ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধে খাবার|340628|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধে খাবার
সৈয়দা শারমিন আক্তার

ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধে খাবার

ব্রেস্ট ক্যানসার এক আতঙ্কের নাম। সমীক্ষায় বলে, প্রতি আটজনে একজন নারী জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হন। জেনেটিক কিছু রিস্ক ফ্যাক্টর আছে, যা পরিবর্তন করা সম্ভব নাও হতে পারে। কিন্তু সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে অবশ্যই ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। লিখেছেন ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টারের প্রধান পুষ্টিবিদ সৈয়দা শারমিন আক্তার

খাদ্যাভ্যাস

ভিটামিনযুক্ত খাবার

ভিটামিন ও খনিজ লবণ ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। বিশেষ করে ভিটামিন-এ, ডি, ই-যুক্ত খাবার খুবই প্রয়োজন। প্রতিদিন ফল, রঙিন সবজি যেমন গাজর-টমেটো-পাকা পেঁপে-বিট ইত্যাদি অর্থাৎ যেগুলো রান্না ছাড়া খাওয়া যায়, সামুদ্রিক মাছ, আখরোট, সূর্যমুখীর বিচি, সয়াবিন, ডিমের কুসুম ইত্যাদি খাবারের তালিকায় রাখুন। ভিটামিন-ডি পেতে প্রতিদিন অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট সরাসরি সহনীয় পর্যায়ের সূর্যের আলো নিজের ত্বকে লাগানো প্রয়োজন।

পানীয় হিসেবে গ্রিন-টি

প্রসেসড ছাড়া গ্রিন-টি পান করার চেষ্টা করুন। গ্রিন-টিতে ইজিসিজি (এপিগ্যালোক্যাটেচিন-৩-গ্যালেট) নামক উপাদান থাকে, যা ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি বন্ধ করতে সাহায্য করে।

বানানোর পদ্ধতি

ছাঁকনিতে গ্রিন-টি-এর আস্ত পাতা ১ চা চামচ রেখে দিন। ওপর থেকে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে দিন। এই গ্রিন-টি গরম-ঠান্ডা দুভাবে পান করা যায়। গরম খেতে চাইলে মধু-লেবু-আদা দিয়ে চায়ের মতোও খাওয়া যায়।

ক্যানসার প্রতিরোধী খাবার

আঁশযুক্ত খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন। প্রতিদিন প্রায় ৩০ গ্রাম আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ ক্যানসার সৃষ্টিকারী ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমাতে পারে। ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কাও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে। আঁশযুক্ত খাবারের মধ্যে মটরশুঁটি, দেশি মৌসুমি ফল, আস্ত শস্য এবং ফ্ল্যাভনয়েড, ক্রুসিফেরাস ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট (ব্রোকলি, ফুলকপি ও বাঁধাকপি) এবং ক্যারোটিনয়েড (রঙিন শাকসবজি)-সমৃদ্ধ সবজি ইত্যাদি। রান্নায় পেঁয়াজ, রসুন, পেঁয়াজপাতা ব্যবহার করুন। এগুলো ক্যানসার সৃষ্টিকারী ফ্রি র‌্যাডিকেলকে নিরপেক্ষ করে এবং ক্যানসার কোষের বিস্তার রোধ করে। সালাদ হিসেবে সবজি কাঁচা খাওয়ার উপকারিতা বেশি। সয়াবিন ও সয়াপণ্য যেমন টফু ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। সাদা চিনি বা রিফাইন্ড চিনি ক্যানসার সেল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। খাবারে চিনির পরিমাণ কমিয়ে দিন। চিনির পরিবর্তে খেজুর, খুরমা, কিশমিশ, মধু, তালের গুড় মাঝেমধ্যে খাওয়া যেতে পারে।

স্বাস্থ্যকর চর্বি

সম্পৃক্ত চর্বি এবং ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড ব্রেস্ট ক্যানসারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই স্বাভাবিকভাবে খাবারে অতিরিক্ত তেল-চর্বি বর্জন করুন। যতটুকু খাওয়া যাবে তার পুরোটাই অসম্পৃক্ত চর্বি, যেমন ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটিঅ্যাসিডযুক্ত চর্বি গ্রহণ করা প্রয়োজন। যেমন নদী বা সামুদ্রিক মাছের তেল গ্রহণ করুন। তা ছাড়া বিভিন্ন জাতের বাদাম থেকেও স্বাস্থ্যকর চর্বি পাওয়া যায়। প্রতিদিনের স্ন্যাক্স হিসেবে বাদাম এবং সপ্তাহে অন্তত দুদিন সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার চেষ্টা করুন।