্ষ করা গেছে বরিশালের কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড, রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড ও বরিশাল নৌবন্দরে। এসব জনবহুল স্থানগুলোতে মাস্কসহ স্বাস্থ্যবিধি কেউ-ই মানছেন না।

এদিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন একজনের মৃত্যু হয়েছে। করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। এদিকে মেডিকেল কলেজের আরটি পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্তের হারও ঊর্ধ্বমুখী। হাসপাতালের পরিচালক কার্যালয় সূত্র জানায়, গত বুধবার শেবাচিমের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল ১৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন একজনে মৃত্যু হয়েছে। তার নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। মহামারী শুরুর পর থেকে এ হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ২৫ জন, আর করোনায় মারা গেছেন ৪২৮ জন।

একই সময় চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে তিনজন রোগী করোনা ওয়ার্ড ত্যাগ করেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নানা উপসর্গ নিয়ে ছয়জন করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন ১৫ জন রোগী।

এ ছাড়া মেডিকেল কলেজের আরটি পিসিআর ল্যাবে বুধবার রাতে ১১৮ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে ২৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৪.৫৪ শতাংশ। এর আগে মঙ্গলবার রাতে পিসিআর ল্যাবে শনাক্তের হার ছিল ২৬.৩৮ শতাংশ, সোমবার ১৭.৭২, রবিবার ১২.২২ শতাংশ এবং গত শনিবারের রিপোর্টে ৫.০৪ শতাংশ করোনা শনাক্ত হয়।

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরেই রোগী আসছে, প্রতিদিনই তা বাড়ছে। হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৩০০। রোগী এর বেশি হলে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে জরুরি মুহূর্তে বিকল্প কী করণীয়, সে বিষয়ে আমরা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।’

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও উপপরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ-তিন গুণ হারে বাড়ছে। এর পেছনে বড় কারণ স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা। স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে না মানলে সংক্রমণ আগের চেয়েও ভয়াবহ গতি পেতে পারে। এজন্য মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শেবাচিমে করোনা ওয়ার্ড চালুর পর ৭ হাজার ৪৭৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে করোনা পজিটিভ ছিল ৪২৮ জনের।