র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইইউকে চিঠি|341466|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইইউকে চিঠি
রূপান্তর ডেস্ক

র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইইউকে চিঠি

বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- ও গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় এবার র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে চিঠি লিখেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভান স্টেফানেক। গত ২০ জানুয়ারি সেøাভাকিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই সদস্য বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এই চিঠি লিখেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিমালাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেপ বোরেলের কাছে। ওই চিঠিতে তিনি র‌্যাবকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

তিন পৃষ্ঠার ওই চিঠির শুরুতেই ইভান স্টেফানেক বাংলাদেশের ‘অস্থিতিশীল পরিস্থিতি’ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ হরহামেশাই অমানবিক আচরণ করছে। এ বিষয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে তিনি লিখেছেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অমানবিক আচরণের মধ্যে নির্বাচনের ফল পরিবর্তন ও রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনও রয়েছে, যা আপনার নজরে আনতে চাই।’

ইইউর জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই সদস্য লিখেছেন, এই মুহূর্তে পরিস্থিতি খুবই গুরুতর। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‌্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বিশেষ করে টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হককে ২০১৮ সালের মে মাসে হত্যাসহ গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি বিচারবহির্ভূত হত্যার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ম্যাগনিটাইনেজ বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচির আওতায় তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গত কয়েক বছর বারবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং আমেরিকার সিনেটের বিভিন্ন কমিটি র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়ে আসছিল।  

উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাব এবং সংস্থাটির সাবেক ও বর্তমান সাত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং রাজস্ব বিভাগ আলাদাভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপের এক মাস আগে, অর্থাৎ গত বছরের নভেম্বরে র‌্যাবকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলকে চিঠি লিখে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক ১২টি মানবাধিকার সংস্থা। তাদের চিঠির বিষয়টি ২০ জানুয়ারি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

ইভান স্টেফানেক তার চিঠিতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরায় প্রচারিত ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার মেন’ প্রতিবেদনের প্রসঙ্গও টানেন।

চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে গুম হওয়া নাগরিকদের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। নাগরিকদের একটি অংশ এই সংখ্যা নির্ধারণ করেছে। দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা হচ্ছে, গুম হওয়া লোকজনের অনেককে পরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ নিয়ে জাতিসংঘ একটি তদন্ত করেছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয়টি উল্লেখ করে ইভান লিখেছেন, এর আগে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ এবং ইইউ বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সমালোচনা করে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও অনলাইনে ভিন্নমত প্রকাশ দমন এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ঘটছে। তিনি লিখেছেন, ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটসের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশ ও র‌্যাবের মাধ্যমে মানবাধিকার ব্যাপক লঙ্ঘিত হয়েছে। ২০১৮-২১ সাল পর্যন্ত ১ হাজার ১৩৪টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। জোসেপ বোরেলের কাছে লেখা ওই চিঠিতে ইভানে বলেছেন, ‘এসব তথ্যের ভিত্তিতে আমি আপনাকে র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আপনার ক্ষমতা প্রয়োগের অনুরোধ জানাচ্ছি।’