ইচ্ছাকৃতভাবেই বিধ্বস্ত করানো হয় চীনের সেই যাত্রিবাহী বিমান!|361094|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ মে, ২০২২ ১৫:১৭
ইচ্ছাকৃতভাবেই বিধ্বস্ত করানো হয় চীনের সেই যাত্রিবাহী বিমান!
অনলাইন ডেস্ক

ইচ্ছাকৃতভাবেই বিধ্বস্ত করানো হয় চীনের সেই যাত্রিবাহী বিমান!

যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, ইচ্ছা করেই চীনের জঙ্গলে বিধ্বস্ত যাত্রিবাহী বিমানটিকে দুর্ঘটনায় ফেলা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া বিমানের ব্ল্যাক বক্স তেমনই ইঙ্গিত মিলছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।

গত মার্চে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমানটি কুনমিং থেকে গুয়াংঝৌ যাচ্ছিল। বিমানে ১৩২ জন যাত্রী ছিলেন। ২৯ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে গোত্তা খেয়ে গুয়াংশির পার্বত্য এলাকায় ভেঙে পড়ে বিমানটি। ফ্লাইটরাডার ২৪–এর তথ্য বলছে, ভেঙে পড়ার সময় বিমানের গতি ছিল ১১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। এই দুর্ঘটনায় বিমানের সমস্ত যাত্রীর মৃত্যু হয়।

প্রাথমিক ভাবে মনে করা হয়েছিল, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা। কিন্তু তদন্তকারীরা ব্ল্যাক বক্স খতিয়ে দেখার পর দাবি করেন, কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। দুর্ঘটনার সময় পাইলটদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল। কিন্তু কোনও ভাবেই সাড়া পাওয়া যায়নি। বিমান থেকেও কোনও বিপদসঙ্কেত পাঠানো হয়নি। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ককপিট কারও দখলে চলে গিয়েছিল।

বিমান সংস্থা চায়না ইস্টার্ন জানিয়েছে, পাইলট এবং সহকারী পাইলট দুজনেই সুস্থ ছিলেন এবং তাদের পারিবারিক বা আর্থিক কোনও সমস্যা ছিল না। তা হলে কারা দুর্ঘটনায় ফেলল বিমানটিকে, তা নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

চলতি বছরের ২১ মার্চ মাঝ আকাশ থেকে হঠাৎ নিচে আছড়ে পড়েছিল চীনের একটি যাত্রীবাহী বিমান। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় রক্ষা পাননি কোনো আরোহীই। গভীর জঙ্গলে প্রায় সপ্তাহ খানেক খোঁজ চালানোর পর উদ্ধার করা হয় বিমানের ব্ল্যাক বক্স। আর এই ব্ল্যাক বক্সই প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখার পর চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই জানানো হয়, মার্চ মাসে দুর্ঘটনাকবলিত ওই বিমানটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে মাটির দিকে নাক বরাবর নামিয়ে আনা হয়েছিল, যে কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

এছাড়া চলতি সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্য্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ব্ল্যাক বক্স থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী- কোনো দুর্ঘটনা বা নিয়ন্ত্রণহীনতা নয়, ককপিট থেকে ইচ্ছাকৃতভাবেই বিমানটিকে প্রবল গতিতে মাটির দিকে নামিয়ে আনা হয়েছিল।

‘দুর্ঘটনা’র কবলে পড়া ওই বিমানটি ছিল মার্কিন বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থা বোয়িংয়ের তৈরি। তাই ‘দুর্ঘটনা’র তদন্তে নেমে ব্ল্যাক বক্স খতিয়ে দেখে তারা। আর এরপর মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে যে, ‘ইচ্ছে করে’ মাটির দিকে ধেয়ে গিয়েছিল বিমানটি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তদন্তকারীর বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি, ‘ককপিট থেকেই কারোর নির্দেশে বিমানটি পরিচালনা করা হচ্ছিল’।

এর আগে চীনের পক্ষ থেকে এই ‘দুর্ঘটনা’র একটি প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, বিধ্বস্ত ওই বিমানে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। আর এরপরই নাশকতার তত্ত্ব আরও জোরালো হয়। মনে করা হচ্ছে, বিমানে থাকা কেউ একজন জোর করে ককপিটে প্রবেশ করে এই ‘দুর্ঘটনা’ ঘটিয়ে থাকতে পারে।

গত ২১ মার্চ চীনের কুনমিং থেকে গুয়াংঝুতে যাচ্ছিল বোয়িং ৭৩৭ মডেলের সেই বিমানটি। গুয়াঙশি এলাকায় এলাকায় সেটি ‘দুর্ঘটনার’ কবলে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই দুর্ঘটনাকবলিত স্থানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয় উদ্ধারকারী দল। তবে শেষ পর্যন্ত কাউকেই বাঁচানো যায়নি। এরপরই দুর্ঘটনার কারণ দ্রুত বের করতে নির্দেশ দেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

বিমানের যাত্রাপথের ওপর নজর রাখা ফ্লাইটরাডার২৪-র তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১১ মিনিটে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের কুনমিং থেকে বিমানটি উড্ডয়ন করে। সেটির গুয়াংঝুতে অবতরণের কথা ছিল দুপুর ৩টা ৫ মিনিটে।

উড্ডয়নের ১ ঘণ্টা ৯ মিনিট পর দেখা যায়, ছয় বছরের পুরোনো বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমানটি ভূপূষ্ঠের ২৯ হাজার ১০০ ফুট ওপরে আছে। কিন্তু এরপরই মাত্র দুই মিনিট ১৫ সেকেন্ড পরে তা ৯ হাজার ৭৫ ফুটে নিচে নেমে যায়।

এর মাত্র ২০ সেকেন্ড পরেই সেই উচ্চতা নেমে আসে মাত্র ৩ হাজার ২২৫ ফুটে। এর কয়েক সেকেন্ড পরই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।