কল্যাণমূলক কাজের নির্দেশ|360191|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ মে, ২০২২ ০০:০০
কল্যাণমূলক কাজের নির্দেশ
 মো. সিয়াম হোসাইন

কল্যাণমূলক কাজের নির্দেশ

মানুষ আল্লাহতায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি ও সামাজিক জীব। কারণ মানুষ সঙ্গহীন জীবনযাপনে অভ্যস্ত নয়। আর সমাজ ছাড়া মানুষ নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করতে পারে না। তাই মহান আল্লাহ মানুষের সামাজিক জীবন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ইসলামকে মনোনীত দ্বীন হিসেবে উপহার দিয়েছেন। এমনকি সমাজকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে মহান আল্লাহ মানবসমাজে অসংখ্য নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন এবং নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গোটা জীবনকে সৃষ্টিকুলের কল্যাণ এবং মানবসমাজের সার্বিক কল্যাণের জন্য উৎসর্গ করেছেন।

আধুনিক যুগের বিদগ্ধ পণ্ডিত, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, ঐতিহাসিক, গবেষক, সমালোচক ও সমাজবিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে সমাজকল্যাণের মাধ্যমে উন্নত মানবজীবন গঠনে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী তথা হাদিস এবং জীবন চরিতের ভূমিকা ও কার্যকারিতা ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। এর অন্যতম হলো

রাষ্ট্রীয় কল্যাণ কামনা : সমাজের কল্যাণ কামনার্থে রাষ্ট্রীয় আইন ও অনুশাসন মেনে চলা জরুরি। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক মুসলমানের ওপর শাসক বা নেতার কথা মেনে চলা এবং আনুগত্য করা অবশ্য কর্তব্য। চাই তা তার পছন্দ হোক বা না হোক। যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহর নাফরমানি আদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু আল্লাহর আনুগত্য পরিপন্থী কোনো আদেশ দেওয়া হলে তা শোনা এবং মান্য করার কোনো অবকাশ নেই।’ সুনানে তিরমিজি : ২১৩

পদমর্যাদা অনুযায়ী আচরণ : সামাজিক অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ হচ্ছে, মানুষের যোগ্যতা অনুযায়ী অধিক সম্মান দেওয়া। তাই যার যার পদমর্যাদা অনুযায়ী আচরণ করতে হবে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘লোকদের সঙ্গে তাদের পদমর্যাদা অনুযায়ী আচরণ করো।’ সুনানে আবু দাউদ

নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার : মানবিক মর্যাদায় নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা ইসলামি সমাজের অন্যতম নৈতিক কার্যক্রম। সম্মান ও মর্যাদা হয় তাকওয়া ও পরহেজগারিতার ভিত্তিতে যেখানে নারী ও পুরুষ সবাই সমান। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা আমার কাছ থেকে মেয়েদের সঙ্গে সদ্ব্যবহারের শিক্ষা গ্রহণ করো। কেননা নারী জাতিকে পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্যে ওপরের হাড়টা সর্বাপেক্ষা বাঁকা। অতএব যদি তুমি তা পুরোপুরি সোজা করতে যাও তবে ভেঙে ফেলবে আর যদি রেখে দাও তবে তা বাঁকা হয়ে থাকবে সুতরাং তোমরা নারীদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করো।’ রিয়াদুস সালেহিন : ২৭৩

দুর্বল ও অক্ষমদের অধিকার নিশ্চিত করা : দুর্বল ও অক্ষমদের অধিকার নিশ্চিত না করলে সমাজের অবকাঠামো ঠিক থাকবে না। তাই হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ সেই জাতিকে পবিত্র করেন না যাদের মধ্যে দুর্বল ও অক্ষমদের অধিকার আদায় করা হয় না।’ সুনানে বায়হাকি

সৃষ্টির প্রতি দয়া : মানুষ মহান আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি তাই মানুষকে দয়া ও অনুগ্রহ করা সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ ও উত্তম নেক আমল। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া ও করুণা করে না আল্লাহতায়ালাও তার প্রতি দয়া ও করুণা করেন না।’ সহিহ

বোখারি : ১০৯৭

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা: সমাজে মুসলিম-অমুসলিম একসঙ্গে বসবাস করতে হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। তাই হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমকে কোনো অপরাধ ছাড়া হত্যা করবে আল্লাহতায়ালা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন।’ মুসনাদে আহমদ : ৪০২

কাজের লোকের প্রতি সদ্ব্যবহার : নিজের অধীনস্থ লোকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা সামাজিক অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ।

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বাড়ির কাজের লোকরা তোমাদের ভাই, আল্লাহতায়ালা তাদের তোমাদের অধীন করেছেন, অতএব যার অধীনে তার এই ভাই রয়েছে সে নিজে যা পানাহার ও পরিধান করে তাকেও যেন তা পানাহার ও পরিধান করায়। সে যেন তাদের সাধ্যাতীত কোনো কাজ করতে বাধ্য না করে যদি এমন কাজ তার ওপর চাপিয়ে দেয়, তবে সে যেন সশরীরে তাকে সহায়তা করে।’ সহিহ

বোখারি : ৩০

প্রতিবেশীদের অধিকার নিশ্চিত: সামাজিক কল্যাণ কামনার্থে প্রতিবেশীদের অধিকার নিশ্চিত করা অন্যতম নৈতিক দায়িত্ব। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর নিকট উত্তম বন্ধু হলো সেই ব্যক্তি যে তার নিজের বন্ধুর কাছে উত্তম এবং আল্লাহর নিকট উত্তম প্রতিবেশী ওই ব্যক্তি যে তার নিজের প্রতিবেশীর নিকট উত্তম।’ সুনানে তিরমিজি : ১৬

সমাজকল্যাণে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) যে নির্দেশ দিয়েছেন তা যথাযোগ্য পন্থায় পালন করলে আমাদের সমাজের প্রতিটি স্তর ও প্রতিটি অঙ্গন আল্লাহতায়ালা সুন্দর ও আদর্শ সমাজে রূপান্তর করে দেবেন ইনশাআল্লাহ।