অলিম্পিকের বৃত্তিতে পুরনো একজনও নেই|340830|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
অলিম্পিকের বৃত্তিতে পুরনো একজনও নেই
সুদীপ্ত আনন্দ

অলিম্পিকের বৃত্তিতে পুরনো একজনও নেই

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) ২০২১ সালের টোকিও অলিম্পিকের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের সাতজন ক্রীড়াবিদকে (চার শুটার, দুই আর্চার ও এক সাঁতারু) মাসিক ৫০০ ডলার বৃত্তি দিয়েছে উন্নত প্রশিক্ষণ বাবদ। অথচ আকর্ষণীয় এই বৃত্তির ছাপ সেভাবে পড়েনি তাদের পারফরম্যান্সে। এবার তাই পুরনোদের বাদ দিয়ে সম্ভাবনাময় ছয়জনের নাম বৃত্তির জন্য বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কাছে পাঠিয়েছে ছয় ফেডারেশন। প্যারিস অলিম্পিককে সামনে রেখে এ মাস থেকে শুরু হয়েছে বৃত্তি-অলিম্পিক স্কলারশিপ ফর অ্যাথলেট। আগের মতো এক খেলা থেকে একাধিক নয়। বরং ছয় খেলার ছয় সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদকে দেওয়া হবে এই বৃত্তি। প্রয়োজনে দেশের বাইরে পাঠিয়ে তাদের প্রস্তুত করা হবে প্যারিস অলিম্পিকের জন্য।

আইওসি অ্যাথলেটদের দীর্ঘমেয়াদি বৃত্তির উদ্যোগ প্রথম নিয়েছিল ২০১৬ রিও অলিম্পিকের আগে। বাংলাদেশ থেকে সেবার বৃত্তির আওতায় আনা হয় চারজনকে। বৃত্তির পাশাপাশি বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলেও পারফরম্যান্সে উন্নতির ছাপ ছিল না মাহফিজুর রহমান সাগরদের। আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের শুটারদের পারফরম্যান্স অপেক্ষাকৃত ভালো বলেই টোকিও অলিম্পিকের আগে আইওসি প্রাথমিকভাবে চারজন শুটার আনোয়ার হোসেন, রিসালাতুল ইসলাম, শাকিল আহমেদ খান ও উম্মে জাকিয়া সুলতানা টুম্পাকে বৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া বৃত্তি দেওয়া হয়েছিল দুই আর্চার রোমান সানা, বিউটি রায়কে। এই বৃত্তির অধীনে দীর্ঘসময় ফ্রান্সে প্রশিক্ষণের সুযোগ পান সাঁতারু আরিফুল ইসলাম। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দুই শুটার আনোয়ার হোসেন ও উম্মে জাকিয়া সুলতানা টুম্পাকে বাদ দিয়ে যোগ করা হয় আব্দুল্লাহ হেল বাকি ও সৈয়দা আতকিয়া হাসান দিশাকে। আইওসি থেকে আর্থিক সুবিধা পেলেও আন্তর্জাতিক আসরগুলোতে সেভাবে আলো ছড়াতে ব্যর্থ হন তারা। টোকিও অলিম্পিকে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনকারী রোমান সানা খানিকটা আশা জাগালেও পদকের ধারেকাছে ছিলেন না। অন্যদের অবস্থা ছিল আরও বেহাল। প্যারিসে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া আরিফুল ২০১৯ এসএ গেমসেও হতাশ করেন। এ কারণেই ২০২৪ প্যারিস অলিম্পককে সামনে রেখে বৃত্তির জন্য নাম চাওয়া হলে স্ব স্ব ফেডারেশন নতুনদের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আইওসি’র বেঁধে দেওয়া নিয়মে ছয় খেলা থেকে এবার ছয়জনকে দেওয়া হবে বৃত্তি।

ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত, আরচারি বিশ্বকাপ স্টেজ-২ আসরে মিক্সড ইভেন্টে রুপাজয়ী আরচার দিয়া সিদ্দিকী, তরুণ পিস্তল শুটার আঞ্জিলা আমজাদ অন্তু, হাইজাম্পে জাতীয় রেকর্ডধারী মাহফুজুর রহমান, ২০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে রেকর্ডগড়া সাঁতারু ওমর আলী ও বক্সার রবিন মিয়াকে চূড়ান্ত করা হয়েছে এই বৃত্তির জন্য।

