ইইউর ঐক্যে ফাটল|360181|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ মে, ২০২২ ০০:০০
ইইউর ঐক্যে ফাটল

ইইউর ঐক্যে ফাটল

ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ অভিযান প্রশ্নে এখন সবচেয়ে বেশি সরব আন্তর্জাতিক মহল। এই অভিযানের ফলে একের পর এক প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর। রাশিয়ার ওপর ইউরোপসহ যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র কয়েক হাজার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য। এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর যতটা না পড়েছে তার চেয়ে বেশি পড়েছে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর। ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের দেশগুলোতে রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ করা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া যদি ইউরোপে তাদের গ্যাস সরবরাহ পুরো মাত্রায় বন্ধ করে দেয় তাহলে ইউরোপে যে অন্ধকার নেমে আসবে সে বিষয়ে ওই ব্লকের নেতাদেরও কোনো সন্দেহ নেই। আর এই ইস্যুতেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐক্যে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্যাজপ্রমের ইউরোপীয় সহায়ক সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মস্কো। মূলত ইউক্রেন একটি প্রধান গ্যাস ট্রানজিট রুট বন্ধ করার একদিন পর এই সিদ্ধান্ত নেয় রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রশাসন। আর এতে করে বেকায়দায় পড়েছে ইউরোপ। রুশ গ্যাসের বিকল্প নিশ্চিত করতে ইউরোপের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। এ নিয়ে সম্প্রতি ব্রাসেলসে ইইউর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেতাদের প্রতিনিধিরা এক জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন। বৈঠকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন দার লিয়েনকে বলতে শোনা যায়, ‘ঐক্য বজায় রাখা খুব সহজ কাজ নয়। আমাদের যে দেশগুলো এখনো দ্বিধান্বিত আছে, তারা মূলত প্রস্তুত নয়। আমরা একত্রে বসছি ওই দেশগুলোর সঙ্গে যাতে তাদের তেলের বিকল্প উৎস সম্পর্কে নিশ্চয়তা দেওয়া যায়।’

ইউরোপে গ্যাস সরবরাহে রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেনের ভেতর দিয়ে যাওয়া রুশ গ্যাসলাইনগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র গ্যাস সংকটে পড়েছে ইউরোপের দেশগুলো। ফলে গ্যাসের বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করার চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি ইউরোপ জুড়ে বেড়ে গেছে গ্যাসের দাম। ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে মস্কো ইতিমধ্যে বুলগেরিয়া ও পোল্যান্ডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।

রয়টার্স বলছে, রাশিয়া গত বুধবার রাতে গ্যাজপ্রমের ইউরোপীয় সহযোগী সংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যার মধ্যে গ্যাজপ্রম জার্মানিয়াও রয়েছে। মূলত জ্বালানি সরবরাহ সুরক্ষিত রাখার জন্য জার্মানি গত মাসে ট্রাস্টিশিপের অধীনে এটি চালু করেছিল। এছাড়া ইউরোপে রুশ গ্যাস বহনকারী ইয়ামাল-ইউরোপ পাইপলাইনের পোলিশ অংশের মালিকের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মস্কো।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা এসব কোম্পানির নাম রাশিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান মূলত সেই সব দেশের যারা ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর কারণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আরও ভালোভাবে বললে, এসব দেশের বেশিরভাগই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য। ইউরোপে রাশিয়ার জ্বালানির শীর্ষ গ্রাহক জার্মানি। দেশটি বলছে, গ্যাজপ্রম জার্মানিয়ার কিছু সহযোগী সংস্থা নিষেধাজ্ঞার কারণে গ্যাস পাচ্ছে না। জার্মানির অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী রবার্ট হ্যাবেক দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বুন্ডেস্ট্যাগকে বলেছেন, ‘গ্যাজপ্রম ও এর সহযোগী সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মানে কিছু সহায়ক সংস্থা রাশিয়া থেকে আর গ্যাস পাচ্ছে না।’ হামলা শুরুর প্রায় তিন মাস পর এবারই প্রথম ইউক্রেন এ ট্রানজিট রুটটি বন্ধের পদক্ষেপ নিল। কিয়েভ যে ট্রানজিট পয়েন্টটি বন্ধের দাবি করেছে সেটি দিয়ে সাধারণত ইউরোপে রাশিয়ার মোট গ্যাসের প্রায় ৮ শতাংশ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ওই লাইন দিয়ে মূলত অস্ট্রিয়া, ইতালি, সেøাভাকিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের অন্যান্য দেশে গ্যাস সরবরাহ করা হয়।