আলাদা অধিদপ্তর চায় পুলিশ|340527|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
রবিবার শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ
আলাদা অধিদপ্তর চায় পুলিশ
সরোয়ার আলম

আলাদা অধিদপ্তর চায় পুলিশ

করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এবার পুলিশ সপ্তাহ ভিন্ন আঙ্গিকে করার প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। প্রতিবছর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের দরবার হলেও করোনার কারণে এবার তা বাতিল করা হয়েছে। তবে পুলিশের দাবিদাওয়া প্রধানমন্ত্রীকে লিখিতভাবে জানানো হবে। পুলিশের একটি সূত্র বলেছেন, এবার তাদের দাবির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থেকেই পুলিশের জন্য আরেকটি অধিদপ্তর।

আগামী রবিবার সকালে পুলিশ সপ্তাহ শুরু হবে। ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন। এবারের পুলিশের স্লোগান হচ্ছে ‘দক্ষ পুলিশ, সমৃদ্ধ দেশ; বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’। রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশের ৯টি ইউনিট প্যারেডে অংশ নিচ্ছে। প্যারেডে অংশ নিতে ঢাকার বাইরে থেকে পুলিশের কোনো সদস্যকে আনা হয়নি। রেঞ্জ ডিআইজি (উপমহাপরিদর্শক), ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শুধু উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে যারা থাকবেন সবারই করোনার নেগেটিভের সনদ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এদিকে, ২০২০ ও ২০২১ সালে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক ও বাংলাদেশ পুলিশ পদক পাচ্ছেন ২৩০ পুলিশ কর্মকর্তা। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। 

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, পুলিশ সপ্তাহকে সামনে রেখে পুলিশের জোরালো কিছু দাবিদাওয়া উত্থাপন করা হয়। করোনার কারণে গত দুই বছর ধরে পুলিশ সপ্তাহ হচ্ছে না। ২০১৯ সালে সর্বশেষ পুলিশ সপ্তাহ অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দরবারে বেশকিছু দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু বেশিরভাগ দাবিই এখনো পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুরনো দাবিগুলোর পাশাপাশি নতুন কিছু দাবি উত্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু সরাসরি উপস্থিত থাকছেন না, সে জন্য প্রস্তাবগুলো লিখিতভাবে জানানো হবে। তিনি আরও বলেন, আইজিপির পদটি সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবও একই পদমর্যাদার। তারা চাচ্ছেন পুলিশের আনুষঙ্গিক কাজগুলো আইজিপির মাধ্যমেই করতে। পুলিশের ছুটি, বদলির মতো কাজগুলো জননিরাপত্তা বিভাগের মাধ্যমেই করতে হচ্ছে। এতে হয়রানি হতে হচ্ছে। হয়রানি এড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পুলিশের জন্য আরেকটি অধিদপ্তর করার দাবি জানানো হবে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

তা ছাড়া সুপার নিউমারারি পদ সংখ্যা বৃদ্ধি, আইজিপির ফোর স্টার পদের মর্যাদা দেওয়া, নতুন আরও এক লাখ পুলিশ নিয়োগ, সব সদস্যের জন্য বিশেষ ভাতা চালু, পুলিশ মেডিকেল কোর গঠন, উন্নত অস্ত্রসহ অত্যাধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা, ক্যাডার কর্মকর্তাদের ঝুঁকিভাতা দেওয়া ও শ্রান্তি ভাতা প্রচলন, গাড়ির সংখ্যা বাড়ানো, আবাসন সংকট সমাধানের বিষয়গুলোও প্রস্তাব করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার আরেক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুলিশ সপ্তাহে ২০২০ এবং ২০২১ সালের সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজ এবং সেবার স্বীকৃতি হিসেবে ২৩০ জনকে চার ধরনের পদক দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মো. কামরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, যারা অনুষ্ঠানে আসবেন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষাপূর্বক কভিড নেগেটিভ সনদ আনতে হবে। যাদের সনদ থাকবে না তাদের অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবারের পুলিশ সপ্তাহটি হবে ভিন্ন আঙ্গিকে। কিছু অনুষ্ঠান কাটছাঁট করা হয়েছে। ২৫ জানুয়ারি রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটরিয়ামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ২৭ জানুয়ারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের বৈঠক হবে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, পৃথক পুলিশ অধিদপ্তর গঠন করা হলে আইজিপি মন্ত্রণালয়ে বসেই সিনিয়র সচিবের ভূমিকা পালন করতে পারবেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানও অর্থ মন্ত্রণালয়ে বসে সিনিয়র সচিবের ভূমিকা পালন করেন। এনবিআরের চেয়ারম্যান যদি মন্ত্রণালয় ও নিজ দপ্তরে থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারেন তাহলে আইজিপি কেন পারবেন না। পুলিশে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার জনবল রয়েছে। এই বিষয়টি তাদের জোরালো দাবি থাকবে পুলিশ সপ্তাহে। ২০১২ সালে বর্তমান সরকার আইজিপির পদটিকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা দেয়।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বিশ^বিদ্যালয় এবং পুলিশ নিরাপত্তা ও ফৌজদারি বিচার’ নামে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট যাতে হয়, সেই দাবিও থাকবে তাদের। মেডিকেল কোর গঠন হলে একজন চিকিৎসক সহকারী পুুলিশ সুপার পদে যোগদান করবেন। এই বিষয়টিও এবার আলোচনায় থাকছে। তা ছাড়া বিদেশি মিশনগুলোতে পুুলিশের পদ সৃষ্টি করারও দাবি থাকবে।