সাহরিতে ইলিশ পদ্মার পাড়ে|357723|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ এপ্রিল, ২০২২ ০০:০০
সাহরিতে ইলিশ পদ্মার পাড়ে
সানমুন আহমেদ, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থেকে ফিরে

সাহরিতে ইলিশ পদ্মার পাড়ে

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে পদ্মার পাড়ে প্রায় প্রতিদিনই সাহরিতে অংশ নিচ্ছেন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোজাদাররা। রাত ১২টার পর থেকেই জমে উঠতে শুরু করে পদ্মার পাড়ের রেস্টুরেন্টগুলো। এখানে সাহরির খাবার হিসেবে মূল আকর্ষণ পদ্মার ইলিশ।

রাতে সরেজমিন পদ্মার পাড়ের রেস্টুরেন্টগুলোতে দেখা যায়, ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে শুধু সাহরির জন্য ভিড় করছে ভোজনরসিকরা। বেশিরভাগই ঢাকা থেকে বাইকে চড়ে বন্ধুদের নিয়ে আসছে এখানকার রেস্টুরেন্টগুলোতে। অনেকে আবার পরিবার নিয়েও আসছে খাওয়ার জন্য।

একাধিক রেস্টুরেন্টের দোকানমালিকরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের এই এলাকার রেস্টুরেন্টে রমজানের আগে রাতে ইলিশ ভাজা খেতে ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে ভোজনরসিকদের আনাগোনা ছিল। কিন্তু এখন রাতের বেচাকেনা তেমনটা নেই। তবে সাহরিতে বেশ ভালোই বেচাকেনা হচ্ছে।’

রেস্টুরেন্ট দোকানিদের থেকে জানা যায়, এই রেস্টুরেন্টগুলোতে সবাই ইলিশ মাছ ভাজা খেতে আসে। মাছগুলো আকারভেদে ৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি পিস বিক্রি হয়। মাছ কেনার পর রেস্টুরেন্ট দোকানিরা মাছগুলো ভেজে দেয় ভোজনরসিকদের। তবে এখানের দোকানিরা ইলিশ মাছের লেজ দিয়ে এক প্রকার ভর্তা বানায়, যা এখানের খাবারের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও সাদা ভাত, স্পেশাল ডালসহ বিভিন্ন রকমের ভর্তা পাওয়া যায় এই রেস্টুরেন্টগুলোতে।

মো. ইমরান হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জীবনের প্রথম মাওয়ার হাইওয়ে সড়ক দিয়ে বন্ধুদের নিয়ে বাইকে চড়ে আসলাম সাহরি খেতে। সবার কাছে এখানকার ইলিশ মাছ ভাজা খাওয়ার কথা শুনেছি। কিন্তু নানা কাজে ব্যস্ততার জন্য আসা হয়নি। তাই এবার সাহরি খেতে আসলাম। ভালোই লাগল এখানের খাবার।’

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. শাহারিয়ার এসেছেন পদ্মার পাড়ে সাহরিতে। তিনি বলেন, ‘রোজা এখন প্রায় শেষের দিকে। এতদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার জন্য কোথাও যাওয়া হয়নি। তাই বন্ধুরা মিলে আসলাম সাহরি খেতে।’ তাছাড়া এখানের খাবারগুলো বেশ মজাদার বলে জানান এই শিক্ষার্থী। 

মো. শান্ত নামের এখানকার এক হোটেলকর্মী জানান, দিনের বেলায় আমাদের বেচাকেনা কম হলেও রাতের সাহরির সময় এখন অনেক লোক হয়। অনেক সময় এতই লোক থাকে তখন চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়।

এই এলাকায় আট বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন নিরিবিলি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক মো. তৈয়বুর রহমান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনার জন্য গত দুই বছর এখানকার হোটেল ব্যবসায় বড় রকমের লোকসানে পড়তে হয়েছে। তবে এ বছর এই শিমুলিয়া ঘাটের আশপাশে প্রায় সব রেস্টুরেন্টে আগের থেকে ভালোই বেচাকেনা হচ্ছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছে এখানকার রেস্টুরেন্টগুলোতে।

তিনি আরও বলেন, এখানকার খাবারের জনপ্রিয়তা ভোজনরসিকদের কাছে দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। তাই আমরাও চাই খাবারের মান ধরে রাখতে বলে জানান এই রেস্টুরেন্টমালিক।