মানুষের সম্পূর্ণ জিনোম সিকুয়েন্স প্রকাশ|353387|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১ এপ্রিল, ২০২২ ১৭:৫০
মানুষের সম্পূর্ণ জিনোম সিকুয়েন্স প্রকাশ
অনলাইন ডেস্ক

মানুষের সম্পূর্ণ জিনোম সিকুয়েন্স প্রকাশ

প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ মানব জিনোম সিকুয়েন্স প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল জিউম্যান জিনোম রিসার্চ ইন্সটিটিউট বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।

মানবদেহে বিভিন্ন রোগ-সৃষ্টিকারী মিউটেশন ও জিনগত পরিবর্তনের কারণ খুঁজে পেতে দীর্ঘ সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকুয়েন্সের চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।

২০০৩ সালে মানুষের জিনোম সিকুয়েন্স প্রকাশিত হলেও তখনও অন্তত প্রায় ৮ শতাংশ জিনোমের পাঠোদ্ধার সম্ভব হয়নি। অসংখ্য ডিএনএ-র পুনরাবৃত্তির ফলে বাকি সিকুয়েন্সের সঙ্গে সেগুলো সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি।

তবে এবার পুরো সিকুয়েন্সই সফলভাবে প্রকাশ করতে সক্ষম হন বিজ্ঞানীরা। গবেষণা পত্রটি গত বছর পিয়ার রিভিউয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত হয়।

ডিএনএ-র বেজ পেয়ার দিয়ে মানুষের ক্রোমোজোম ও জিন গঠিত। পূর্ণাঙ্গ সিকুয়েন্সে তিন বিলিয়নের বেশি বেজ পেয়ার রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৯৬৯টি জিন প্রোটিন এনকোড করে। এই জিনগুলোর মধ্যে বিজ্ঞানীরা নতুন দুই হাজার জিন চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে ১১৫টি এখনও সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা।

এছাড়া বিজ্ঞানীরা আরও ২০ লাখ জেনেটিক ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত করেছেন, যার মধ্যে ৬২২টি চিকিৎসা সম্পর্কিত।

ন্যাশনাল জিউম্যান জিনোম রিসার্চ ইন্সটিটিউটের পরিচালক ইরিক গ্রিন বলেন, ‘মানব জিনোমের সম্পূর্ণ সিকোয়েন্স উন্মোচন করাটা সত্যিই এক যুগান্তকারী সাফল্য, যার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো আমাদের ডিএনএ ব্লুপ্রিন্টের সামগ্রিক চিত্রের দেখা মিলবে।’

তিনি বলেন, ‘এসব তথ্য ভিত্তিমূল স্থাপনকারী, যা মানুষের জিনোমের সূক্ষ্ম কার্যক্রম বোঝার প্রচেষ্টাকে সাহায্য করবে। মানুষের বিভিন্ন রোগের জেনেটিক কার্যকরণ বিশ্লেষণের গবেষণাকেও তা শক্তিশালী করবে।’

গবেষক দলের অন্যতম প্রতিনিধি অ্যাডাম ফিলিপি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ভবিষ্যতে কারও জিনোম সিকুয়েন্স করা হলে আমরা তাদের ডিএনএ-র সকল ভ্যারিয়েন্ট চিহ্নিত করতে পারব। এর ফলে তাদের স্বাস্থ্যসেবা পরামর্শ দেওয়াও সহজ হবে।’

তিনি বলেন, ‘শতভাগ জিনোম সিকুয়েন্স করা নতুন চশমা চোখে পরার মতোই। এখন আমরা পরিষ্কারভাবে সব দেখতে পারছি। এর সবটাই বুঝে উঠতে আমরা এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে।’