ফুটপাতে দোকান, সড়কে পরিবহন স্ট্যান্ড|341401|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
ফুটপাতে দোকান, সড়কে পরিবহন স্ট্যান্ড
সাইফুল ইসলাম, সীতাকুন্ড (চট্টগ্রাম)

ফুটপাতে দোকান, সড়কে পরিবহন স্ট্যান্ড

পুরনো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুন্ড পৌর সদরের বেশিরভাগ অংশ এখন দোকানি ও বিভিন্ন পরিবহনের স্ট্যান্ডের দখলে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারগামী শত শত যানবাহন একসময় দাপিয়ে চলত যে মহাসড়ক দিয়ে, সেটি এখন সংকুচিত হয়ে গলির পর্যায়ে চলে এসেছে। এমনকি মহাসড়কটির বেশিরভাগ অংশে সকাল থেকে রাত ৮-৯টা পর্যন্ত হেঁটে চলাচল করারও উপায় থাকে না।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৬ সালে নতুন মহাসড়ক চালু হওয়ার পর থেকে পুরনো এই সড়কে বড় গাড়ির চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আর এই সুযোগে সরকারি জায়গা দখল করে নিয়েছে সড়কের আশপাশের দোকানিরা। কোথাওবা তৈরি করা হয়েছে পরিবহনের স্ট্যান্ড। মহাসড়কের দুপাশ দখলকারীদের বেশিরভাগ ভাসমান দোকানি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যবসার জন্য ফুটপাত দখল করে সীতাকু- উপজেলা গেট থেকে শুরু করে রাখা হয়েছে বালুর স্তূপ। সড়কের পাশ দখল করে চলছে লোহার গ্রিল, দরজা-জানালা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরির কাজ। পুরো ফুটপাত ও সড়কের অনেকাংশজুড়ে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে বাঁশ।

পৌর সদরের মূল বাজারের অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক দেখা গেছে। এখানকার শপিং সেন্টার, সমবায় সমিতি মার্কেট, বিআর টাওয়ার, আনোয়ার প্লাজা, আফরোজা প্লাজাসহ কয়েকটি মার্কেটের সামনের সরকারি খাস খতিয়ানের ভূমি ও সড়কের কিছু অংশ দখল করে মোটা অঙ্কের সালামি নিয়ে ভাসমান ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিয়ে রাখা হয়েছে। এসব মার্কেটের মালিকরাই নিচ্ছেন ভাড়ার টাকা। ফুটপাতে দোকান থাকায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। আর পার্কিংয়ের জায়গা না পেয়ে সড়কের ওপরই রাখা হচ্ছে মোটরসাইকেল, ভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন পরিবহন। এতে সড়কের মাঝামাঝি দিয়ে যানবাহনের সঙ্গে ঠেলাঠেলি করে হাঁটার চেষ্টা করছেন হাজারো মানুষ। যার কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

২০১৭ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) এই স্থান থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ করে ‘সরকারি জায়গা’ লিখে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন। কিন্তু ইউএনও এবং এসি ল্যান্ড এখান থেকে বদলি হয়ে যাওয়ার পর আবারও দোকানিরা দখলে নিয়ে নেন ওই জায়গা। আর আগের দখলদারদের সঙ্গে পরে যোগ দেন মার্কেটের মালিকরাও। প্রত্যেকে নিজের মার্কেটের সামনের অংশ দোকানদারদের কাছে ভাড়া দিয়েছেন। আর এতে ফলসহ বিভিন্ন দোকানদাররা আগের চেয়ে আরও বড় পরিসরে ‘ব্যবসা’ সাজিয়ে বসেছেন। অধিকাংশ সময় দোকান ছাড়িয়ে সড়কের ওপর ফলের ঝুড়ি নিয়ে বসেন বিক্রেতারা।

তবে সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের আশ্বাস দিয়ে বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম বলেন, সরকারি ভূমি উদ্ধার করতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।