চলন্ত বাস থেকে ফেলে যাত্রী হত্যার অভিযোগ|340528|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
ভাড়া নিয়ে বিতণ্ডা
চলন্ত বাস থেকে ফেলে যাত্রী হত্যার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলন্ত বাস থেকে ফেলে যাত্রী হত্যার অভিযোগ

রাজধানীর ওয়ারীতে ভাড়া নিয়ে বিতণ্ডার জেরে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে এক যাত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাসটির কর্মীদের বিরুদ্ধে। নিহতের নাম ইরফান (৪৮)। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জয়কালী মন্দির মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে রাজধানীর মগবাজারে দুই বাসের মাঝে চাপা পড়ে রাকিবুল ইসলাম রাকিব (১৪) নামে এক কিশোরের প্রাণ গেছে। গতকাল বিকেলে মগবাজার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।নিহত ইরফানের স্বজন ও পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গতকাল বেলা সোয়া ১১টার দিকে ইরফানকে জয়কালী মন্দির রোড থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ১২টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সহকর্মী আবদুল কাদের জানান, নিহত ইরফান নবাবপুরের একটি ইলেকট্রিক দোকানে কাজ করতেন। গতকাল সকালে ডেমরার বাসা থেকে বের হয়ে গ্রিন বাংলা নামে একটি বাসে চড়ে নবাবপুরের কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন।

ইরফানের মৃত্যুর বিষয়ে আবদুল কাদের দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে জানতে পারি বাসের কন্ডাক্টরের (ভাড়া আদায়কারী) সঙ্গে ভাড়া নিয়ে তর্কাতর্কি হয় ইরফানের। একপর্যায়ে কন্ডাক্টর তাকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। তখন রাস্তায় পড়ে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়ে সে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।’

বাসের ভাড়া আদায়কারীর সঙ্গে বিতণ্ডার জেরে ইরফানকে বাস থেকে ফেলে দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ওয়ারী থানার এসআই আরাফাত হোসেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি যে গ্রিন বাংলা নামে একটি বাসে চড়ে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন ইরফান নামের ওই ব্যক্তি। জয়কালী মন্দির মোড়ে গাড়ি পৌঁছালে ভাড়া নিয়ে বাসের স্টাফের সঙ্গে তার তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে কন্ডাক্টর মোজাম্মেল তাকে ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে ফেলে দেয়। পরে স্থানীয়রা মোজাম্মেলকে আটক করে। তবে পরে কৌশলে পালিয়ে যায় মোজাম্মেল।’

পালিয়ে যাওয়া মোজাম্মেলকে আটক এবং ইরফানকে গ্রিন বাংলার যে বাস (ঢাকা মেট্রো ব ১৫ ৭৯৫৬) থেকে ফেলে দেওয়া হয় সেটি জব্দ করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে বলেও জানান এসআই আরাফাত।

ইরফানের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান তার স্বজনরা। সেখানে বড় ভাই মো. রায়হান জানান, ডেমরার সারুলিয়ার বড় ভাঙ্গা এলাকায় তাদের নিজেদের বাড়ি। এক মেয়ে ও স্ত্রী ইসমত আরা রুমাকে নিয়ে সেখানেই থাকতেন ইরফান। তার বাবা প্রয়াত আলমগীর হোসেন। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে ইরফান ছিলেন তৃতীয়। ইরফানকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন তার ভাই।

ওয়ারী থানার ওসি কবির হোসেন হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। বাস জব্দের পাশাপাশি চালক ও হেলপারকে (চালকের সহকারী) শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

মগবাজারে বাসের পাল্লাপাল্লিতে প্রাণ গেল কিশোরের : গতকাল বিকেল ৫টার দিকে মগবাজার মোড়ে যাত্রাবাহী দুটি বাসের মধ্যে চাপা পড়ে নিহত হয় কিশোর রাকিবুল ইসলাম রাকিব। সে বাসে ফেরি করে মাস্ক বিক্রি করত বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় রাকিবকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে বিকেল সাড়ে ৫টায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রাকিব ময়মনসিংহের ধোবাউরার গাছুয়াপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মেজো ছিল রাকিব। তার পরিবার থাকে মগবাজারের পেয়ারাবাগে।

দুর্ঘটনার পর রাকিবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া পথচারী হারুন-অর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মগবাজার মোড়ে গাজীপুরগামী আজমেরী পরিবহনের তিনটি বাস প্রতিযোগিতা করে চালাচ্ছিল। তখন সামনের দুটি বাসের মাঝে চাপা পড়ে কিশোর রাকিব। রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই।’

ঘটনাস্থল থেকে রাকিবের সঙ্গে হাসপাতালে আসা লোকমান নামে এক কিশোর বলেন, আশপাশের লোকজন জানিয়েছে নিহত রাকিব বাসে ফেরি করে মাস্ক বিক্রি করত। দুর্ঘটনার পর তাকে চাপা দেওয়া দুটি বাসেরই চালক ও তাদের সহকারীরা বাস রেখে পালিয়ে যায়।

নিহত রাকিবের বাবা নুরুল ইসলাম জানান, তিনিও মগবাজার মোড়ে পান-বিড়ি বিক্রি করেন। রাকিব গাড়িতে গাড়িতে ফেরি করে মাস্ক বিক্রি করত। সন্ধ্যার দিকে তিনি খবর পান রাকিব দুই বাসের মাঝে চাপা পড়েছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে ছেলের লাশ দেখতে পান।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, নিহত রাকিবের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।