১১ শতাংশ শিক্ষার্থীর টিকা বাকি|340526|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
১১ শতাংশ শিক্ষার্থীর টিকা বাকি
প্রতীক ইজাজ

১১ শতাংশ শিক্ষার্থীর টিকা বাকি

দেশে ১২-১৮ বছর বয়সী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ৮৯ শতাংশই শিক্ষার্থী করোনা টিকা পেয়েছে। অর্থাৎ এসব শিক্ষার্থীকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া শেষ করেছে সরকার। সে হিসেবে এখনো টিকার বাইরে রয়েছে মাত্র ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী। টিকা পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঢাকা জেলার ৯৩ শতাংশ ও ঢাকার বাইরে ৮৯ শতাংশ শিক্ষার্থী রয়েছেন। টিকাদানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা জেলা ও ঢাকা মহানগরী। ঢাকার বাইরে এখনো টিকা পায়নি ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী। সেখানে ঢাকা জেলায় এই হার ৭ শতাংশ। এমনকি ঢাকা মহানগরীতে এই হার আরও কম, মাত্র ১ শতাংশ।

সে হিসেবে টিকায় সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা মহানগরী। এরই মধ্যে এখানে শিক্ষার্থীর ৯৯ শতাংশকেই টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। বাকি ১ শতাংশ শিক্ষার্থীকে আগামী রবি-সোমবারের মধ্যেই টিকা দেওয়ার কাজ শেষ করতে চায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

অবশ্য ঢাকা জেলার মধ্যে টিকায় পিছিয়ে সাভার, কেরানীগঞ্জ ও দোহার উপজেলা। এর মধ্যে দোহারে মাত্র দেড় হাজারের মতো শিক্ষার্থী বাকি থাকলেও অন্য দুই উপজেলায় এ সংখ্যা অনেক বেশি।

অন্যদিকে, এই শিক্ষার্থীদের টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়াও শুরু হয়েছে। সারা দেশে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। প্রথম ডোজের মতো দ্বিতীয় ডোজেও এগিয়ে ঢাকা মহানগরীর শিক্ষার্থীরা। যেখানে ঢাকা জেলায় দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থী, সেখানে ঢাকা মহানগরীতে এই হার ৩২ শতাংশ ও ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে এই হার মাত্র ৪ শতাংশ।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং ঢাকা জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে গতকাল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের টিকার এই চিত্র পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ১২-১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের অন্তত এক ডোজ টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য টিকা নেওয়ার পদ্ধতিও সহজ করা হয়েছে। এখন টিকা নিতে শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন না করলেও চলবে। পরিচয়পত্র বা কোনোভাবে পরিচয়ের প্রমাণ দিলেই শিক্ষার্থীরা টিকা পাচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শুরুতে রেজিস্ট্রেশন নিয়েও ঝামেলা হয়েছে। অনেকের জন্মসনদ ম্যানুয়ালি ছিল, টিকার জন্য তাদের জন্মসনদ ডিজিটাল করতে হয়েছে। এসব সমস্যা ছিল। কিন্তু এখন সব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। এখন শিক্ষার্থীদের জন্য পুরো প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এ মাসের শুরুতে মন্ত্রিসভা থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, ১২ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা এখনো টিকা নেয়নি, তাদের আপাতত স্কুলে যেতে নিষেধ করতে হবে। সেই সিদ্ধান্তও ঠিক রয়েছে। ৩১ জানুয়ারির পর থেকে টিকা ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অনুমতি দেওয়া হবে না। যারা এরই মধ্যে টিকা নিতে পারবে না তারা অনলাইনে বা টিভিতে ক্লাস করবে। আমরা অ্যাসাইনমেন্টের ব্যবস্থাও রাখব।

দেশে গত ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। এরপর ব্যাপক বিধিনিষেধের মধ্যে সে বছরের ১৮ মার্চে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয় সরকার। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ৫৪৩ দিন পর গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর আবার শ্রেণিকক্ষে ফেরে শিক্ষার্থীরা। গত বছরের শেষে এসএসসি পরীক্ষার আগে সরকার ঢাকায় ১২-১৮ বছর বয়সীদের করোনার টিকা দেওয়া শুরু করে। গত ১ নভেম্বর থেকে শুধু ঢাকায় ১২ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হয়। পরে সেই কার্যক্রম সারা দেশে বিস্তৃত হয়। অবশ্য এর আগেই ১৮ বছর বয়সী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টিকা নিতে শুরু করে।

দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়। তবে স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা না নিয়ে তাদের পরবর্তী শ্রেণিতে তুলে দেওয়া হয়েছে অ্যাসাইনমেন্ট ও পাঠ মূল্যায়নের মাধ্যমে।

এরই মধ্যে গত নভেম্বরে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশেও গতকাল চট্টগ্রামের নতুন আটজনসহ ৭১ জনের মধ্যে ওমিক্রনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। প্রায় পাঁচ মাস পর গতকাল করোনা শনাক্ত হার ২৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় সরকার শিক্ষার্থীদের টিকার ওপর জোর দিয়েছে।

মোট টিকা ৮৯ শতাংশ : মাউশির তথ্য অনুযায়ী, দেশে সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা মিলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩০ হাজার। এর মধ্যে মাধ্যমিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২২ হাজার ও মাদ্রাসা ৮ হাজার। এসব প্রতিষ্ঠানে ১২-১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ১ কোটি ৩২ লাখ। তাদের মধ্যে টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছে ১ কোটি ১৮ লাখ শিক্ষার্থী, যা মোট শিক্ষার্থীর ৮৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ৮ লাখ শিক্ষার্থী, যা মোট শিক্ষার্থীর ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। সারা দেশে এখনো টিকার প্রথম ডোজ পায়নি ১৪ লাখ শিক্ষার্থী, যা মোট শিক্ষার্থীর ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

রাজধানীতে টিকা বেশি : শতাংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর শিক্ষার্থীরা করোনার টিকা সবচেয়ে বেশি পেয়েছে। এখানে সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলে শিক্ষার্থীরা সংখ্যা ৭ লাখ ৪৫ হাজার। তাদের মধ্যে টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছে ৭ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ৯৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং টিকার দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ১৭১ জন, যা প্রথম ডোজ পাওয়া শিক্ষার্থীর ৩২ দশমিক ১৫ শতাংশ। এখানে এখনো টিকা পায়নি মাত্র ৮ হাজার ২৭৯ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ১ দশমিক ১২ শতাংশ।

ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল মজিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকা মহানগরীতে ৯টা কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হচ্ছে। টিকা চলছে। প্রথম ডোজ প্রায় শেষ। যারা এখনো টিকা নেয়নি, তাদের খুঁজে খুঁজে টিকা দিচ্ছি। লক্ষ্য ছিল শনিবারের মধ্যে ঢাকার শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শেষ করার। কিন্তু সেটা হবে না। কারণ সাভার একটু পিছিয়ে আছে। সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। কারণ মহানগরীর পর সেখানে শুরু করেছি। সাভার, কেরানীগঞ্জ ও দোহারে শেষ হয়নি। দোহারে দেড় হাজারের মতো শিক্ষার্থী বাকি আছে। সাভার ও কেরানীগঞ্জে বেশি বাকি আছে।

এই কর্মকর্তা বলেন, আশা করছি রবি-সোমবারের মধ্যে ঢাকা জেলায় শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শেষ করতে পারব। ঢাকা মহানগরীতে প্রায় শেষ। এখানে কোনো কোনো স্কুলে ১০-১৫ জন করে শিক্ষার্থী এখনো বাকি আছে। তাদের দিচ্ছি।

জেলার মধ্যে এগিয়ে ঢাকা : ঢাকা জেলায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯ লাখ ৭৪ হাজার জন। তাদের মধ্যে টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছে ৯ লাখ ১২ হাজার ১৫৫ জন, যা জেলার মোট শিক্ষার্থীর ৯৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৫ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ২৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এখনো এই জেলায় টিকা পায়নি ৬১ হাজার ৮৪৫ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল মজিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখানে স্কুল-মাদ্রাসা-কারিগরিসহ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯ লাখ ৭৪ হাজার। এদের মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত লাখ সাধারণ শিক্ষার্থী, বাকি দুই লাখের মতো মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার্থী। ঢাকা জেলায় পলিটেকনিকসহ কারিগরি প্রতিষ্ঠান অনেক আছে।

ঢাকার বাইরে বাকি ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী : ঢাকার বাইরে অন্যান্য জেলায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ কোটি ২২ লাখ ২৬ হাজার। তাদের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত করোনা টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৮৭ হাজার ৮৪৫ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ৮৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার ২৬৫ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। এখনো টিকার বাইরে রয়েছে ১৩ লাখ ৩৮ হাজার ১৫৫ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ।