উইল স্মিথের চড় সাজানো নাকি আসল!|352703|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ মার্চ, ২০২২ ২০:২৫
উইল স্মিথের চড় সাজানো নাকি আসল!
উপল বড়ুয়া

উইল স্মিথের চড় সাজানো নাকি আসল!

১৯২৯ সাল থেকে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন শাখায় একাডেমি অ্যাওয়ার্ড বা অস্কার দিয়ে আসছে একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস। রূপালি পর্দার এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে ঘটেছে কিনা সন্দেহ।

৯৪তম অস্কার স্মরণীয় হয়ে থাকবে বিখ্যাত অভিনেতা উইল স্মিথের এক চড়ের জন্য। সিনেমাপ্রেমীদের কাছে তো বটে; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সবার এখন একই আলোচনা— স্মিথের চড়টা সাজানো নাকি আসল?

এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে, চলুন ঘুরে আসা যাক ঘটনাস্থল থেকে। ১৯৯৭ সালের মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘জি.আই.জেন’ -এ নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেন স্মিথের স্ত্রী জাডা পিঙ্কেট। ছবিতে তার মাথায় চুল কম থাকা নিয়ে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।

সেই পুরোনো বিষয়টি নিয়ে আবারও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন পিঙ্কেট। চুল কম থাকায় এবারের একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে তাকে নিয়ে ‘রসিকতা’ করেন উপস্থাপক ক্রিস রক। জাডাকে ‘জি.আই.জেন-২’-এর নায়িকার ভূমিকায় দেখার বাসনার ইঙ্গিত করেন তিনি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মঞ্চে এসে ক্রিসকে থাপ্পড় মারেন স্মিথ।

জাডা পিঙ্কেট ‘অ্যালোপেসিয়া’ নামে একটি রোগে আক্রান্ত। এই রোগের শিকার হলে মাথার চুল পড়ে যায়। এই আমেরিকান অভিনেত্রী ক্ষেত্রেও এমনটাই হয়েছে। কিন্তু স্ত্রীর অসুস্থতা নিয়ে অস্কারের মঞ্চে সঞ্চালক ক্রিসের রসিকতা শোনে মেজাজ হারান স্মিথ।

নাটক অবশ্য তখনো বাকি। অস্কারের অনুষ্ঠানে এমন নজিরবিহীন ঘটনার পরে ‘কিং রিচার্ড’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার জেতেন স্মিথ। তবে সব ছাপিয়ে এখন আলোচনার বিষয়, সবার সামনে ক্রিসকে চড় মারা কি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল স্মিথের? তা নিয়েই চলছে আলোচনা-সমালোচনা। 

অনেক নেটিজেন মনে করেন, স্মিথ সঠিক কাজটিই করেছেন। সঠিক পন্থায় তিনি নারী ও স্ত্রীর প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন। সেক্ষেত্রে তাদের বক্তব্য, ‘সঙ্গীকে অপমানের হাত থেকে বাঁচাতে আমি হলেও এমন উচিত জবাব দিতাম।’ 

তবে অনেকে মনে করেন, স্মিথ চাইলে ক্রিসকে থাপ্পড় না মেরে মৌখিকভাবে বিষয়টা বুঝিয়ে দিতে পারতেন। চড় দেওয়াকে ‘ভায়োলেন্স’ ও ‘বডি শেমিং’ হিসেবে দেখছেন অনেক।  

এই ঘটনাকে অনেকে আবার ‘সাজানো’ হিসেবে মনে করছেন। অর্থাৎ, অস্কারের মঞ্চেও অভিনয়! এমনিতে আমাদের ‘রিয়েলিটি শো’-গুলোতে অভিনয় যে থাকে না, তা নয়। যদি অভিনয়-ই হয়, তবে প্রশ্ন হলো— কেন? এক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে সামনে আনা যায়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর প্রতি দীর্ঘদিনের যে সহিংসতা তার প্রতি সংহতি জানানোর কাজটা করেছেন স্মিথ। সঞ্চালকের উদ্দেশ্যপূর্ণ কৌতুকে বিব্রতকর অবস্থায় দেখা যায় পিঙ্কেটকে। স্ত্রীর সম্মান রক্ষার্থে পৌরুষ প্রদর্শনমূলক প্রতিবাদ হিসেবে চড় দেওয়াকে বেছে নেন স্মিথ।

দুই হিসেবে যে পয়েন্টটা দাঁড় করা যায়— ‘অ্যালোপেসিয়া’ রোগ সম্পর্কে আমরা তেমন জানি না বললেই চলে। টাক মাথার পুরুষদের দেখতে আমরা অভ্যস্ত। তবে কোনো চুলবিহীন নারীর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এখনো ‘সেকেলে’। ক্রিসও হয়তো তেমনভাবে দেখেছেন। এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা ও চুলহীন নারীদের যাতে ভিন্ন চোখে না দেখা হয় সমাজে, তারই একটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করার চিন্তা থাকতে পারে এই চড় ঘটনায়।

তৃতীয় পয়েন্ট হিসেবে বলা যায়, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এসে হলে বসে সিনেমা দেখাকে এখন ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। আগে যেভাবে মাতামাতি হতো অস্কারের সিনেমা নিয়ে, গত কয়েক বছর ধরে তাতে কিছুটা যে ভাটা পড়েছে তাতে সন্দেহ নেই। সেক্ষেত্রে ফের হলকেন্দ্রিক সিনেমার আগ্রহ জাগানোর উপায় হিসেবেও এই ‘চড় নাটক’ হতে পারে বলে মনে যায়।

চড় খাওয়ার পর ক্রিস রকের মুখ থেকে সঙ্গে সঙ্গেই বেরিয়ে আসে, ‘ওয়াও’। স্মিথের প্রতি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি তিনি। অনুষ্ঠানের পরের অংশটুকু চালিয়ে গেছেন এই আমেরিকান কমেডিয়ান। তার জন্য প্রশংসা প্রাপ্য তার। জানা গেছে, পরে এ ঘটনার জন্য ক্রিসের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন স্মিথ। ক্রিসও কোনো অভিযোগ আনেননি অস্কারজয়ী অভিনেতার প্রতি।

তবে অধিকাংশের দাবি, এই ঘটনা সাজানো নয়। স্ত্রীর প্রতি ক্রিসের হাস্যরসের প্রতিশোধ নিতেই চড়টা মেরেছেন স্মিথ। এর আগেও, ২০১৬ সালে সঞ্চালনার সময়ে পিঙ্কেটকে নিয়ে রসিকতা করেছিলেন ক্রিস। এবারও তিনি বোঝাতে যান, সাধারণ রসিকতাই করছিলেন। তার চেয়ে বেশি কিছু নয়। কিন্তু স্মিথকে থামানো যায়নি। এই ঘটনার পর মঞ্চে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার নিতে এসে ধন্যবাদ জ্ঞাপক ভাষণে বারবার নিজের পরিবারকে ‘আগলে রাখার’ কথা বলেন তিনি।