ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের অর্থের কী হবে|360178|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ মে, ২০২২ ০০:০০
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের অর্থের কী হবে

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের অর্থের কী হবে

এমএলএম বা মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কোম্পানিগুলো ব্যবসার নামে দেশের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, এ খবর বেশ পুরনো। ২০২০ সালের পুলিশ সদর দপ্তরের এক তথ্যে দেখা গেছে, থানায় নিবন্ধিত মামলার ভিকটিমদের ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশই আর্থিক প্রতারণার শিকার। আবার এর একটি বড় অংশই এমএলএম ব্যবসার মাধ্যমে ঘটেছে। এমএলএম ব্যবসার নামে দীর্ঘদিন এই প্রতারণা চলে এলেও যুবক ও ডেসটিনির কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার আগে এ নিয়ে খুব উচ্চবাচ্য হয়নি। সবার চোখের সামনেই প্রতারণা করেছে একটি চক্র। এসব ঘটনায় সাধারণ গ্রাহকের অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল, তার কোনো সুরাহা হয়নি। লাখো গ্রাহকের হাজার হাজার কোটি টাকার কোনো নিশ্চয়তা এখনো পাওয়া যায়নি।

তবে আশার কথা হচ্ছে, গত বৃহস্পতিবার ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের মামলার রায় হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এ মামলার রায়ে ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন, কোম্পানির প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান এম হারুন-অর-রশিদসহ ৪৬ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- ও ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে।

ডেসটিনিতে অনেকেই বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখন কীভাবে ও কোন পদ্ধতিতে গ্রাহকের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া যায় সে বিষয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ডেসটিনির যেসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে এবং ব্যাংকে টাকা গচ্ছিত আছে, সেগুলো রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে বলেছে আদালত। ডেসটিনির স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার মতো রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে এ টাকা সুদসহ বেড়েছে। আসামিদেরও অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের অর্থ ফিরিয়ে দিতে গঠিত কমিটিকে করণীয় নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। ডেসটিনির ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে করণীয় নির্ধারণে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

দেশে ভোক্তা অধিকার আইন জারি করা হয়েছিল ২০০৯ সালে। ক্রেতার স্বার্থ সুরক্ষার কোনো নীতিমালা না থাকায় বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছেমতো শর্ত আরোপ করে চলেছে, যে কারণে ক্রেতারা প্রতারিত হলেও প্রতিকার পাচ্ছেন না। ক্রেতারা যে প্রতিকার পাচ্ছেন না বা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন তার বড় উদাহরণ সম্প্রতি তুমুল আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি। সম্প্রতি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এবং তার স্বামী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেলকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তাদের গ্রেপ্তারের পরই সামনে এসেছে ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তাদের বিষয়টি। রাসেল এবং শামীমাকে আটকের খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা তাদের বাসার সামনে ভিড় জমিয়েছেন। পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভও করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের মুক্তি চেয়ে বিক্ষোভও করেছেন গ্রাহকরা। তারা মনে করছেন, প্রতিষ্ঠানটির এমডি এবং চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার হওয়ায় তারা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যেসব গ্রাহক ইভ্যালির কাছে টাকা পান, তাদের টাকা প্রাপ্তি নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হলো। আদালতের নির্দেশে গ্রাহকদের টাকা ফেরত পাওয়ার আইন আছে। এর আগে যুবক, ডেসটিনি, ইউনি টু পের টাকা গ্রাহকরা ফেরত পাননি। এজন্য ইভ্যালি, ধামাকা বা ই-অরেঞ্জের টাকা ফেরত পাবেন কি না, সন্দেহ রয়েই যায়।

অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্ণধারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ওইসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কেউই তাদের অর্থ ফেরত পাননি। গ্রাহকদের দাবি, টাকা যেন তারা ফেরত পান। যুবক ও ডেসটিনির মতো প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের পর এমএলএম নিয়ে গ্রাহকপর্যায়ে অনাস্থা দেখা দিলেও অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন নাম ও কৌশলে একই কায়দায় ব্যবসা করে যাচ্ছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান অনলাইনে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান কখনো উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার নামে, কখনো আকর্ষণীয় সুদ দেওয়ার নামে মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে।

কয়েক বছর ধরে ডেসটিনির মামলা চলায় গ্রাহকদের একধরনের অন্তহীন অপেক্ষার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করতে হয়েছে। মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে লাখো ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক তাদের অর্থ ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। এখন সরকারের উচিত আদালতের নির্দেশনা মেনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া। টাকা হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবনে যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নেমে এসেছে, তা দ্রুত লাঘব হবে এটাই প্রত্যাশিত।