যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমের অনেক দেশ র‌্যাবকে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে: তথ্যমন্ত্রী|340758|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ জানুয়ারি, ২০২২ ১৭:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমের অনেক দেশ র‌্যাবকে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে: তথ্যমন্ত্রী
চট্টগ্রাম ব্যুরো

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমের অনেক দেশ র‌্যাবকে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

মাদক-সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে দাবি করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, র‌্যাবকে অব্যাহতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমের অনেক দেশ কারিগরি সহায়তা দিয়েছে।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের বরণ ও কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে যারা দেশ-বিদেশ থেকে ষড়যন্ত্র করছে, তারা র‌্যাবের ভূমিকা নিয়ে অনেক কথা বলছে। অথচ এই র‌্যাব বাংলাদেশে মাদক-সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। সেই কারণে আমরা অনেক উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মাদক-সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, যারা আজকে র‌্যাবের ভূমিকা নিয়ে কথা বলছেন, তারা আসলে চান এখানে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্য হোক এবং মাদক আরও ছড়িয়ে পড়ুক। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে এভাবে তারা ঢালাওভাবে কথা বলতে পারেন না।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘র‌্যাবের কোনো সদস্য যদি ভুল করলে তাদের বিচার হয়। যেকেউ ভুল করতে পারে, তাদের বিচার হয়, তদন্ত হয়, শাস্তিও দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘র‌্যাবকে অব্যাহতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমের অনেক দেশ কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। ২০০৪ সালে বেগম খালেদা জিয়াই র‌্যাব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারা যখন সহায়তা দিয়েছে র‌্যাব তো তখন থেকে কাজ করছে, তখন তো এ প্রসঙ্গগুলো আসে নাই। হঠাৎ এখন কেন আসছে, এটার পেছনে নিশ্চয়ই কিন্তু আছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যখন কোনো দেশ এগিয়ে যেতে থাকে তখন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন শক্তি সেই দেশের পা টেনে ধরতে চায়। সেই দেশের পা টেনে ধরার জন্য তখন মানবাধিকারসহ বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে আসে। অথচ তাদের দেশে মানবাধিকারের কোনো খবর নেই।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিখোঁজ হয়, গুলিতে মারা যায়। সেগুলো নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো কখনো বিবৃতি দেয় না।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ক’দিন আগে জাতিসংঘের ইন্ডিপেনডেন্ট হিউম্যান রাইটস এক্সপার্ট যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, গুয়ানতানামো বে-তে যে বন্দি নির্যাতন হচ্ছে, সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, সেই কারাগার বন্ধ করে দেওয়ার জন্য। সেটি নিয়ে তো কোনো মানবাধিকার সংগঠন বিবৃতি দেয়নি।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে বহুবার গণতন্ত্রকে বাক্সবন্দি করা হয়েছে। বাংলাদেশে বারবার সামরিক শাসন জারি করে ক্যাঙারু কোর্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। যেখানে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে মানুষকে বিচার করে ফাঁসি দেওয়া হতো। জিয়াউর রহমানের সময় অনেক সেনা অফিসার ও জওয়ানদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মো. মুজিবুল হক। অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুনের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এএইচএম জিয়াউদ্দিন।