হাসপাতালে ভর্তিদের ৮৫ শতাংশ টিকা নেননি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী|341455|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
হাসপাতালে ভর্তিদের ৮৫ শতাংশ টিকা নেননি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাসপাতালে ভর্তিদের ৮৫ শতাংশ টিকা নেননি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রভাবে দেশে আক্রান্তদের ৮৫ শতাংশ রোগী টিকা নেননি বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, ‘আমরা হিসাব করে দেখেছি, আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসাদের ৮৫ শতাংশ টিকা নেননি। যারা মারা গেছেন, তাদেরও বেশিরভাগ টিকা নেননি।’

গতকাল মঙ্গলবার ওমিক্রনের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসরকারি হাসপাতালের প্রস্তুতি বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত দেশের ১৪ কোটির মতো মানুষকে করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য পূরণে আরও ৩ কোটি মানুষকে টিকা দিতে হবে। এই ৩ কোটি মানুষের মধ্যে বেশিরভাগই পরিবহন, শিল্প-কারখানা, দোকান-পাটে কর্মরত। দ্রুত তাদের টিকার আওতায় আনা গেলে ওমিক্রনের প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হবে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘দেশে সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ১ থেকে শনাক্ত হার ৩২ শতাংশে পৌঁছেছে। আমাদের অতি আত্মবিশ্বাস ও অসচেতনতায় এমন হয়েছে। বিশ্বে ওমিক্রন যেভাবে ছড়িয়েছে, আমাদের দেশেও জিনোম সিকোয়েন্সিং করে দেখা যাচ্ছে, ৭০-৮০ শতাংশই ওমিক্রনে আক্রান্ত।’

তিনি বলেন, ‘সংক্রমণ হার ১ শতাংশের নিচে আসার পর মানুষ মনে করেছিল করোনা চলে গেছে। এরপরই সবাই ব্যাপক হারে চলাফেরা শুরু করে। মাস্ক না পরেই পর্যটনসহ বিভিন্ন স্থানে গেছে। এখন বাণিজ্যমেলা চলছে, সেখানেও খুব কম লোকের মুখে মাস্ক দেখা যাচ্ছে। এটি খুব হতাশার। মাস্ক ছাড়া বেপরোয়া চলাফেরা ও ওমিক্রনের কারণে সংক্রমণ বেড়ে গেছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ওমিক্রনে আক্রান্ত হলে এর লক্ষণ ও উপসর্গ মৃদু থেকে মাঝারি দেখা যাচ্ছে। তবে এ ধরনটি দ্রুত ছড়াচ্ছে বলে মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। করোনা চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালকেও সংক্রমণ ঠেকাতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোর ২৫ শতাংশ শয্যা রোগীতে ভরে গেছে। এভাবে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে শয্যার চাহিদাও বাড়বে। আশা করছি, আগের মতোই বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক মালিকরা আমাদের সহায়তায় এগিয়ে আসবেন।’

বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুবিন খানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আনোয়ার হোসেন খান, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব সাইফুল ইসলাম বাদল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশিদ আলম, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাজমুল হাসান, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এনায়েত হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. আহমেদুল কবীর প্রমুখ বক্তব্য দেন।