আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফার মৃত্যু|360230|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ মে, ২০২২ ০০:০০
আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফার মৃত্যু
বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক
রূপান্তর ডেস্ক

আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফার মৃত্যু

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান গতকাল শুক্রবার  মারা  গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মৃত্যুতে দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শোক পালনের পাশাপাশি দেশটির সরকারি বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান তিন কার্যদিবস বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে আমিরাতের

প্রেসিডেন্টের কল্যাণবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তার মৃত্যুর পর মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে শোক পালন ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ওয়ামের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শোক পালনের সময় দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। এ ছাড়া ফেডারেল ও স্থানীয় সব সরকারি কার্যালয়, মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুক্রবার থেকে শুরু করে আগামী তিন দিনের জন্য স্থগিত থাকবে।

প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বেশ কয়েক বছর ধরে নানা ধরনের শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। যে কারণে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মকাণ্ড থেকে দূরে ছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে তার ভাই ও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদ আমিরাতের ডি-ফ্যাক্টো শাসক হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার উত্তরসূরির ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

২০০৪ সালে আমিরাতের প্রথম প্রেসিডেন্ট শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের মৃত্যুর পর তার ছেলে শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। এর এক দশক পর তিনি স্ট্রোকের শিকার হন, তখন থেকেই তাকে জনসম্মুখে খুব বেশি দেখা যায়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ারটির নাম প্রয়াত শাসকের নামে বুর্জ খলিফা রাখা হয়। শেখ খলিফা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট এবং আবুধাবির ১৬তম শাসক ছিলেন।

১৯৪৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আমিরাতের আল মুওয়াইজি ফোর্টে জন্মগ্রহণ করেন শেখ খলিফা। আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম প্রেসিডেন্ট শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের জ্যেষ্ঠ পুত্র ছিলেন তিনি।

এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা : সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মৃত্যুতে আজ শনিবার এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ‘বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ইন্তেকালে আগামী ১৪ মে, শনিবার (আজ) বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে এক দিনের শোক পালন করা হবে।’

এ উপলক্ষে আজ বাংলাদেশের সব সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

আমিরাতের প্রেসিডেন্টের রুহের মাগফিরাতের জন্য আজ দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তার আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

রাষ্ট্রপতির শোক : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রপতি তার শোকবার্তায় বলেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন পরীক্ষিত ও অকৃত্রিম বন্ধু হারাল। রাষ্ট্রপতি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার পরিবার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর শোক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স এবং আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি সুপ্রিম কমান্ডার শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং ইউএইর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী, দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের কাছে আলাদা চিঠিতে সে দেশের প্রেসিডেন্ট এবং আবুধাবির শাসক শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের কাছে এক শোকপত্রে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকার এবং জনগণ আমার সঙ্গে আপনার মহামান্যের প্রতি গভীর ও আন্তরিক সমবেদনা জানাতে এবং আপনার মাধ্যমে রাজপরিবারের শোকসন্তপ্ত সদস্য এবং আমিরাতের ভাইদের শোক ও দুঃখের এই সংকটময় মুহূর্তে সমবেদনা জানাতে যোগ দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মহামান্য বাংলাদেশের একজন মহান বন্ধু ও শুভাকাক্সক্ষী ছিলেন এবং বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের একজন অভিভাবক ছিলেন।’ তিনি বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

মাকতুমের কাছে আরেকটি শোকপত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার এবং আমার নিজের পক্ষ থেকে, আমি আপনাকে ও আপনার মাধ্যমে রাজপরিবারের শোকাহত সদস্যদের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মহামান্য প্রেসিডেন্ট এবং আবুধাবির শাসক শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মৃত্যুতে আমাদের গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহানুভূতি জানাই।’

তিনি বলেন, মহামান্য শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সংযুক্ত আরব আমিরাতের একজন গতিশীল ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আর্থসামাজিক পরিবর্তনের জন্য এবং একে একটি সমৃদ্ধ ও অগ্রগামী জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে তার সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

জাপার শোক : আমিরাতের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় আমিরাতের প্রয়াত প্রেসিডেন্টের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং দেশটির শোকার্ত নাগরিকদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।

জিএম কাদের তার শোকবার্তায় বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নেতা হিসেবে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান অসামান্য অবদান রেখেছেন। বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করতে তার অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরবর্তী নেতৃত্বও বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের ধারা অব্যাহত রাখবেন।

আমিরাতের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে একইভাবে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাপা মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু।