খালেদা জিয়ার অবস্থার কোনো উন্নতি নেই|340880|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
খালেদা জিয়ার অবস্থার কোনো উন্নতি নেই
রেজাউল করিম লাবলু

খালেদা জিয়ার অবস্থার কোনো উন্নতি নেই

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৭০ দিন ধরে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘তার বর্তমান অবস্থা আনপ্রেডিকটেবল।’

এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। এখন দায়িত্ব সরকারের। সরকার যদি উদ্যোগ না নেয় এবং খালেদা জিয়ার কিছু হয়ে যায়, তবে তার দায়দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। আর রাজনীতি তো দুই-এক বছরের জন্য নয়। আগামীতে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে হবে। বিএনপিও রাজনীতিতে থাকবে। জনগণ সব দেখছে। এর বিচার জনগণ করবে।’

খালেদা জিয়ার মেজো বোন সেলিমা ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা আমাদের সাধ্যমতো উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু সরকার অনুমতি দিচ্ছে না। এখন আল্লাহর দিকে তাকিয়ে আছি আমরা।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকার করোনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। আমরা বেশিদিন অপেক্ষা করব না। চেয়ারপারসনের মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে শিগগিরই আমরা আন্দোলন শুরু করব।’  

খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ডা. জাহিদ বলেন, ‘চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। তার বর্তমান অবস্থা আনপ্রেডিকটেবল। যেকোনো সময়ে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তার রক্তপাত এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। থেমে থেমে এখনো রক্তপাত হচ্ছে। এটি নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতাল গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। দেশে যতটুকু সুযোগ আছে তা তাকে দেওয়া হয়েছে। এখন তাকে সুস্থ করতে হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে হবে। হাসপাতাল গঠিত মেডিকেল বোর্ড ইতিপূর্বে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে সুপারিশ করেছে। কিন্তু সরকার চেয়ারপারসনকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দিচ্ছে না।’   

ডা. জাহিদ বলেন, ‘৯ জানুয়ারি রাতে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) থেকে কেবিনে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে কেউ কেউ বলছেন তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় সিসিইউ থেকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে; আসলে তা নয়। করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তারের কারণে ঝুঁকি এড়াতে তাকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে। সিসিইউর সব সুবিধা কেবিনে রয়েছে।’

এদিকে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে উন্মুক্ত স্থানে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী জানতে চাইলে ড. খন্দকার মোশাররফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি নেই। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে পরিবারের আবেদন সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে। এ অবস্থায় আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই আমাদের সামনে। আমরা চেয়ারপারসনের মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে জেলা পর্যায়ে সমাবেশ শুরু করেছিলাম। কিন্তু সরকার করোনার অজুহাত দেখিয়ে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। এখন এ রাস্তাটাও বন্ধ হয়ে পড়ল। আমরা করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। করোনার প্রকোপ কমলে আমরা আবার আন্দোলনে যাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। সরকার বলছে আইনে সুযোগ নেই। আমাদের আইনজীবীরা দেখিয়ে দিয়েছেন আইনেই সুযোগ আছে। এখন বাকি দায়িত্ব সরকারের। সরকার অনুমতি না দিলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে সব দায়ভার বহন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হীন রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে দিচ্ছেন না। এটা এখন দেশের জনগণ বুঝতে পারছে।’ 

খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তার মেজো বোন বেগম সেলিমা ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এত দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পরও খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি নেই। তাকে সুস্থ করতে হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে হবে। তাহলে যদি একটু ভালো থাকতে পারত। কিন্তু আমরা সরকারের কাছে আবেদন করার পরও সরকার অনুমতি দেয়নি। এখন আবার করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় খালেদাকে নিয়ে আমরা চিন্তিত। উন্নত চিকিৎসা দিতে না পারলে অনাকাক্সিক্ষত কিছু ঘটে যেতে পারে; যা আমাদের কারও প্রত্যাশিত নয়। এখন একমাত্র আল্লাহর দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কিছুই করার নেই।’  

গত বছরের ১৩ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ম্যাডামের কিছু শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। এ জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’

এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের অধীনে চিকিৎসাধীন আছেন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে ২৫ অক্টোবর তার ছোট একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর তার বায়োপসি পরীক্ষা করা হয়। খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান। করোনা মহামারীর প্রেক্ষাপটে  ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। এ পর্যন্ত তিন দফায় খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে বিএনপির নেতারা খালেদা জিয়ার শর্তসাপেক্ষে এ মুক্তিকে ‘গৃহবন্দি’ বলছেন।