কাল দেড় লাখ মানুষ পাচ্ছে স্থায়ী ঠিকানা|357410|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ এপ্রিল, ২০২২ ০০:০০
কাল দেড় লাখ মানুষ পাচ্ছে স্থায়ী ঠিকানা
বিশেষ প্রতিনিধি

কাল দেড় লাখ মানুষ পাচ্ছে স্থায়ী ঠিকানা

ঈদ হবে এবার আশ্রয়ণ প্রকল্পেও। দেড় লাখ মানুষ পাচ্ছে নিজের ঠিকানা। ঈদ আনন্দে মাতবে দেশের ৩২ হাজার ৯০৪টি গৃহহীন পরিবার। আগামীকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ঘর হস্তান্তর করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে দেশের চারটি উপজেলায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে গৃহহীন মানুষের হাতে উপহারের এসব ঘর হস্তান্তর করবেন। এ পর্যায়ে দেড় লাখেরও বেশি মানুষ ঈদের আগে উপহারের ঘরে উঠবে। ঈদ উপলক্ষে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের পোড়াদিয়া বালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প, বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের খাজুরতলা আশ্রয়ণ প্রকল্প, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের খোকশাবাড়ী আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারার বারখাইন ইউনিয়নের হাজীগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ঘর হস্তান্তর করা হবে।

এ চার এলাকা থেকে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য থেকে জানা গেছে, ঈদের আগে যারা এসব ঘর বুঝে পাবে তারা আনন্দে ভাসছে। ঈদে তাদের পরিবারে ছোটখাটো কোনো উপহারই জোটে না। অন্যের জায়গায় আশ্রয় নিয়ে কটুকাটব্য শুনেই অনেকের জীবন প্রায় শেষদিকে। আর ঈদে নিজের নামে জায়গা আর সঙ্গে পাকা বাড়ি এ আনন্দে আত্মহারা ৩৩ হাজার পরিবারের দেড় লাখের মতো মানুষ।

চট্টগ্রামের ঘর পাচ্ছে ১২১৬ পরিবার : চট্টগ্রাম ব্যুরো থেকে পাঠানো তথ্য থেকে জানা গেছে, এবার ঈদ উপলক্ষে চট্টগ্রামের ভূমিহীন ও গৃহহীন ১ হাজার ২১৬টি পরিবারকে জমিসহ ঘর দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ৬ নম্বর বারখাইন ইউনিয়নের হাজীগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পে কাল সকাল সাড়ে ১০টায় ঘরেরর চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান বলেন, প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রামের ১ হাজার ৪৪৪টি এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৬৪৯টি পরিবারকে ২ শতাংশ জমিসহ সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ঘর দেওয়া হয়। এ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় জেলায় তৃতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে ১ হাজার ২১৬টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ২ শতাংশ জমিসহ সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ঘর দেওয়া হবে। এবার জেলার আনোয়ারা উপজেলায় ১৩০টি, পটিয়ায় ৮৫টি, কর্ণফুলীতে ১০টি, বোয়ালখালীতে ৪৫টি, চন্দনাইশে ৬৫টি, সাতকানিয়ায় ২৮টি, লোহাগাড়ায় ১৪৫টি, বাঁশখালীতে ১২০টি, রাঙ্গুনিয়ায় ৭০টি, রাউজানে ৫৬টি, হাটহাজারীতে ২৪টি, ফটিকছড়িতে ৩৯০টি, সীতাকুণ্ডে ২৮টি, মীরসরাইয়ে ২০টিসহ ১ হাজার ২১৬টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর দেওয়া হবে।

খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর ঘর উপহার পাচ্ছে ২৩৬ পরিবার : খুলনা প্রতিবেদকের পাঠানো তথ্য থেকে জানা গেছে, খুলনায় ঈদের আগেই প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ২৩৬টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার জমিসহ ঘর পাচ্ছে। এর মধ্যে আগামীকাল রূপসা উপজেলায় ১৪টি, তেরখাদায় ৬২টি, দীঘলিয়ায় ৩৫টি, ডুমুরিয়ায় ৬৫টি, ফুলতলায় ৪টি, পাইকগাছায় ৩৬টি ও দাকোপ উপজেলার ২০টি পরিবারের কাছে জমিসহ ঘর হস্তান্তর করা হবে।

