কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব|360250|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ মে, ২০২২ ০০:০০
কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব
গাজীপুর প্রতিনিধি

কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব

মাদক কারবার ও ছিনতাইসহ অপরাধমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় গাজীপুর নগরীর একটি মহল্লায় তাণ্ডব চালিয়েছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। তারা বাড়িঘর ভাঙচুর ও বেশ কয়েকজনকে কুপিয়ে আহত করেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুনিয়া তারগাছ শিংপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

হামলাকারীরা মনিরুল ইসলাম মনি নামে এলাকার একটি বাড়ির মালিককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঘটনার দিন রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়াও এ ঘটনায় আহত আরও অন্তত ১০ জনকে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, কুনিয়া তারগাছ শিংপাড়ার কিশোর গ্যাং নেতা হাবীবুল্লাহ হাবীব ও আরিফের বিরুদ্ধে এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এ দুই সহোদরের নেতৃত্বে প্রতিদিন বিকেল থেকেই এলাকার প্রতিটি অলিগলি ও খোলা মাঠে মাদকের হাট বসে। এ কিশোর গ্যাং সদস্যদের প্রত্যেকের পকেটে থাকে ইয়াবার প্যাকেট। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে শিংপাড়া গলিসহ প্রতিটি শাখা রাস্তা কিশোর গ্যাং সদস্যদের দখলে চলে যায়। আর শুধু মাদক কারবারই নয়, আশপাশের পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বাসায় ফেরার পথে কিশোর গ্যাং সদস্যরা অস্ত্রের মুখ মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। একটি হত্যা মামলায় আটকের পর কিশোর গ্যাং নেতা হাবীব সম্প্রতি জামিনে কারামুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে হাবীব ও আরিফের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাং সদস্যরা শিংপাড়া গলিতে অস্ত্রের মুখে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন গণহারে ছিনতাই করে। এ সময় পাশের বাড়ির মালিক মনিরুল ইসলাম মনির ও সাইফুল ইসলাম হাজারীর বাড়ির কয়েকজন ভাড়াটিয়াও ছিনতাই ও মারধরের শিকার হন। এ খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কিশোর গ্যাং সদস্যরা দল বেঁধে ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয়। এ সময় রাস্তায় যাকে পেয়েছে তাকেই পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে তারা। ঘটনার সময় বাড়ির মালিক মনিরুল ইসলাম মনির ও সাইফুল ইসলাম হাজারী শিংপাড়া গলির একটি দোকানের সামনে বসা ছিলেন। কিশোর গ্যাং সদস্যরা মনিরকে দোকানের সামনে ফেলে উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। সাইফুলকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে সন্ত্রাসীরা মনিরের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালায়। সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে এলাকার সব দোকানপাট বন্ধ ও রাস্তা খালি হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

আহত মনিরের বৃদ্ধা মা সানোয়ারা বেগম বলেন, ‘সন্ত্রাসী হাবীবুল্লাহ থাকে মেম্বারের (কাউন্সিলর) বাড়িতে। তাই কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম দুলাল বলেন, ‘মাদক কারবারি বা কিশোর গ্যাং সদস্যদের কখনোই প্রশ্রয় দেওয়া হয় না। তবে হাবীবুল্লাহ একসময় আমার বাড়িতে নিয়মিত আসত। শাকিল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমিই তাকে পুলিশে সোপর্দ করেছিলাম। জেল থেকে বের হওয়ার পর আমি তাকে আর আশ্রয় দিইনি। বরং তাকে সংশোধনের জন্য বহু চেষ্টা করেছি। কিন্তু খারাপ তো খারাপই থেকে যায়।’

গাছা থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনাটি খুবই লোমহর্ষক। ছিনতাই ও মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিরা একজনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে আহত করেছে। খবর পেয়েই আমরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছি। আশপাশের বিভিন্ন বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের ধরতে এলাকায় ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে।’