আরাম ও স্বস্তিতে কাফতান|360201|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ মে, ২০২২ ০০:০০
আরাম ও স্বস্তিতে কাফতান
মোহসীনা লাইজু

আরাম ও স্বস্তিতে কাফতান

গরমে হালকা ঢিলেঢালা পোশাকেই মেলে আরাম। আরামের পোশাক খুঁজতে গিয়ে তালিকায় প্রথমেই আসে কাফতানের নাম। রুশ সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট দ্বিতীয় নিকোলাসের স্ত্রী আলেকজান্দ্রা ফিওদরভনার পরিহিত পোশাকটি হালের কাফতান।  গরমের প্রিয় পোশাক কাফতান নিয়ে লিখেছেন মোহসীনা লাইজু

কাফতান এখন নানা রূপ ও কাটে পাওয়া যায়। একটা সময় কাফতান বলতে ঘরের নাইটিই ভাবত সবাই। এখন তার কাটিং প্যাটার্ন পাল্টে গিয়ে হয়েছে কাফতান গাউন, কাফতান শর্ট টপ, কাফতান স্টাইলে কুর্তি। ভ্যাপসা গরমে কাফতানের জুরি নেই। গ্রামীণ চেক, ট্রাইবাল প্রিন্ট, পলকা ডট, ফ্লোরাল এমন নানা প্রিন্ট ও ফেব্রিকসে কাফতান শুধু ঘরের পোশাক হয়েই আটকে নেই। ক্লাস, অফিস, পার্টি সবখানেই পরতে পারছেন সব বয়সীরা। ক্যাজুয়াল ও ফরমাল দুটো জায়গায়ই জায়গা করে নিয়েছে। কান চলচ্চিত্র উৎসবে হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি হাজির হয়েছিলেন অলিভ গ্রিন কাফতানে। লকডাউনের সময় কারিনা কাপুর, সোনম কাপুর, আহুজা, মালাইকা অরোরার মতো বলিউডের অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করেছেন কাফতান পরে। এমনকি দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান ও মেহজাবীন চৌধুরীকেও দাওয়াতের পোশাক হিসেবে কাফতানকে বেছে নিতে দেখা গেছে। এখন হরহামেশাই   মেয়েরা নানা কাটের কাফতান পরছেন।

ডিজাইনারের চোখে

কাফতানকে সববয়সীর পোশাক হিসেবে ক্যাজুয়াল ও ফরমাল লুক দিতে ডিজাইনাররা নানা ধরনের নিরীক্ষা করেছেন। হুর-এর ডিজাইনার সৌমিন আফরিন জানালেন, ‘বাড়িতে পরার পাশাপাশি কাফতান এখন লেন্থ ছোট হয়ে ধরনটাই পাল্টে গিয়েছে। তাই লেন্থ কমে সেটা ড্রেস বা টপের মতো হয়ে যাওয়ায় অনেকেই বাইরে পরছেন।  ফেব্রিকস ও নকশায়ও অনেক পরিবর্তন এসেছে। সামনে ফ্রিলের পাশাপাশি বাটন ও লেইসও যোগ হয়েছে। যাদের ভারী চেহারা, তাদের জন্য কাফতানের জবাব নেই। তাদের কাছে এটা দারুণ ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে যারা স্থূল চেহারা বলে সাধারণ ড্রেস পরতে সংকোচ করতেন, তাদের কাছে খুব ভালো অপশন। কাফতানের কারণে ফিগারে একটা ব্যালান্সড শেপ দেখা যাবে। তাই সাধারণ ড্রেস না পরে অনেকে কাফতানে ভরসা পাচ্ছেন।’

করোনার আগে মানুষ সাত-পাঁচ না ভেবে অনেক ধরনের পোশাক কিনে ফেলতেন, যেটা একবারের বিয়েবাড়ি-পার্টি ছাড়া আর হয়তো পরাও যাবে না। কাস্টমাইজড পোশাক বেশি কিনতেন। কমফোর্টের কথা না ভেবেই কিনতেন। লকডাউনে ঘরবন্দি থাকার পর অনেকেরই পোশাক নিয়ে ধারণা বদলেছে। এখন পোশাক কেনা বা পরার সময় আরাম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে একই পোশাক নানাভাবে পরে লুকের পরিবর্তন আনা যায় এটা নিয়ে ভাবছেন। অনলাইন স্টোর নীলাভ-এর ডিজাইনার  শামীম আহমেদ বলেন, ‘কাফতান এমন একটি পোশাক, যাতে সব বয়সীই আরাম বোধ করেন। গর্জিয়াস ও সাদামাটা দুধরনেরই কাফতান এসেছে।’

নানা বৈচিত্র্য

ডিজাইনারদের নানা নিরীক্ষার পর কাফতান এখন দাওয়াতের পোশাকেও জায়গা করে নিয়েছে। শর্ট, লং, অ্যাঙ্কল লেন্থ, থ্রি-কোয়ার্টার সব ধরনের কাফতানই পাবেন। সুতির ফেব্রিকসের কাফতান পরে বাড়িতে বসে কাজ করতেন পারবেন। এই পোশাকটি যে কোনো বয়সের চেহারার জন্য উপযুক্ত। কোনো কোনো ডিজাইনার কাফতানকে ফ্যাশনের এত রকম উপকরণ দিয়ে সাজিয়ে তুলছেন যে, তা অনায়াসে পরে ফেলতে পারেন বিয়েবাড়িতেও। সে কাফতান কটনের না হয়ে সিল্ক বা আরও একটু গর্জিয়াস মেটেরিয়ালের হতে পারে। স্নিকার্সের সঙ্গে সুতির প্রিন্টেড কাফতান মানানসই। ক্লাসে অনায়াসে পরতে পারেন। কোনো কাফতান যদি বেশি খেলানো হয়, তাহলে কোমরে একটা বেল্ট পরে স্মার্ট লুক নিয়ে আসা যায়। প্যান্ট কাটের পায়জামার সঙ্গে যেমন পরা যায়, তেমনি জিনস কিংবা লেগিংস দিয়েও পরতে পারবেন। জমকালো পার্টিতে পরার জন্য বেছে নিতে পারেন ফ্লোর ঝুলের কাফতান। কাপড়টা হতে পারে শিফন কিংবা জর্জেট। এ ছাড়া সুতি, ভিসকস ও সিল্কের কাফতান পাবেন ফ্যাশন হাউজগুলোতে। দিনের বেলার অনুষ্ঠানে পরতে পারেন হালকা কাজের ছোট ঝুলের সার্কেল, অফ শোল্ডার, বাটারফ্লাই, ড্রেপ, ওপেন শোল্ডার কাফতান। তেমনি ডিপ ভি নেক বা গোল গলার কাফতান গরমে আরাম মিলবে।

খুব সহজভাবে কাফতানের নিচের অংশে কিংবা গলার দিকটার কাটে বৈচিত্র্য আনা যেতে পারে। ভি গলা, গোল গলা কিংবা বোট নেক হতে পারে। কাফতানের নিচের দিকটা সেমি সার্কুলার হলে কেপের মতো দেখায়। গলার দিকে একটু ফাড়া থাকতে পারে, টার্সেল বা ফিতা যোগ করতে পারেন। চাইলে কাপড় কিনেও কাফতান বানিয়ে নিতে পারেন। কাফতান বানাতে আড়াই হাত বহরের দুই থেকে সাড়ে তিন গজ কাপড় লাগে। পুরনো শাড়ি, বড় ওড়না দিয়েও তৈরি করতে পারেন কাফতান। কাফতানের নিচের দিকে অসমান কাট আনতে পারেন। জিগজ্যাগ প্যাটার্ন হতে পারে কিংবা সামনের অংশ ছোট, পেছনের অংশ বড় করতে পারেন। আবার নিচের দিকটা একটু গোল করে কেটে ডিম্বাকৃতিও করতে পারেন। হাতের অংশ কেটে সুবিধামতো ছোট করে নিতে পারেন। ভাঁজ করে করে সেলাই করলেও নকশাতেও ভিন্নতা আসবে। কাফতানের নিচের অংশে, গলার দিকে বা হাতের অংশে ফ্রিল বা লেইস যোগ করতে পারেন। এ ছাড়া ‘ভি’ আকৃতি গলায় লেইস বা পাইপিং বসিয়ে দিতে পারেন। চওড়া বা চিকন হতে পারে পাইপিং। চাইলে চওড়া পাইপিংয়ের ওপর হ্যান্ড স্টিচের কাজ করতে পারেন।

কোথায় পাবেন

হালের জনপ্রিয় পোশাক কাফতান ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ড দুটো জায়গাই পাবেন। ব্র্যান্ডের মধ্যে আইকনিক ফ্যাশন গ্যারেজ,  উইন্ড শপ, বিডি ফ্যাশন জোন, নীলাভ, হুর বাই সৌমিন আফরিন, লারিভ, পিননে নানা ফেব্রিকসের কাফতান পাবেন। আর নন-ব্র্যান্ডের কাফতান কিনতে যেতে পারেন গাউছিয়া, রাজধানী সুপার মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, যমুনা ফিউচার পার্ক ইত্যাদি। এছাড়া অনলাইনের বিভিন্ন স্টোর থেকে কাফতান কিনতে রবেন। ডিজাইন, ব্র্যান্ড ও ফেব্রিকসের ওপর নির্ভর করে কাফতানের দাম। সুতির ব্র্যান্ডের কাফতান কিনতে পারবেন ৮০০-১৫০০ টাকায়। আর সিনথেটিক পার্টি কাফতান পাবেন ২০০০-৩৫০০ টাকার মধ্যে।