খুলনার জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার গতকাল বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। জেলা প্রশাসক জানান, তৃতীয় পর্যায়ে খুলনার জন্য পাঁচটি ধাপে ৯০৬টি গৃহের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এসব গৃহের নির্মাণ কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে তেরখাদা উপজেলায় ১১৭টি, বটিয়াঘাটায় ২৩০টি, ডুমুরিয়ায় ১৬৫টি, পাইকগাছায় ৯৭টি, দাকোপে ৩০টি, দীঘলিয়ায় ১০০টি, ফুলতলায় ৮১টি, রূপসায় ৭৬টি এবং কয়রা উপজেলায় ১০টি গৃহের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এছাড়া তৃতীয় পর্যায়ে প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। দ্বিতীয় পর্যায়ে ঘরে চারটি জানালার পরিবর্তে পাঁচটি সংযুক্ত করা হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে ঘরের বারান্দায় আরসিসি পিলার, ঘরের বেজমেন্টে আরসিসি ঢালাই, গ্রেডবিম ও টানা লিন্টেল সংযুক্ত করা হয়েছে। খুলনায় উপযুক্ত খাসজমির সংস্থান না থাকায় কোনো কোনো উপজেলায় জমি কিনে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে পাইকগাছায় ৪৭টি ঘরের জন্য ১.০৩ একর, দীঘলিয়ায় ৬৫টি ঘরের জন্য ১.৬৮৭১ একর, ফুলতলায় ৭৭টি ঘরের জন্য ১.৬০ একর এবং রূপসায় ১২টি ঘরের জন্য ০.২৪ একর অর্থাৎ ২০১টি ঘরের জন্য ৪.৫৫৭১ একর জমি কেনা হয়েছে।

স্বচ্ছতার সঙ্গে আশ্রয়ণের ঘর নির্মাণ হচ্ছে : তোফাজ্জল হোসেন মিয়া সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের আশ্রয়ণ প্রকল্পটি স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্প ব্যয়ে তৃতীয় ধাপে প্রতিটি ঘরে ব্যয় হচ্ছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। ভ্যাট-ট্যাক্স ধরা হলে এ ব্যয় দাঁড়াত ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, এখন যেসব ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে সেগুলো অনেক টেকসই। অনেক ইঞ্জিনিয়ার বলেছেন, চাইলে এর ওপর দোতলাও করা যাবে। ফাউন্ডেশন, আরসিসি পিলার, গ্রেডবিম সবকিছু যুক্ত করা হয়েছে।

তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষ উপলক্ষে ঘোষণা দিয়েছেন যে বাংলাদেশের কোনো মানুষ যাতে ভূমিহীন-গৃহহীন না থাকে। সেজন্য তিনি দুই শতক জমির ওপর দুই রুমের একটি ঘর উপহার দিচ্ছেন। এসব ঘরের ডিজাইন প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রণয়ন করেছেন।

সিনিয়র সচিব আরও জানান, এই যে ঘর দেওয়া হচ্ছে এগুলো স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে দেওয়া হচ্ছে। যার স্বামী নেই সে ক্ষেত্রে স্ত্রীর নামে দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যে প্রায় ৩৩ হাজার ঘর হস্তান্তর করবেন তাতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ যাদের একটি ঠিকানা ছিল না, দাঁড়ানোর জায়গা ছিল না, তারা একদিনে আশ্রয় পাবে।

২০২১-২২ অর্থবছরে একক ঘর নির্মাণের জন্য ৩ হাজার ৯৭২ কোটি ৭ লাখ ৫ হাজার ১ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। তিনি বলেন, এজন্য সারা দেশে ৫ হাজার ৫১২ দশমিক ৪ একর খাসজমি উদ্ধার করা হয়েছে। যার বাজারমূল্য ২ হাজার ৯৬৭ কোটি ৯ লাখ টাকা। এছাড়াও সরকার ১৬৮ দশমিক ৩২ একর জমি কিনেছে। যার বাজারমূল্য ১১৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের ঘর করে দিচ্ছে সরকার। দুই দফায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৩২৯ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। তৃতীয় দফায় ৬৫ হাজার ৬৭৪টি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৯০৪টি ঘরের দলিল কাল বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এ প্রকল্পটি সরাসরি তত্ত্বাবধান করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো. আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকি, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর প্রকল্প পরিচালক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান।