এ সময়ের অপেক্ষায় ছিলাম|340644|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
এ সময়ের অপেক্ষায় ছিলাম
রণ

এ সময়ের অপেক্ষায় ছিলাম

জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলরুবা দোয়েলের মন খুব ভালো। তার তিনটি সিনেমা এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হচ্ছে। এই তারকার সঙ্গে কথা বলেছেন রণ

ঢাকা আন্তর্জাতিক উৎসব...

দেশের সবচেয়ে বড় ও সম্মানজনক চলচ্চিত্র উৎসবে আমার মতো নতুন অভিনেত্রীর তিনটি সিনেমা জায়গা পাওয়া বিরাট ব্যাপার। ছবিগুলো হলো শবনম ফেরদৌসী পরিচালিত ‘আজব কারখানা’, নুরুল আলম আতিকের ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ ও রাশেদ চৌধুরীর ‘চন্দ্রাবতী কথা’। উৎসবের প্যানারোমা বিভাগে জায়গা পেয়েছে ছবিগুলো। এই বিভাগের আন্তর্জাতিক জুরিরা পর্যন্ত বিষয়টি খেয়াল করেছেন। তারা বলেছেন, একটি মেয়েকে তিনটি সিনেমায় তিনটি ভিন্ন চরিত্রে দেখেছি। আমাকে তারা খুঁজেছেন, পরে গত বৃহস্পতিবার আমার ‘আজব কারখানা’ ছবির ফেস্টিভ্যাল প্রিমিয়ারের আগে তাদের সঙ্গে দেখা হলে সবাই আমাকে জড়িয়ে ধরেন। বিদেশি সাংবাদিকরা আমাকে একের পর এক প্রশ্ন করেছেন। আমি খুব নস্টালজিক হয়ে পড়েছি। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে, অল্প টাকায় এই ফেস্টিভ্যালে দেশ-বিদেশের ভালো সিনেমাগুলো দেখা যায় বলে অনেকবার ছবি দেখতে এসেছি। আমার ছেলেকে নিয়েও ছবি দেখেছি। এবার আমার ছেলেই বলছে, মা আগে অন্যের ছবি দেখতে আসতাম আর আজকে তোমার ছবি দেখতে এসেছি।

অনুভূতি...

সত্যি বলতে আমি এই দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। একটি মেয়ে, এক দিন অভিনেত্রী হবে তা কোনো দিন স্বপ্নেও দেখিনি। কোনো থিয়েটারের অভিজ্ঞতা নেই। শুধু অডিশন দেখে নাসিরউদ্দিন ইউসুফ ও এশা ইউসুফ ‘আলফা’ ছবিতে সুযোগ দিলেন। এরপর এই ছবিগুলোতে শুধু কাজই করে গেছি। দর্শকের সামনে আসছিল না। সাংবাদিকরা খুব সাপোর্ট করেছেন, তাই কাজ না দেখেও দর্শক আমাকে মনে রেখেছে। আমিও নিজেকে বড় পর্দায় ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দেখে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছি। ‘আজব কারখানা’ ছবিটি এই ফেস্টিভ্যালেই প্রথমবার দেখলাম। এমনিতেই নিজেকে পর্দায় দেখতে আমার অস্বস্তি হয়। গা গুলায়, বমি পায়। সারাক্ষণ আশপাশের লোকের দিকে তাকিয়ে থাকি তারা কীভাবে নিচ্ছে আমার অভিনয়। তবে এই প্রথম আমার খুব ভালো লেগেছে নিজেকে দেখে। এখন অভিনয় নিয়ে আরও বেশি সিরিয়াস হয়েছি। এখন মনে হচ্ছে, অভিনয়টা আরও ভালোভাবে করে যেতে চাই, যত দিন সুযোগ পাব। 

নতুন কাজ...

করোনা আমাকে বাজেভাবে প্রভাবিত করেছে। বাবা হারিয়েছি। ছেলেকে ভারতের স্কুলে দিয়েছিলাম। সেটাও দীর্ঘদিন বন্ধ। তাই আর নতুন কাজ হাতে নিতে পারিনি। তা ছাড়া আমি যেহেতু নাটকে কাজ করি না, তাই ভালো মানের নতুন কাজের জন্য অপেক্ষাও করতে হয়। এরই মধ্যে তরুণ প্রজন্মের কয়েকজন পরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তার মধ্যে দু-একটি কাজ অন্তত দ্রুত শুরু করতে পারব। শুধু দেশে নয়, কলকাতা ও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের কাজও হাতছাড়া হয়েছে শুধু করোনার জন্য। অনেক ধৈর্য ধরেছি। এখন মনে হচ্ছে, ধৈর্যেরও তো একটা সীমা আছে!