পি কে হালদারের সম্পদের খোঁজে পশ্চিমবঙ্গে তল্লাশি|360232|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ মে, ২০২২ ০০:০০
পি কে হালদারের সম্পদের খোঁজে পশ্চিমবঙ্গে তল্লাশি
নিজস্ব প্রতিবেদক

পি কে হালদারের সম্পদের খোঁজে পশ্চিমবঙ্গে তল্লাশি

বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আলোচিত পি কে হালদার ও তার সহযোগীর অবৈধ সম্পদের খোঁজে প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অন্তত ১০ জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিনভর ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) আলাদা দল এসব অভিযান চালায় বলে জানিয়েছে ডয়চে ভেলে, পিটিআই ও আনন্দবাজার।

পি কে হালদারের সহযোগী সুকুমার মৃধা, প্রীতিশ কুমার হালদার, প্রাণেশ কুমার হালদার ও তাদের সহযোগীদের নামে থাকা বাড়ি ও সম্পত্তিতে এসব অভিযান চলছে। সবাইকে বাংলাদেশি নাগরিক উল্লেখ করে তাদের নামে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে সম্পত্তি থাকার খোঁজ পেয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ইডি। তাদের মধ্যে সুকুমার মৃধাকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাংলাদেশে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই পলাতক পি কে হালদারের ব্যক্তিগত আইনজীবী এবং তার অর্থ দেখভাল করতেন সুকুমার।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগরের তিনটি জায়গায় একই সঙ্গে তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি। সেখানে সুকুমার মৃধা, প্রণব হালদার ও স্বপন মিশ্রের বাড়িতে একযোগে হানা দেয় এই সংস্থার লোকজন। সুকুমার অশোকনগরের বিভিন্ন জায়গায় জমি কিনে ব্যবসা করেন। সেখানে তার একাধিক বাড়ি-দোকান রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট পিটিআইর বরাত দিয়ে লিখেছে, ইডি নিশ্চিত হয়েছে যে এসব বাংলাদেশি ভুয়া পরিচয় দিয়ে ভারতে কোম্পানিও খুলেছে এবং কলকাতার অভিজাত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সম্পত্তি কিনেছে।

ইডির অভিযানকালে সুকুমারের একটি বাড়ি থেকে প্রচুর অর্থ পাওয়া গেছে বলে অসমর্থিত সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে ডয়চে ভেলে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এই টাকা কোথা থেকে এসেছে সেই বিষয়ে তারা (ইডি) এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। ইডি সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত শেষে জব্দ করা অর্থের উৎস সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হতে পারবে। এর সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থ পাচার মামলার আসামি প্রশান্ত কুমার হালদার (পি কে হালদার) জড়িত কি না তাও তদন্ত রিপোর্ট এলে জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুকুমার বাংলাদেশে বসবাস করলেও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তার অনেক মাছের ঘের আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ইডি।

ভারতীয় তদন্ত সংস্থা ইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে উদ্ধৃত করে পিটিআই জানিয়েছে, ভুয়া তথ্য-পরিচয় এবং ‘রেশন কার্ডে’র মতো জাতীয় কার্ড ব্যবহার করে পি কে হালদার ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়েছেন শিবশংকর হালদার নামে। ভারতীয় পরিচয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হন। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে হাজারো কোটি টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে পি কে হালদার যেসব দেশে টাকা পাচার করেছেন তার মধ্যে ভারতও রয়েছে। তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ রয়েছে।

চোখ রাখছে দুদক : পশ্চিমবঙ্গে সুকুমার মৃধার অবৈধ সম্পদের খোঁজে ভারতের সরকারি তদন্ত সংস্থার অভিযানের খবর আসার পর এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নজর রাখছে বলে জানিয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। কমিশনের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বিডিনিউজকে বলেছেন, ‘বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। এ অভিযানে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ যদি পাওয়া যায় এবং ভারত সরকার তা নিশ্চিত করে, তাহলে সেসব অর্থ বাংলাদেশের আদালতের মাধ্যমে জব্দ হবে এবং তা ফিরিয়ে আনার আইনি সুযোগ আছে।’

তবে দুদকের কোনো অভিযোগ বা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইডি এ অভিযান করছে কি না তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এ পর্যন্ত ৩৪টি মামলা করেছে দুদক। এগুলোর মধ্যে একটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছে দুদক। আরও তিনটি অভিযোগপত্র কমিশনের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। আসামিদের মধ্যে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ১১ আসামি আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ৬৪ জনের বিদেশ যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে আদালতে। এ অর্থ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে পি কে হালদারের ৮৩ সহযোগীর ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। প্রায় এক হাজার কোটি টাকার মূল্যের জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাটসহ অন্যান্য স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে।

সুকুমারের বিপুল সম্পদ : গত বছর ২১ জানুয়ারি সুকুমার মৃধাকে তার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধাসহ গ্রেপ্তার করে দুদক। কমিশনের সেই সময়ের সচিব মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, পি কে হালদার বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পর তার অবৈধ সম্পদ দেখাশোনা করতেন সুকুমার ও অনিন্দিতা মৃধা। পি কে হালদারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানও করেন সুকুমার। পি কে হালদার ভুয়া ঋণ দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্জিত প্রায় ১০০ কোটি টাকা তার মা লীলাবতী হালদারের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে রাখেন। পরে লীলাবতী হালদারের ব্যাংক হিসাব থেকে সুকুমার মৃধা, অবন্তিকা বড়াল ও অনিন্দিতা মৃধার মাধ্যমে আবার পি কে হালদারের কাছে হস্তান্তর ও স্থানান্তর করা হয়। এভাবে তারা মানি লন্ডারিং করেছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য পেয়েছেন।

এছাড়া সুকুমার মৃধার প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পদ এবং তার মেয়ে অনিন্দিতার প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে তখন দুদক সচিব বলেছিলেন, এসব আসলে পি কে হালদারের অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ।