হাজার কোটি টাকার খননেও জাগছে চর!|359182|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৮ মে, ২০২২ ০০:০০
হাজার কোটি টাকার খননেও জাগছে চর!
মো. মঈন উদ্দিন রায়হান, ময়মনসিংহ

হাজার কোটি টাকার খননেও জাগছে চর!

নাব্য ফেরাতে খননকাজ চলছে ব্রহ্মপুত্র নদে। কিন্তু খননের পর নাব্য বাড়ার বদলে উল্টো ময়মনসিংহে নদটির বিভিন্ন জায়গায় জেগে উঠছে বড় বড় চর। প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের খনন প্রকল্প চলার পরও এভাবে চর জাগায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে ময়মনসিংহের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে। পাঁচ বছরের এই প্রকল্পের ইতিমধ্যে প্রায় তিন বছর পার হতে চললেও নদ খননের দৃশ্যমান সুফল চোখে না পড়ায় হতাশ ময়মনসিংহ নগরীর ব্রহ্মপুত্রপাড়ের বাসিন্দারা।

তবে নদ খননের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বলছে, নদের উৎসমুখ খনন না হওয়ায় এবং পানিপ্রবাহ না থাকায় পলি পড়ে চর জাগছে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক কারণেও কিছু সমস্যা হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে নদ খননের সুফল দৃশ্যমান হবে। তখন জনমনে নদ খনন নিয়ে যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে তা দূর হবে।

দখল, দূষণ আর পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্য ফিরিয়ে আনতে ২০১৯ সালের শেষের দিকে শুরু হয় খননকাজ। ২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নদের ২২৭ কিলোমিটার অংশ খনন করার কথা রয়েছে বিআইডব্লিউটিএর। নদটি ৩০০ ফুট প্রশস্ত এবং শুষ্ক মৌসুমে ১০ ফুট গভীর থাকবে এমন হিসাবে খনন করার কথা। পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পের প্রথম দুই বছরে নদে ড্রেজিং এবং পরবর্তী তিন বছর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হবে। যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের সংযোগস্থল জামালপুরের কুলকান্দি থেকে কিশোরগঞ্জের টোক পর্যন্ত নদটির ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে খননকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ময়মনসিংহ নগরীর কাচারিঘাট ও পাটগুদাম সেতু, জয়নুল আবেদিন পার্ক, থানা ঘাট ও পুলিশ লাইনস এলাকায় নদ খনন করা হলেও অন্তত ১০টি জায়গায় ইতিমধ্যে চর জেগেছে। বিশালাকৃতির এসব চরের কারণে চলতে পারছে না নৌকা। খননের পর শুষ্ক মৌসুমে ১০ ফুট গভীর পানি থাকার কথা থাকলেও সাধারণ মানুষকে হেঁটে নদ পার হতে দেখা গেছে অনেক জায়গায়।

কিন্তু ময়মনসিংহ নগরীর ব্রহ্মপুত্রপাড়ের বাসিন্দাদের চাওয়া সঠিক নিয়মে নদটি খননের পাশাপাশি নদের দুই পাড়ের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সবুজ বনায়ন।খননে সুফল না মেলায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সামাজিক সংগঠন ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমীন কালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নাগরিক আন্দোলনের দাবির ফসল হিসেবে ব্রহ্মপুত্র নদ খননকাজ শুরু হয়। কিন্তু বর্তমান দুরবস্থা খুবই উদ্বেগজনক। নদের বিভিন্ন স্থানে চর জাগায় আমরা হতাশ। বিষয়টি নিয়ে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে নতুন কর্মসূচির বিষয়ে পরিকল্পনা করছি।’

এ প্রসঙ্গে ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আবুল কালাম আল আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খনন করা স্থানে কেন চর জাগতে শুরু করেছে, তা ময়মনসিংহের সচেতন মানুষের মনের প্রশ্ন। সরকারের ২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ের খননকাজের সুফল কেন পাওয়া যাচ্ছে না, সেটিও প্রশ্ন। আমাদের মতে, প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে নদের তলদেশ কেমন আছে, গতিপথ কোন দিকে আছে, তা ঠিকঠাক নির্ধারণ করা হয়নি। নদটি খননে দুর্নীতি, লুটপাট হচ্ছে। মূলত খননের নামে এখানে বালুর ব্যবসা হচ্ছে। এটা কিছু লোকের পকেট ভরার প্রকল্প চলছে।’

নদ খননে সুফল না মেলার কারণ জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও পুরনো ব্রহ্মপুত্র ড্রেজিং প্রকল্পের পরিচালক রকিবুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘শত বছর পর নদটি খনন হচ্ছে। তাই প্রাকৃতিক কারণেও কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে চর জাগলে সেখানে আবারও খনন করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এক বছরের মধ্যে কাজ দৃশ্যমান হবে। নদে চলবে লঞ্চ-স্টিমার। তখন জনমনে নদ খনন নিয়ে যে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর হবে। এ ছাড়া নদ খননের পরও কাজটির তদারকি চলবে।’

আর নদ খননকাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদ খননকাজের অগ্রগতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। কাজ এখনো চলমান, তাই কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মানুষ এর সুফল পাবে না। আমরা আশা করছি, কাজ শেষ হলে সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করবে।’