অনেক দিন ধরেই নিজ ওজন শ্রেণিতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করা ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত প্রথমবারের মতো এই বৃত্তির আওতায় এসেছেন। এতে করে দু’বারের এসএ গেমস সোনাজয়ী লিফটারের স্বপ্নটাও অনেক বড় হয়েছে, ‘এই বৃত্তির অধীনে জানতে পেরেছি ফ্রান্সে গিয়ে অনুশীলনের সুযোগ পাব। সেটা যদি হয়, তাহলে নিজের অবস্থানটা আরও ওপরের দিকে নিতে পারব।’ রিও অলিম্পিকের আগে সাঁতারু মাহফিজুর রহমান সাগর ও টোকিওর আগে বিদেশে গিয়ে অনুশীলনের সুযোগ পান আরিফুল ইসলাম। যদিও তাদের পারফরম্যান্সে সেভাবে উন্নতির ছাপ মেলেনি, পটুয়াখালী থেকে উঠে আসা ওমর আলী স্বপ্ন দেখাচ্ছেন ভালো কিছুর। সাঁতারের আন্তর্জাতিক সংস্থা ফিনা ও আইওসি’র সহায়তায় ওমরের প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা রয়েছে থাইল্যান্ডে। ১৮ বছর বয়সী ওমর দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি, ‘উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলে আশা করছি দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনতে পারব। ২০০ মিটার ছাড়াও আমি ৫০ ও ১০০ মিটার করে থাকি। থাইল্যান্ড যেতে পারলে নিজের টাইমিংয়ে উন্নতি করতে পারব। আমার প্রাথমিক লক্ষ্য এসএ গেমসে সোনা জয়।’

স্প্রিন্টার বাদ দিয়ে একজন জাম্পারকে দীর্ঘমেয়াদি বৃত্তির জন্য চূড়ান্ত করার কারণটা জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকীব মন্টু, ‘প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে গেল এসএ গেমসে রেকর্ড গড়েছিল মাহফুজুর রহমান। ওর মতো প্রতিভাকে যদি দেশের বাইরে পাঠিয়ে পরিচর্যা করা যায়, তাহলে এসএ গেমসের মতো আসরে ওর কাছ থেকে স্বর্ণপদকের আশা আমরা করতেই পারি।’

গেলবার চারজন শুটার বৃত্তির সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে পারেনি। তাই এবার পুরনোতে আস্থা না রেখে নতুনে ঝুঁকেছেন বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের মহাসচিব ইন্তেখাবুল হামিদ অপু। আবির্ভাবেই জাতীয় পর্যায়ে সেরা হওয়ার পাশাপাশি স্কোরও অনেক ভালো করছেন আর্মি শুটিং ক্লাবের পিস্তল শুটার আঞ্জিলা আমজাদ। তাকে বৃত্তির জন্য মনোনীত করার কারণ জানালেন অপু, ‘প্রতিভা ও সম্ভাবনা বিবেচনা করেই আসলে এই বৃত্তি দেওয়া হয় আইওসি’র পক্ষ থেকে। এবার তাই আমরা এমন একজনকে বেছে নিয়েছি যার মধ্যে এর সব কিছুই আছে।’

গেলবার দু’জন পেলেও এবার আরচারি থেকে একজনকে দেওয়া হচ্ছে বৃত্তি। তবে দেশসেরা পুরুষ শুটার রোমানকে এই বৃত্তি থেকে এবার বাদ দিয়ে চূড়ান্ত করা হয়েছে বিশ্বকাপের মিক্সড ইভেন্টে তার সঙ্গেই রুপাজয়ী দিয়া সিদ্দিকীকে। বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজিবউদ্দিন আহমেদ চপল বলেন, ‘এবার অলিম্পিক থেকে একজন মেয়ে আরচার চাওয়া হলে আমরা দিয়াকেই নির্বাচন করি। কারণ সে এরমধ্যেই নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছে। তাকে দেশেই জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখের অধীনে রেখে প্রস্তুত করা হবে অলিম্পিকের জন্য।’  ২০১৬ রিও অলিম্পিকে নিজ যোগ্যতায় খেলার সুযোগ পান গলফার সিদ্দিকুর রহমান। টোকিও অলিম্পিকে সেই সুযোগ আদায় করে নেন কেবল রোমান সানা। বাকিদের অলিম্পিক স্বপ্ন পূরণ হয় ওয়াইল্ড কার্ডের বদান্যতায়। পুরনোকে ঝেড়ে ফেলে ফেডারেশনগুলোর নতুনে আস্থা রাখায় প্যারিসে অন্যরকম কিছুর আশা করাই যায়।