৩ কক্ষ ও ছোট বারান্দায় চলে কার্যক্রম|340814|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
শাহজাদপুর সমাজসেবা অফিস
৩ কক্ষ ও ছোট বারান্দায় চলে কার্যক্রম
শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

৩ কক্ষ ও ছোট বারান্দায় চলে কার্যক্রম

একে অফিস বললে ভুল হবে। তিন কামরার ছোট বৈঠকখানা বলাই ভালো। শাহজাদপুর সমাজসেবা কার্যালয়টি টিনশেডের তিনটি ছোট কক্ষ আর এক চিলতে বারান্দায় চলছে। এর মধ্যেই প্রতিদিন শতাধিক মানুষকে সেবা দিতে হচ্ছে সমাজসেবা অফিসকে।

জানা গেছে, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর এলাকার প্রায় ৪৩ হাজার মানুষকে সমাজসেবা অফিস সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে বেসরকারি এতিমখানা, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন, প্রতিবন্ধী জরিপ কার্যক্রম, ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগীর অনুসন্ধান এবং তাদের অনুদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হচ্ছে এই ক্ষুদ্র পরিসরের অফিস কক্ষে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিনা সুদে ঋণ প্রদানসহ স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুদানের ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজ করছে উপজেলা সমাজসেবা অফিস।

তবে অফিসটিতে সেবা নিতে আসা মানুষদের বসার জায়গা তো দূরের কথা দাঁড়ানোর জায়গা পর্যাপ্ত নেই। ফলে এই অফিসে আগত লোকদের রুমের মধ্যে গাদাগাদি করে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অফিস রুমে জায়গা না হওয়ায় বেশির ভাগ সেবা নিতে আসা নারী পুরুষকে অফিসের বারান্দায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এজন্য সব চেয়ে বেশি বিপদে পড়তে হয় প্রতিবন্ধী নারী, পুরুষ ও শিশু-কিশোরদের।

উপজেলার খুকনী ইউনিয়নের প্রতিবন্ধী আল আমীন (৪০), রূপবাটি ইউনিয়নের বড় বিন্নাদায়ের আবদুস ছাত্তার (৬০), ফজলুক হক ফকিরের স্ত্রী ফরিদা খাতুনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এদের মধ্যে কেউ মানসিক বা কেউ শারীরিক প্রতিবন্ধীর ভাতা ভোগী। কেউ অফিসে ঘুরছেন ভাতার জন্য। আবার কেউ সুদমুক্ত ঋণ নিতে সমাজসেবা অফিস ঘুরছেন। যাদের সঙ্গে কথা হয় এদের সবার বাড়ি উপজেলা সদর থেকে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে। যে সব সুবিধা ভোগীদের বাড়ি পৌর সভার মধ্যে তাদের আসা-যাওয়ার কষ্ট কম হলেও দূর থেকে যারা এ অফিসে সেবা নিতে আসেন তাদের আসা-যাওয়ায় যেমন কষ্ট তেমনি সমাজসেবা অফিসে স্থান সংকুলান না হওয়ায় তাদের অফিসে সেবা নিতে এসে কষ্টের সীমা থাকে না।

সহকারী সমাজসেবা অফিসার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, লোকবল সংকট নিয়ে তাদের কাজ করতে হচ্ছে। এ অফিসে পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় গাদাগাদি করে অফিসের লোকেরা তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার দেবাশীষ কুমার ঘোষ জানান, এ যাবৎ সমাজসেবা অফিস থেকে প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন বাবদ ১১৮ জন প্রতিবন্ধীকে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ১৯০২ জন দরিদ্র ব্যবসায়ীর মধ্যে সুদমুক্ত ১ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা সমাজসেবা অফিস থেকে দেওয়ার কারণে অফিস চলাকালীন সময় অফিসটিতে লোকজনের ভীড় লেগেই থাকে। তিনি আরও জানান, অফিসে স্থান সংকুলান না হওয়ায় করোনাকালীন সময় সামাজিক দূরত্ব মানা তাদের কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।