‘তালেবানি কালচারে’ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করেছেন উপাচার্য ফরিদ|341391|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ২৩:৩৬
‘তালেবানি কালচারে’ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করেছেন উপাচার্য ফরিদ
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

‘তালেবানি কালচারে’ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করেছেন উপাচার্য ফরিদ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে অনশনকারী শিক্ষার্থীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন ভাঙবেন না বলে জানিয়েছেন। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘তালেবানি কালচারে’ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

এ ছাড়া গত ১৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর উপাচার্যের নির্দেশেই পুলিশি হামলা, গুলি ও শব্দ বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালালেও আন্দোলনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ চার বছরের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার রাত ৯টায় উপাচার্যের বাসভবনের সামেন প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব জানান ১৫০ ঘণ্টা ধরে অনশনকারী তিন শিক্ষার্থী।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন অনশনকারী শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদীন, জাহেদুল ইসলাম, সাবরিনা মমতা।

অনশনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ গত চার বছর তার মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের বিভিন্ন ফিরিস্তি তুলে ধরছেন। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পর এক ধরনের ওপেন কালচারে অভ্যস্ত হলেও ফরিদ উদ্দিন দায়িত্ব নেয়ার পর তালেবানি কালচারে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করার পর বিভিন্ন তালেবানি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়কে আলপনা আঁকা নিষিদ্ধ করেছিলেন। তবে কেনো সেটি করা হয়েছিল সেটি শিক্ষার্থীদের মাথায় ঢোকেনি। পরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে সড়কে আলপনা আঁকার দাবি আদায় করেছিলাম।

তারা আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সবাই প্রাপ্তবয়স্ক। কে, কখন হলে ঢুকবে বের হবে তা প্রশাসন নির্ধারণ করে দিতে পারে না। প্রশাসন নারী শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যা ৭টায় মধ্যে হল থেকে বের না হওয়ার কড়াকড়ি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যদি সন্ধ্যা ৭টার পর কোনো মেয়ে হলে ঢুকতে বা বের হতে চাইতো, তখন তাদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করা হতো। আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করাই।

তাদের আরো দাবি, এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে মুক্ত চিন্তার জায়গা সেখানে শিক্ষার্থীদের ১৮-১৯ দিন ধরে লাইব্রেরি বন্ধের সময় বাড়ানোর জন্য আন্দোলন করতে হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অনশরত শিক্ষার্থীরা আন্দোলন কর্মসূচিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার বিষয়ে বলেন, দেশের কোন আইনে অনুজদের কর্মসূচিতে ‘ডোনেশন’ দেওয়া অপরাধ কিংবা বেআইনি সেটি আমাদের জানা নেই। সাবেক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আটক কিংবা গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিষয়টি আমাদের জানা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তারের ব্যাপারে নিন্দা জানান তারা। এ সময় অবিলম্বে নিঃর্শত মুক্তির দাবি জানান তারা।

এ ছাড়া ওপরের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ডাইনিং বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অনশনরত শিক্ষার্থীরা আরো জানান, গত দেড় বছরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষর্থীদের খাবারের সবগুলো টং তুলে দিয়েছেন এই উপাচার্য। সাম্প্রতিক আমরা প্রায় আড়াই হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহ করে উপাচার্যকে দিয়েছিলাম টং যাতে পুনরায় স্থাপন করে। তবে আমরা যখন এসব দাবি নিয়ে তার কাছে গিয়েছিলাম তিনি তখন আমাদের দাবির প্রতি কোনো গুরুত্ব দেয়নি। আমাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নিম্নধ্যবিত্ত পরিবারের, টংগুলোতে তারা খুব অল্প দামে খাবার খেতেন।

তারা আরো জানান, প্রয়োজন না থাকা সত্বেও শিক্ষকদের জন্য গত কয়েক বছরে বেশ কিছু শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বাস কেনা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো বাস কেনা হয়নি। আমাদের বিশালসংখ্যক শিক্ষর্থীকে বাসে বাদুড় ঝোলা হয়ে যাতায়াত করতে হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অনশনকারীরা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, অনশনের সপ্তম দিনে এসে চিকিৎসা সহায়তা বন্ধ হওয়ার বিষয়টি আমরা কোনোভাবেই আশা করিনি। এটি অমানবিকতার কত বড় দৃষ্টান্ত সেটি সকলকে ভেবে দেখার আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থীরা বলেন, যে উপাচার্য নিজেদের শিক্ষার্থীদের মাঝে নিরাপদ মনে করেন না, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়ার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।

এসব অভিযোগে তার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।