বহুমুখী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে জিততে হয়েছে|340858|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
সিপিডির সংলাপে আইভী
বহুমুখী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে জিততে হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক ও নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

বহুমুখী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে জিততে হয়েছে

সদ্য অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে মনে করেন বিজয়ী মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। আওয়ামী লীগের এ প্রার্থী বলেছেন, এ পর্যন্ত যত নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তার সবগুলোতেই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। ফলে বহুমুখী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই তাকে নির্বাচন করে জিততে হয়েছে।

গতকাল শনিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘জনপ্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং অভিজ্ঞতা শীর্ষক’ এক ভার্চুয়াল সংলাপে এসব কথা বলেন মেয়র আইভী।

গত ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ভোটে নৌকা প্রতীকে আইভী ৬৬ হাজার ৯৩১ ভোটের ব্যবধানে মেয়র হিসেবে টানা তৃতীয় জয় পান। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯২টি কেন্দ্রে আইভীর প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার পান ৯২ হাজার ১৬৬ ভোট।

সিপিডির সংলাপে আইভী বলেন, ‘এবারের নির্বাচন খুবই কঠিন ছিল। তিনটি মেয়র নির্বাচন করেছি। তিন নির্বাচনের ফ্লেভার তিন রকম ছিল। কোনো নির্বাচনেই ষড়যন্ত্রের বাইরে ছিলাম না। সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে নির্বাচন করেছি। যদিও আমার দল আওয়ামী লীগ সরকারে ছিল, কিন্তু প্রতিবারই বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হয়ে সাধারণ জনগণকে আস্থায় এনে নির্বাচনে জিততে হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করেও বক্তব্য দেন আইভী। তিনি বলেন, ‘অনেক বাধা এসেছে, এমনকি আমাকে হত্যার প্রচেষ্টাও করা হয়েছে। আমার আস্থা আমার জনগণ। আমার লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ। তাই সারাক্ষণ মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করেছি। আমি কখনো কারও কাছ থেকে বেনিফিট নিইনি।’

এবারের নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন হয়েছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। এই ভোটে আপত্তি জানিয়েছেন পরাজিত প্রার্থী তৈমূর আলম। ইভিএমে ভোট কম পড়েছে বলে জানালেন আইভী। তিনি বলেন, ‘ইভিএমের কারণে ভোট কমেছে, এটা সত্য। এমন নয় যে ভোটাররা ভোট দিতে আসেননি। আমার অসংখ্য ভোটার ফেরত গেছে।’

তৈমূর আলম প্রসঙ্গে আইভী বলেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তৈমূর আলম খন্দকার কাকা, যদিও উনাকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তারপরও উনি যাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন এবং উনি যাদের প্রার্থী ছিলেন, তারা নারায়ণগঞ্জে ভয়াবহ ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করছিল। সেটা কাউন্সিলরদের মাধ্যমেও চেষ্টা করেছে আবার নিজেরাও করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু প্রশাসন সজাগ থাকার কারণে সেটা করতে পারিনি। আমি সেজন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।’

দেশে সিটি করপোরেশনের প্রথম নারী মেয়র বলেন, ‘আমি এবার একটি বিষয় দেখলাম, নারী ভোটারদের তিন-চারতলায় নেওয়া হয়েছে। কী কারণে নেওয়া হলো, আমি জানি না। অনেক ভোটকেন্দ্রে বুথ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে রহস্যজনকভাবে। কেন করা হলো আমি জানি না। আরও কিছু কারণ আছে, যা আমি এখানে বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি না।’

সিটি করপোরেশনের মেয়র ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইভী। তিনি বলেন, ‘আসলে সিটি করপোরেশন চালানো কঠিন। রাজউক (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) আমার নাকের ডগায় অনেক কিছু করছে। দূষণ রোধে আমার কোনো কাজ নেই। শিশুবান্ধব খেলার মাঠ করতে দিচ্ছে না আমাকে। মিডিয়াতে আমাকে ভূমিদস্যু বানানো হয়েছে। অথচ তারা অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড সরাতে দিচ্ছে না। রেল মন্ত্রণালয়, রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে কাজ করছে আমাকে না জানিয়েই। এসব হচ্ছে সমন্বয় না থাকার ফলে। আমার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মিটিং ডাকলে কমিটির সদস্যরা আসেন না। ফলে এই কমিটি নামসর্বস্ব কমিটিতে পরিণত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিটি গভর্ন্যান্স না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকার কখনো শক্তিশালী হবে না।’

সংলাপে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, সিপিডির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান, সংসদ সদস্য আরোমা দত্ত ও রাশেদ খান মেনন, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বদিউল আলম মজুমদার, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন।