ডেঙ্গু থেকে সাবধান|360225|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ মে, ২০২২ ০০:০০
ডেঙ্গু থেকে সাবধান

ডেঙ্গু থেকে সাবধান

ডেঙ্গু জ্বর হলো মশাবাহিত ডেঙ্গুর জীবাণু দ্বারা সংঘটিত রোগ। এডিস মশা ডেঙ্গুর বাহক। ডেঙ্গু জ্বর সংক্রমণের উচ্চহার লক্ষ করা যায় বর্ষার সময়। ডেঙ্গুর জীবাণুর চারটি ভাগ বা সেরোটাইপ শনাক্ত হয়। এগুলোর নাম হলো ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪। কোনো ব্যক্তি যে ধরনের বা টাইপের ভাইরাসে আক্রান্ত হবে, রোগ থেকে সেরে ওঠার পর সেই ব্যক্তি সেই টাইপের ভাইরাসের বিরুদ্ধে জীবনব্যাপী ও অন্যান্য টাইপের বিরুদ্ধে শুধু সাময়িক রোগপ্রতিরোধী শক্তি লাভ করবে। তাই একবার এক টাইপের ডেঙ্গুর জীবাণু দ্বারা কেউ আক্রান্ত হলে তার অন্যবার বা পরেরবার অন্য টাইপ দ্বারা আবারও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য ডেঙ্গু জ্বর জীবদ্দশায় বারবার হতে পারে, তবে ভিন্ন ভিন্ন টাইপ দ্বারা। একসঙ্গে একাধিক টাইপে বা দ্বিতীয়বার এডিস মশা ইয়েলো ফিভার, জিকা ভাইরাস, চিকুনগুনিয়া ভাইরাসেরও বাহক।

লক্ষণ : ভাইরাস শরীরে প্রবেশের সাধারণত চার থেকে সাত দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা যায়। লক্ষণগুলো ১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর জীবাণুতে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বরের মতো সামান্য উপসর্গ থাকে।

প্রথম ১-৫ দিন : হঠাৎ উচ্চমাত্রার জ্বর দেখা দেয়, যা প্রায় ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। শরীরে কাঁপুনি, মাথাব্যথা, অক্ষিকোটরের পেছনে ব্যথা হয়। হাড়ের জোড়ায় বা গিঁটে ও মাংসপেশিতে প্রবল ব্যথা। এ ছাড়া ত্বকে লাল ফুসকুড়ি অথবা হামের মতো র‌্যাশ দেখা যায়।

৫-৭ দিন : রক্তক্ষয়ী ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার ও ডেঙ্গু শক সিনড্রোম দেখা দিতে পারে ৫ থেকে ৭ দিনের মাথায়। এ সময় নাক, মাড়ি থেকে রক্তপাত হতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়। রোগের তীব্রতা অনুযায়ী এটাকে চারটি উপপর্বে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে।

ধাপ ১ : কোনো রক্তপাতের চিহ্ন নেই, শুধু পজিটিভ টুর্নিকোয়েট টেস্ট (রক্তচাপ মাপার যন্ত্র দিয়ে প্রেশার বাড়ালে ত্বকে রক্ত জমতে দেখা যায়)। ধাপ ২ : নাক, মাড়ি, দাঁত, মলের সঙ্গে রক্তপাত।

ধাপ ৩ : নাড়ি দুর্বল ও হৃৎস্পন্দন দ্রুত। রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কম। পালস প্রেশার লো। ধাপ ৪ : রক্তচাপ ও নাড়ির স্পন্দন পাওয়া যায় না। রোগী শকে চলে যায়। উল্লেখ্য, ধাপ ১ ও ২-কে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বা ডিএইচএফ এবং ধাপ ৩ ও ৪-কে ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের আওতাভুক্ত।

রোগ শনাক্ত : প্রথম সাত দিনে পিসিআর, ভাইরাল অ্যান্টিজেন ডিটেকশন প্রায় নির্ভুলভাবে রোগ শনাক্ত করতে পারে। জ্বরের পাঁচ-সাত দিন পর থেকে আইজি অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়। ডেঙ্গু জ্বরের জটিলতা হলো রক্তের প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা কমে যাওয়া। রক্তে অণুচক্রিকার স্বাভাবিক মান প্রতি মিলি লিটার ১,৫০০০০ থেকে ২,৫০০০০। ডেঙ্গু জ্বরে তা দ্রুত কমে যায়। তা যদি প্রতি মিলি লিটারের ২০,০০০-এ থাকে, তবে রোগী মারাত্মক জটিলতার ঝুঁকিতে পড়ে। ‘রোগীর অবস্থার উন্নতি হতে থাকলে দু-চার দিনের মধ্যে অণুচক্রিকার সংখ্যা চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে যেতে থাকে। রক্তে হিমাটোক্রিটের বাড়তি মানও খারাপ। রক্তের প্লাজমা রক্তনালি ভেদ করে বাইরে টিস্যুতে নিঃসরিত হওয়ার কারণে এটা ঘটে। এ ছাড়া রক্তের শ্বেতকণিকা কমে যাওয়া, অ্যালবুমিন মান কমে যাওয়ার মতো সমস্যা পরিলক্ষিত হয়। ক্যাপিলারি লিকেজের কারণে বুকে ও পেটে পানি জমতে পারে।

চিকিৎসা : ডেঙ্গু জ্বরের সুনির্দিষ্ট ওষুধ নেই। জ¦রের জন্য প্যারাসিটামল গ্রহণ করতে হবে। অ্যাসপিরিন বা এ-জাতীয় ওষুধে জ্বর ভালো হয় না। বরং রক্তপাতের আশঙ্কা বাড়ে। বিশ্রাম নিতে হবে, বেশি বেশি তরল খাবার ও পানীয় পান করা। তবে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষত জ্বর সম্পূর্ণ চলে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টার পরে যদি রোগী বেশি অসুস্থতা অনুভব করে, তবে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। মারাত্মক রূপ ধারণ করলে প্রয়োজনে রক্ত বা প্লাজমা সঞ্চালন করতে হয়।