জোড়াতালির সেতুতে ১০ হাজার মানুষের যাতায়াত|340815|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
জোড়াতালির সেতুতে ১০ হাজার মানুষের যাতায়াত
৬ বছরেও সংস্কারের উদ্যোগ নেই
নীলফামারী সংবাদদাতা

জোড়াতালির সেতুতে ১০ হাজার মানুষের যাতায়াত

সেতুর ৫টি পিলারের ৩টিই দেবে গেছে। মাঝখানটায় ভেঙে গিয়ে এঁকেবেঁকে গেছে। সংযোগ সড়ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশের চাটাই। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চর এলাকায় তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত এ সেতুটি দীর্ঘ ৬ বছর ধরে এভাবেই পড়ে আছে। এত দিনেও সংস্কার কিংবা নতুন করে তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতিনিয়ত ভোগান্তি আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এলাকার ১০ হাজার মানুষ চলাচল করছে এ সেতু দিয়ে।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৬ সালে তিস্তা নদীর চর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি সংস্থা পল্লীশ্রীর অর্থায়নে ১০ লাখ ৭ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটি নির্মাণের সময় বেশ কিছু ত্রুটির কারণে বছর না যেতেই হেলে পড়ে। ভারী বর্ষণ ও তিস্তা নদীর বন্যার স্রোতে সেতুর মাঝখানের পিলারগুলো দেবে যায়। তখন থেকে ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুটি নতুন করে তৈরি বা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে সেতুটির অবস্থা খুবই নড়বড়ে হওয়ার পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এলাকাবাসী চলাচল করছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ৬০ ফিট দীর্ঘ ও ৫ ফিট চওড়া সেতুটির মাঝ বরাবর ভেঙে নিচের দিকে দেবে গেছে। দুই প্রান্তে বাঁশের চাটাই দিয়ে সংযোগ সড়ক তৈরি করেছেন এলাকাবাসী। এই জোড়াতালির সেতু দিয়ে ঝাড়শিঙ্গেশ^র, খগারচর ও পূর্বছাতনাই চরের ১৯টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করছে। এমনকি ভ্যানগাড়ি, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাও চলছে এ সেতু দিয়ে।

পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ঝড়সিঙ্গেশ^র গ্রামের মুসা আলী (৬০) আক্ষেপ করে বলেন, ‘পথঘাট নাই যেখানে, সেখানের খাল-বিল জলাশয়ে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অসংখ্য সেতু তৈরি হয়। কিন্তু যে পথে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে, সেই পথে সেতু নির্মাণ হয় না।’

খগারচর গ্রামের জামাল উদ্দিন (৫৫) বলেন, ‘যখন এই পুল ও রাস্তা বানাইল তখন ভাবিনো হামার সুবিধা হইল, কিন্তু বছর না হইতেই পুল ভাঙ্গি সারা। পুলটা তাড়াতাড়ি ঠিক করলি হামার চলাচলের সুবিধা হয়।’

ভ্যানচালক নাসির মিয়া (৪০) বলেন, ‘ভাঙা পুলে খুবই সমস্যা হয় ভ্যান পার করাইতে, আর তো কোনো রাস্তা নাই। এ জন্যই এদিক দিয়ে কষ্ট করি যাবার লাগে।’

পূর্বছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান বলেন, ‘উপজেলার উন্নয়নমূলক মাসিক সমন্বয় মিটিংয়ে সেতুটি সংস্কারের জন্য অনেকবার বলেছি। নিজের ব্যক্তিগত তহবিল দিয়ে বাঁশের চাটাই করে চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়ে আসছি।’

উপজেলা প্রকৌশলী শফিউর রহমান বলেন, ‘সেতুটি নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠিয়েছি। অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে শিগগিরই সেতুটি নির্মাণের ব্যবস্থা হবে।’