বাস সংকট নিয়েই চলছে ‘ঢাকা নগর পরিবহন’|341208|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ২৩:৫০
বাস সংকট নিয়েই চলছে ‘ঢাকা নগর পরিবহন’
সানমুন আহমেদ

বাস সংকট নিয়েই চলছে ‘ঢাকা নগর পরিবহন’

রাজধানীতে গণপরিবহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে বাসরুট রেশনালাইজেশন কমিটির পরীক্ষামূলক প্রকল্প ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ যে উদেশ্য নিয়ে চালু করেছিলো তা বাস সংকটে ব্যহত হচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর জন্য বাসগুলো চললেও নিত্য নতুন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।

জানা গেছে, গত বছরের ২৬ শে ডিসেম্বর থেকে ঢাকার ঘাটারচর-কাঁচপুর ব্রিজ রুটে এই পরিবহন চলাচল শুরু করে। এখনো যাত্রী সেবায় মাত্র ৫০ টি নামানো সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে বিআরটিসির ডাবল ডেকার ৩০ টি আর ট্রান্সসিলভারের ২০টি বাস রয়েছে। চিটাগাং রোড থেকে বসিলা পর‌্যন্ত ১৮ টি টিকিট কাউন্টার থেকে যাত্রী তোলা হচ্ছে। পরিবহনটিতে শিক্ষার্থী ছাড়া রুটের সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৫৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে দুই টাকা ১৫ পয়সা। তবে কেউ যদি এক স্টেশন থেকে ঠিক পরের স্টেশনেই নামেন তবে ১০ টাকা ভাড়া দিতে হবে।

সরেজমিন সোমবার এই রুটের বিভিন্ন টিকিট কাউন্টারে গেলে দেখা যায়, অনান্য বাসে যে রকম গাদাগাদি করে যাত্রী উঠানো হয়, এই বাসের চিত্র পুরোটাই ভিন্ন। লাইন ধরেই যাত্রীদের ওঠানো হয় টিকিট কাউন্টার থেকে। তবে বাস কম হওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। যার জন্য একই রোডের অন্যান্য বাসে অনেক সংখ্যাক যাত্রী থাকলেও নতুন এই পরিবহনে তেমন যাত্রী নেই।

আব্দুল কাইয়ুম নামের এক ব্যবসায়ী প্রতিদিন চলাচল করে ঢাকা নগর পরিবহন বাসগুলোতে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সবাই চায় একটু শান্তিতে চলাচল করতে। এই পরিবহনে প্রথম থেকেই খুব ভালোভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তাদের টিকিট কাউন্টার পাওয়া যায় না। আগে ধানমন্ডী ১৫ নাম্বারের টিকিট কাউন্টার থাকলেও এখন কিন্তু সেখানে তাদের টিকিট কাউন্টার নেই। যার জন্য এই এলাকার বাসিন্দারা এই নগর পরিবহন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রণব কর্মকার নামের এক যাত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মোহাম্মদপুর থেকে প্রেসক্লাবে যাওয়ার জন্য টিকিটি কাটতে চাইলাম। তারা কেটে দিলো মতিঝিল পর্যন্ত। আর রাত ৮টার পর এই রোডের বাস পাওয়া যায় না। তাহলে যারা অফিস শেষ করে বাসায় ফিরবে তারা কি ভাবে যাবে এই বাসগুলোতে। এই বিষয়গুলো একটু দেখা প্রয়োজন কর্তৃপক্ষের। তাছাড়া, বাসের সংখ্যা খুবই কম। যার জন্য অনেক সময় ঘণ্টা পার হয়ে যায় কিন্তু বাস দেখা যায় না। আরও ভালো মানের বাস প্রয়োজন এই রোডের সেবায়।

 

শাহবাগ কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা ওসামা আব্দুল্লাহ জানান, ‘এই রোডে অন্যান্য গাড়ী গুলো আমাদের কাউন্টারের সামনে জটলা করে রাখে। আমাদের গাড়ী গুলো যেন ঠিকভাবে স্ট্যান্ডে আসতে না পারে সেজন্য তারা বাধা সৃষ্টি করে রাখে। যার জন্য এই বাসে চলাচলকারী যাত্রীদের ওঠানামায় অনেক সমস্যা হয় বলে জানান এই টিকিট বিক্রেতা।

ঢাকা নগর পরিবহনের মো. রাকিব নামের এক হেলপার জানান, নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া আমাদের যাত্রী নামানো হয় না। কিন্তু অনেক সময় যেখানে সেখানে যাত্রীরা নামতে চায়। এতে করে যাত্রীদের সাথে আমাদের প্রতিনিয়ত ঝামেলা লেগেই থাকে। এই বিষয়গুলো বোঝা দরকার যাত্রীদের বলে জানান এই হেলপার।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা নগর পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন বলেন, ‘অনেক পরিবহন মালিক আছে তারা চায় না এই ঢাকা নগর পরিবহন চলাচল করুক এই রোডে। তারা বিভিন্ন ভাবে সমস্যা সৃষ্টি করে। তারপর আবার পরিবহনের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এমন চলতে থাকলে যাত্রীরাও আগ্রহ হারাবে এই পরিবহনে চলাচল করতে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নতুন এই সেবায় শুধু বাসের রং পরিবর্তন হয়েছে, মান কিন্তু তেমনটা বাড়েনি। তাই আরও ভালো মানের বাস প্রয়োজন ছিল এই রোডে। তবে মাত্র ৫০ টি বাস দিয়ে চলাচল করায় বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয় যাত্রীদের।

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু একটি মাত্র এই রোডে নতুন এই পরিবহন সেবা দিলে সব রোডের যাত্রীরা কিন্তু সেবা পাবে না। তাই সামনে শহরের বাকি রোড গুলোতেও এই সেবার দাবি জানান তিনি।’