বেসরকারি শিক্ষকদের ১৮০ কার্যদিবসের বেশি বরখাস্ত নয়|341161|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ২২:০৯
পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
বেসরকারি শিক্ষকদের ১৮০ কার্যদিবসের বেশি বরখাস্ত নয়
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসরকারি শিক্ষকদের ১৮০ কার্যদিবসের বেশি বরখাস্ত নয়

নিবন্ধিত বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার কোনো শিক্ষককে ১৮০ কার্যদিবসের বেশি সময় সাময়িক বরখাস্ত করে রাখা যাবে না- হাইকোর্টের দেওয়া এমন রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

রায়ের ১৫ পৃষ্ঠার অনুলিপি সোমবার প্রকাশিত হয়। রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি। তাতে একমত পোষণ করেন বেঞ্চের অপর বিচারপতি।

অতিরিক্ত বেতন নেয়ার অভিযোগে মাগুরা উপজেলা সদরের বাহারবাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. বাদশা মিয়াকে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট সামরিক বরখাস্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে দীর্ঘ সময়েও অভিযোগের সুরাহা না হওয়ায় ২০১৭ সালে বরখাস্তের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দারস্থ হন বাদশা মিয়া।

তার করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১৪ ডিসেম্বর বেসরকারি শিক্ষকদের সাময়িক বরখাস্তের সময়সীমা নির্ধারণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- এ মর্মে রুল দেয় হাইকোর্ট।

রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় আসে।

আদালতে বাদশা মিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। 

রায়ের বরাতে আইনজীবী হুমায়ুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রিট আবেদনকারী বাদশা মিয়াকে সাময়িক বরখাস্তের যে আদেশ সেটি প্রত্যাহার করে তাকে ৯০ দিনের মধ্যে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। তার বকেয়া বেতন-ভাতাও পরিশোধ করতে বলেছেন আদালত।’

তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতের এ রায়ের ফলে এখন থেকে কোনো শিক্ষককে ১৮০ কার্যদিবসের বেশি সাময়িক বরখাস্ত করে রাখা হলে তা সেটি অবৈধ ও বাতিল বলে গণ্য হবে। এ ছাড়া কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করলে ১৮০ দিনের মধ্যে প্রসিডিং শেষ করতে হবে। অন্যথায় বরখাস্তের সিদ্ধান্তটি বাতিল হয়ে যাবে।’

এ আইনজীবী জানান, হাইকোর্টের রায়ের এ নির্দেশনাটি ১৯৭৯ সালের বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরি বিধিমালাতে অন্তর্ভুক্ত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’