ভূমধ্যসাগরে জিম্মি ৯ বাংলাদেশি, মুক্তিপণের টাকা না দিলে হত্যার হুমকি|360352|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ মে, ২০২২ ২০:১২
ভূমধ্যসাগরে জিম্মি ৯ বাংলাদেশি, মুক্তিপণের টাকা না দিলে হত্যার হুমকি
শোয়েব চৌধুরী, হবিগঞ্জ

ভূমধ্যসাগরে জিম্মি ৯ বাংলাদেশি, মুক্তিপণের টাকা না দিলে হত্যার হুমকি

ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া ৯ অভিবাসন প্রত্যাশীকে গত বুধবার জিম্মি করেছে মানবপাচারকারী দালাল চক্র।

আগামী সোমবারের মধ্যে জনপ্রতি সাড়ে আট লাখ টাকা করে দিতে না পারলে, সবাইকে হত্যা করে ভূমধ্যসাগরে লাশ ভাসিয়ে দেয়ার হুমকিও দিয়েছে তারা।

আটক ব্যক্তিদের কয়েকজন তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছেন।

জিম্মি থাকা ৯ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমবাগ গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রাইমারি শিক্ষক আব্দুল মুকিত খানের ছেলে মো. সাজানুর রহমান (৩৫), একই গ্রামের সজলু মিয়ার ছেলে আফজল, সেকুল মিয়ার ছেলে নাসির (২০), হবিগঞ্জ শহরের নোয়াবাদ এলাকার মৃত সফর আলীর ছেলে উজ্জল (২৭)।

জিম্মি থাকা মো. সাজানুর রহমানের ভাই প্রাইমারি শিক্ষক মো. অছিউর রহমান বলেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আমার ভাই সাজানুর ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। মৌলভীবাজারের মর্তৃজা নামে এক দালালের মাধ্যমে সে বেনগাজি পৌঁছে। পরে ছাবু মিয়া নামে আরেক দালালের কাছে সাজানুরকে বিক্রি করে দেয়। সেখানে কোস্টগার্ডের হাতে ধরা পড়লে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ নেয়। পরবর্তীতে দালাল তৈমুর মিয়া ইতালি পাঠানোর দায়িত্ব নেয়। তৈমুরের বাড়ি নবীগঞ্জের ইমামবাড়িতে। তার পরিবার বর্তমানে হবিগঞ্জ শহরের নোয়াবাদ এলাকায় বসবাস করছে বলে জানা গেছে। তৈমুর বর্তমানে ত্রিপোলিতে অবস্থান করছেন।

এদিকে গত বুধবার থেকে প্রত্যেক জিম্মি পরিবারকে সোমবারের মধ্যে সাড়ে আট লাখ টাকা করে দেয়ার জন্য দাবি করছে চক্রটি। অন্যথায় তাদের মেরে ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে।

শিক্ষক অছিউর রহমান বলেন, তার ভাই সাজানুর পাঁচমাস বয়সী এক কন্যার পিতা। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ফেরানোর জন্যই তিনি বিদেশের পথে পা বাড়ান।

‘দালালের হুমকি পেয়ে আমার পরিবারের সকলই খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে কান্নাকাটি করছেন। এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দালালেরা হাতিয়ে নিয়েছে। একদিকে ভাইয়ের জীবন অন্যদিকে দালালদের দাবি পূরণ কীভাবে করব এ নিয়ে চিন্তা করছি।’ 

জিম্মি থাকা মো. নাসির মিয়ার বাবা সেকুল মিয়া বিলাপ করে বলেন, আমি নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। ইতিমধ্যে জমিজমা বিক্রি করে ৯ লাখ টাকা তৈমুর দালালকে দিয়েছি। এখন আরো সাড়ে ৮ লাখ টাকা না দিলে আমার বুকের ধনকে ওরা মেরে ফেলবে। অনেক নির্যাতন চালাচ্ছে ওর ওপর। দয়া করে আমার ছেলেটাকে বাঁচান।’

আফজলের পিতা আফজল মিয়া বলেন, পাঁচ মাসেও দালালেরা তাকে ইতালি পৌঁছাতে পারেনি। ইতিমধ্যে জমিজমা বিক্রি করে ১৬ লাখ টাকা দালালদের দেয়া হয়েছে।

আরেক জিম্মি উজ্জ্বলের শ্বশুর মো. ফারুক মিয়া বলেন, ‘ধার দেনা করে আমাদের না জানিয়েই উজ্জ্বল বিদেশ চলে গিয়েছিল। আমার মেয়ের একটি বাচ্চা সন্তান রয়েছে, ওর কোনো ক্ষতি হয়ে গেলে মেয়ে ও নাতিদের ভবিষ্যৎ কী হবে তা ভেবে পাচ্ছি না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দালালদের  হাতে জিম্মি পরিবারগুলোর আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। তারা বলেছেন, তাদের হাতে কারোরই নগদ টাকা নেই।

বন্দী অভিবাসন প্রত্যাশীদের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, বাংলাদেশি দালালদের হাতেই আটক রয়েছেন তাদের স্বজনরা। বর্তমানে যে চক্রটি তাদের জিম্মি করেছে, তাদের অন্যতম হোতা হলেন হবিগঞ্জের তৈমুর মিয়া।

এদিকে দালাল তৈমুরের স্ত্রীর সঙ্গে জিম্মিদের পরিবার যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তৈমুরের সঙ্গে বেশ কিছু দিন ধরে তার যোগাযোগ নেই।