রাজশাহীতে করোনা পরীক্ষা ল্যাবে জট|341439|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
রাজশাহীতে করোনা পরীক্ষা ল্যাবে জট
আহসান হাবীব অপু, রাজশাহী

রাজশাহীতে করোনা পরীক্ষা ল্যাবে জট

রাজশাহীতে সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বেড়েছে করোনার টেস্টও। তবে এখন প্রতিদিন এত বেশি নমুনা আসছে যে তা এক দিনে এখানকার ল্যাবগুলোতে পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিনই জমছে নমুনা। এর ফলে ফল পেতে বিলম্ব হচ্ছে ২৪ থেকে ২৮ ঘণ্টা। এই সময়ের মধ্যে আক্রান্তরা আইসোলেশনে না যাওয়ায় তারাও বাড়াচ্ছে সংক্রমণের ঝুঁকি।

রাজশাহীর সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসের ২১ দিনে জেলায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৪ হাজার ২৪২ জনের। এতে করোনা শনাক্ত হয় ৯৪৭ জনের। গড় সংক্রমণের হার ২২ দশমিক ৩২।গত সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট ১৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয় ৯৯ জনের। অন্যদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে এদিন ৪৬৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ২১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী জেলার নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৩৬৮ জনের। এতে করোনা শনাক্ত হয় ২০৫ জনের।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাস থেকে মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবটিতে চাপ বেড়ে গেছে। এখানে এক শিফটে সর্বোচ্চ ৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করা যায়। কিন্তু নমুনার চাপ বেড়ে যাওয়ায় এখন ৫ শিফট পর্যন্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে। গত সোমবার ৫ শিফটে ৫২৩টি পরীক্ষা করার পরও ৩০৫টি নমুনা পরীক্ষা বাদ থেকে যায়।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) পিসিআর ল্যাব এবং ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান ডা. সাবেরা গুলনাহার জানান, গত ২-৩ দিন ধরেই সক্ষমতার অতিরিক্ত নমুনা জমা হচ্ছে। ৫ শিফটে কাজ করার পরও প্রায় ৩০০ নমুনা রেখে দিতে হচ্ছে পরের দিনের জন্য।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেন, মেডিকেল কলেজের ল্যাবে রাজশাহী ছাড়াও নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং জয়পুরহাটের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। আগে এখানে জট ছিল না। গত তিন দিন থেকে জট থাকছে।

এদিকে শনাক্ত যে হারে বাড়ছে রামেক হাসপাতালে সেই হারে বাড়েনি রোগীর সংখ্যা। ১০৪ শয্যার রামেক করোনা ইউনিটে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিলেন ৪৩ জন। এক দিন আগেও এই সংখ্যা ছিল ৫১। ২৪ ঘণ্টায় এখানে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৪ জন। আর এই সময়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩ জন।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, পরীক্ষা করলেই বেশিরভাগ করোনা পজিটিভ হচ্ছে। তবে আশার কথা হচ্ছে রোগী আক্রান্ত বেশি হলেও হাসপাতালে রোগী বাড়েনি। আক্রান্ত হচ্ছে কিন্তু হাসপাতালে আসা লাগছে কম। তবে হঠাৎ করে রোগী বেড়ে গেলে সামাল দেওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি রাখা আছে।