আগে আন্দোলনের রূপরেখা পরে জাতীয় সরকার|360229|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ মে, ২০২২ ০০:০০
আগে আন্দোলনের রূপরেখা পরে জাতীয় সরকার
রেজাউল করিম লাবলু

আগে আন্দোলনের রূপরেখা পরে জাতীয় সরকার

আন্দোলন সংগ্রাম ও জাতীয় সরকারের রূপরেখা দুটিই চূড়ান্ত করার কাজ জোরেশোরে চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। শিগগিরই আন্দোলনের রূপরেখা উপস্থাপন করা হবে। এরপর করা হবে জাতীয় সরকারের রূপরেখা। গতকাল শুক্রবার বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

তারা বলেন, জাতীয় সরকারের রূপরেখা ঘোষণার পর তার পক্ষে জনমত তৈরি করতে সভা-সমাবেশের মতো কর্মসূচি থাকবে বিএনপির। এরপর ধাপে ধাপে কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আগে আন্দোলন সংগ্রামের একটি রূপরেখা ঘোষণা করা হবে। এরপর জাতীয় সরকারের বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। আন্দোলন সংগ্রামের সেই রূপরেখা শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। এরপর সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভিশন-২০৩০ ঘোষণা করেছিলেন। এর মধ্যে চলমান রাজনীতির অনেক সংস্কারের বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল। সেই ভিশনের ওপর আরও কাজ চলছে। ভিশনের মধ্যে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচন কমিশনে শুদ্ধি অভিযানসহ নানান বিষয় আসবে। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে কোনো ইস্যুতে ভিন্নমত এলে গণভোটের মাধ্যমে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধান উল্লেখ করা হবে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হবে। এভাবে জনআকাক্সক্ষার সঙ্গে সংগতি রেখে রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, ‘সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় সরকারের বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়ে আসছে সেগুলো মাথায় রেখেই রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। জাতীয় সরকার ও আন্দোলনের যে রূপরেখা ঘোষণা করা হবে আশা করা যাচ্ছে তাতে সবাই একমত হবেন।’

গত ২৬ মার্চ যুক্তরাজ্য বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয় সরকারের বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেছিলেন, আগে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। নির্বাচনের পর আন্দোলন সংগ্রামে যারা থাকবে তারা নির্বাচনে জিততে না পারলেও সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। এরপর থেকে জাতীয় সরকারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে। এসব আলোচনা ও পর্যালোচনার বিষয়গুলো জাতীয় সরকারের যে রূপরেখা ঘোষণা করা হবে তার মধ্যে থাকবে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, আন্দোলনের রূপরেখা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করবেন। এরপর ঘোষণা করা হবে জাতীয় সরকারের রূপরেখা। তারা বলছেন, অন্য দল বা জোট, যারা এ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় না তারা যুগপৎ আন্দোলন করবে। আন্দোলন সমন্বয় ও কর্মসূচি চূড়ান্ত করার জন্য সবার প্রতিনিধি নিয়ে ‘স্টিয়ারিং কমিটির’ মতো একটি কমিটি থাকবে।

বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলো নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করে আসছে। এ দাবিতে কোনো কোনো দল মাঠেও আছে। এছাড়া ধর্মভিত্তিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নিরপেক্ষ সরকারের দাবি জানিয়ে আসছে।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোটগ্রহণের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ দুটি বিষয়ে বিএনপি তাদের আগের অবস্থান জানিয়ে বলেছে, শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে দলটি নির্বাচনে যাবে না এবং হতেই দেবে না। ইভিএমে ভোটগ্রহণের বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে দলটি।

সরকারবিরোধী আন্দোলনের বিষয়ে বিএনপি বহুদিন বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছে। কখনো বলেছে, ঈদের পর আন্দোলনে নামবে তারা, কখনো বলেছে, অমুক মাসে আন্দোলন শুরু হবে। এমন বক্তব্য নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা হাস্যরস করেন। জনগণও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয় না। সে কারণে বিএনপি এখন ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামার কথা বলছে না। দলটি বলছে, ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়।

গতকাল শুক্রবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপির জাতীয় ঐক্যের ভাবনাকে কেন্দ্র করে একটা বক্তব্য বা বিবৃতি দেবে যার মধ্য দিয়ে সবাই একত্রিত হবে এবং আগামী দিন পথে চলবে। আমার মনে হয় সেই প্রচেষ্টা ও ভাবনা আমাদের মধ্যে চলমান। যেকোনো মুহূর্তে আমরা জাতির সামনে সেটা উপস্থাপিত করব।’

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় অভিযোগে করে বলেছেন, ‘প্রতিবেশী ও বাংলাদেশ সরকারের কতিপয় লোক ফেরি করে বেড়াচ্ছে কাকে কয়টা আসন দিয়ে নির্বাচনে নেবে। এসব কথা বলার অধিকার কে দিয়েছে?’ আসন বণ্টনকারী এই দালালদের ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা সরকারের ফাঁদে পা দেবে, তাদের প্রতিহত করতে হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি যাদের বয়কট করছে তাদের একটি অংশ সরকারের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে নির্বাচনে যেতে চায়। এজন্য সরকারের সঙ্গে আসন ভাগাভাগিতে যেতে চায়। বিএনপি আসন ভাগাভাগির নির্বাচনে যাবে না, এমনকি সে নির্বাচনও হতে দেবে না।’