ব্যাটিংধস থামানোর চিন্তা ডমিঙ্গোর|360194|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ মে, ২০২২ ০০:০০
ব্যাটিংধস থামানোর চিন্তা ডমিঙ্গোর
ক্রীড়া প্রতিবেদক

ব্যাটিংধস থামানোর চিন্তা ডমিঙ্গোর

বাংলাদেশ দলের এখন নতুন সমস্যা। পিছলে পড়লে আর উঠে দাঁড়াতে পারছে না। যেকোনো টেস্ট সিরিজে খুব ভালো খেলছে... একটি সেশন খারাপ যায় তো সিরিজের বাকি অংশ একেবারে লেজেগোবরে। সবশেষ টেস্ট সিরিজেও একই অবস্থা। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবারের মতো টেস্টে দাপট দেখানো বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত বিনা লড়াইয়ে সিরিজ হারল। এক টেস্টে ভালো করে দ্বিতীয় টেস্টে হারিয়ে যাওয়া বা এক সেশন খারাপ তো সফরের বাকি সময়ে ছিটকে যাওয়া ভাবনায় ফেলেছে কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকে। কিছুদিন আগে বোর্ড সভাপতির সঙ্গে কোচদের একান্ত বৈঠকেও এই বিষয়টি উঠে এসেছে। শ্রীলঙ্কা সিরিজে এই দিকটিকে ঠিক করার চ্যালেঞ্জ নিতে চান ডমিঙ্গো।

কয়েক বছর আগেও নিয়মিত টেস্ট জয় বা ড্র পাচ্ছিল বাংলাদেশ। উইন্ডিজ-অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডকে ঘরের মাঠে হারানো, পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার সঙ্গে টেস্ট ড্র করার সাফল্যগুলো সাদা পোশাকে একটা পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছিল টাইগারদের। অথচ ২০১৯ সালে ডমিঙ্গো দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই সাফল্যে ভাটা পড়েছে। তার অধীনে জিম্বাবুয়ে ছাড়া কোনো দলের সঙ্গেই জয় পাচ্ছে না বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের টেস্ট জয়টিকেও এখন অঘটন মনে হচ্ছে। কারণ, এখন ভালো খেলার ধারাবাহিকতাই নেই দলের। হারিয়ে যাওয়া এ বিষয়টাই ফেরাতে চান ডমিঙ্গো, ‘আমরা যখন একটা খারাপ সেশন পার করি সেটা খুবই খারাপ হয়। পরে আর ফিরতেই পারি না। পাকিস্তানের সঙ্গে ২০০ রানে এগিয়ে থেকেও হারলাম, উইন্ডিজকে ৩৯৫ রানের (চট্টগ্রামে) টার্গেট দিয়েও জিততে পারিনি। ডারবানে চার দিন ভালো খেলে এক দিনের বাজে খেলায় হারলাম। আমরা এই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তিত। আমরা চাচ্ছি এই অবস্থা যেন কাটানো যায়। চেষ্টা করি ড্রেসিংরুমে শান্ত থাকার কিন্তু হচ্ছে না। আমাদের চ্যালেঞ্জটা এখন এটাই। কোনো সেশনে ১-২ উইকেট হারালে যেন ৫ উইকেট না হারিয়ে ফেলি, ৪ দিন নয় ৫ দিন যেন ভালো খেলি আর দ্বিতীয় টেস্টে যেন লড়াই থেকে হারিয়ে না যাই।’

এই সমস্যার সমাধান জানেন ডমিঙ্গো। তা হলো স্ট্রাইক রোটেট করা। চাপে পড়লে সিঙ্গেল নিয়ে তা কাটিয়ে উঠতে হয়। শিষ্যদেরও বলেছেন এ ব্যাপারে কিন্তু মাঠে ব্যাটাররা তা পারছেন না। তাছাড়া টেস্টে এখন সন্ধ্যার সময় (টোয়াইলাইট) ব্যাটিং করতে হচ্ছে। ওই সময় দ্রুত কাটবে ভেবে শুধু ব্লক করে যাওয়াকে বুদ্ধিমানের কাজ মনে করছেন না ডমিঙ্গো, ‘আমাদের ম্যাচ পরিকল্পনা আছে। চাপের সময় সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক রোটেট করতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকায় যেমন হলো আমাদের অনেকবারই লাইটের নিচে ব্যাট করতে হয়েছে। এখন টেস্টে এমন হবেই। আম্পায়াররা চাইবে যতক্ষণ সম্ভব খেলা চালানো যায়। তো এই সময়ে খেলা শেষের জন্য অপেক্ষা করা যাবে না। আপনার মনে হবে ৪-৫ ওভার কিন্তু তা ১৬ ওভারও হতে পারে। ডারবান টেস্টে শান্ত, জয় ও মুমিনুল স্বাভাবিক খেলা বাদ দিয়ে ব্লক করা শুরু করেছিল এবং আমরা টানা কিছু উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলাম।’

এই সময়েও কোচের চাওয়া স্বাভাবিক খেলাটা খেলা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো সন্ধ্যায় ব্যাটিং করতে হলেও নিজ দেশে ব্যাটাররা কঠিন অবস্থায় পড়বে না বলে বিশ্বাস ডমিঙ্গোর। তার কারণ পূর্ব অভিজ্ঞতা ‘দক্ষিণ আফ্রিকায় আমরা বাঁহাতি স্পিনের বিপক্ষে ব্যর্থ হইনি, হয়েছি বিদেশি স্পিনারদের বাউন্সে। বাংলাদেশের পিচে বাউন্সটা কম, আর আমাদের ব্যাটাররা এখানে এভাবে খেলেই অভ্যস্ত।’ 

দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যাটিংটা ঠিকঠাক না হলেও বোলিংয়ে স্বস্তি এসেছে বাংলাদেশের। দুই টেস্ট মিলিয়ে ৩৬ উইকেট নিয়েছে বোলাররা। বিদেশে এত উইকেট বাংলাদেশি বোলাররা কখনই পায়নি বলে বিশ্বাস ডমিঙ্গোর। বোলিং নিয়ে দুশ্চিন্তাটা কম কোচের। তাই চিন্তার জায়গা ব্যাটিংটাকেই ধারাবাহিক করার চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন।