সৌমি ‘আত্মহত্যা’-কাণ্ডের নেপথ্যেও পল্লবীর লিভ-ইন সঙ্গী!|361105|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ মে, ২০২২ ১৬:২৫
সৌমি ‘আত্মহত্যা’-কাণ্ডের নেপথ্যেও পল্লবীর লিভ-ইন সঙ্গী!
অনলাইন ডেস্ক

সৌমি ‘আত্মহত্যা’-কাণ্ডের নেপথ্যেও পল্লবীর লিভ-ইন সঙ্গী!

শুধুমাত্র অভিনেত্রী পল্লবী দে-ই নয়, আট বছর আগে সাগ্নিক চক্রবর্তীর আরও এক বান্ধবীর অকালমৃত্যু ঘটেছিল। সাগ্নিকের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনের কারণেই আট বছর আগে সৌমি মণ্ডল নামে হাওড়ার জগাছার একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রী আত্মঘাতী হয়েছিলেন বলে অভিযোগ তার পরিবারের। পল্লবীর মৃত্যুর পর নতুন করে সামনে এসেছে সৌমির মৃত্যুর ঘটনা।

সৌমির বাবা অজয় মণ্ডলের বক্তব্য, ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ তার মেয়ে সৌমির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় ঘর থেকে। সেই সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। অজয়ের দাবি, সৌমির সঙ্গে সাগ্নিকের প্রেম-ভালবাসা ছিল। সৌমি এবং সাগ্নিক দুজনেই হাওড়ার জগাছার কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে পড়ত। এর পর তারা ভর্তি হন ফোর্ট উইলিয়াম কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে। একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ‘আত্মহত্যা’ করেন সৌমি। সেই সময় দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়তেন সাগ্নিক।

অজয়ের অভিযোগ, ‘সাগ্নিক চক্রবর্তীই আমাার মেয়ের মৃত্যুর জন্য একশো শতাংশ দায়ী। সাগ্নিকের সঙ্গে সৌমির প্রেম-ভালবাসা ছিল। আমাদের বাড়িতে ওর যাওয়া-আসা ছিল। আমি বারণ করতাম। কারণ সাগ্নিকের চরিত্র ভাল নয়। ও আমার মেয়ের সঙ্গে রাস্তাঘাটে দুর্ব্যবহার করত। পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটিয়েছিল। অন্য ছেলেকে দিয়ে বিরক্ত করত। ওকে পুলিশের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। জগাছা থানার পুলিশের কাছে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। কিন্তু জগাছা থানার পুলিশ তা সমর্থন করেনি। অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন ওদের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছিল। সেই সম্পর্ক ২০১৪ সাল পর্যন্ত টিকে ছিল। মেয়ের মৃত্যুতে আমরা ব্যথিত। তবে পল্লবীর বাবা-মা আজ সেই সাগ্নিককে বিচারের আওতায় আনতে পেরেছেন। সাগ্নিক সরে গিয়েছিল সম্পর্ক থেকে। কিন্তু তার আগে ও অন্য একটি ছেলের সঙ্গে মেয়েকে জড়িয়ে দিয়েছিল। সেই টানাপড়েনেই ওর মৃত্যু হয়’।

সৌমির মা ইলা মণ্ডল বলছেন, ‘ঐন্দ্রিলার কথা এখন নানা জায়গায় শুনতে পাচ্ছি। মনে হচ্ছে, ওকে গিয়ে মারি। এত মিথ্যা কথা কেন বলছে ও! ও তো আমার মেয়ের সময় থেকে সাগ্নিকের বন্ধু। আমার মেয়ে মারা যাওয়ার পর সাগ্নিককে নিয়ে ঐন্দ্রিলা আমাদের বাড়িতে এসেছিল। সে কী করে এখন ওই কথা বলে? আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য সাগ্নিক তো দায়ী বটেই। আমার মেয়ে ১৬ বছর বয়সে মারা গিয়েছে। ওরা বাইরে গন্ডগোল করেছে, মারপিট করেছে। এমন খবরও আমি পেয়েছি। সাগ্নিক আমার বাড়িতে দুবেলা আসত। মেয়েকে টিউশনও ঠিক করে দিয়েছিল’।

সাগ্নিকের বান্ধবী ঐন্দ্রিলা মুখোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তিনি কোনও দিন পল্লবীর ফ্ল্যাটে যাননি। সাগ্নিকের সঙ্গে তার পরিচয়ও পল্লবীর সূত্র ধরে।

তবে পল্লবীর গৃহকর্মী বলছেন, পল্লবীর উপস্থিতিতেও নাকি একাধিক বার তার ফ্ল্যাটে এসেছিলেন ঐন্দ্রিলা। এমনকি পল্লবী বেরিয়ে যাওয়ার পরও ফ্ল্যাটে সাগ্নিকের সঙ্গে থেকে গিয়েছিলেন ঐন্দ্রিলা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয় পল্লবী দে-র লিভ-ইন সঙ্গী সাগ্নিক চক্রবর্তীকে। তারপরই এই চাঞ্চল্যকর দাবি উঠে এল পল্লবীর পরিচারিকা সেলিমা সর্দারের কাছ থেকে। বুধবার সকালে গড়ফা থানায় উপস্থিত হন সেলিমা।

তিনি দাবি করেছেন, পল্লবী থাকাকালীন সাগ্নিকের সঙ্গে দেখা করতে একাধিক বার ফ্ল্যাটে এসেছিলেন তার বান্ধবী ঐন্দ্রিলা সরকার। পরে পল্লবী কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পরও সাগ্নিক ও ঐন্দ্রিলা দরজা বন্ধ করে থাকতেন। সাগ্নিক এবং ঐন্দ্রিলার ঘনিষ্ঠতা তার ভাল লাগেনি বলেও সেলিমা জানিয়েছেন।

তার আরও দাবি, ইদের দিনে ওই ফ্ল্যাটে এসেছিলেন ঐন্দ্রিলা। গত শুক্র এবং শনিবার পার্টি করতে ওই ফ্ল্যাটটিতে আসেন সাগ্নিকের বন্ধুরা। সেখানেও উপস্থিত ছিলেন ঐন্দ্রিলা।

সেলিমা পুলিশকে আরও জানিয়েছেন, ঘটনার দিন অর্থাৎ রবিবার তাকে নিয়ে সাঁতরাগাছির বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল পল্লবীর। কিন্তু সকালে সেলিমা ফোনে পল্লবীকে জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি যেতে পারবেন না। এই নিয়ে ফোনে দুবার পল্লবীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয় বলেও সেলিমা জানিয়েছেন। এর পর দুপুরবেলায় তিনি পল্লবীর মৃত্যুর খবর পান।

সাগ্নিক এবং পল্লবীর মধ্যে নিত্যদিন ঝগড়া এবং কথা-কাটাকাটি হত বলেও দাবি করেছেন সেলিমা।

 

ওদিকে পল্লবীর প্রাক্তন রুমমেট অভিনেত্রী প্রত্যুষাও বলেছেন সাগ্নিক তার প্রাক্তন স্ত্রীকে নিয়েও পল্লবীর ফ্ল্যাটে আসত।

প্রত্যুষা বলেন, ‘সাগ্নিকের সঙ্গে সম্পর্ক হওয়ার আগে থেকে আমি পল্লবীকে চিনি। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে পল্লবীর সঙ্গে সাগ্নিক, ঐন্দ্রিলা, রেহান (পল্লবীর প্রাক্তন প্রেমিক) আরও অনেকের অনেক বছরের বন্ধুত্ব। ওরা এক জায়গায় থাকত। হাওড়ায়। কিন্তু আমি ওকে যখন থেকে চিনি, তখন সাগ্নিকের নাম শুনতাম, কেবল ওর বন্ধু হিসেবে। ২০২০-র লকডাউনের আগে পর্যন্ত আমি আর পল্লবী গরফার একটি ফ্ল্যাটে থাকতাম। সেখানে একাধিক বার সাগ্নিক ওর ‘স্ত্রী’ সুকন্যাকে নিয়ে আসত। ওরা তিন জন একসঙ্গে ঘুরতেও যেত নানা জায়গায়। তার পরে কবে যে গল্পটা ঘুরে গেল জানি না’।

‘পল্লবীর কাছ থেকেই জানতে পারি, সুকন্যার সঙ্গে সাত বছরের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিল সাগ্নিক। পল্লবীকে বলত, দমবন্ধ লাগে। কিন্তু এত বছরের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কোনও খুঁটির প্রয়োজন। আসলে পল্লবীই সেই খুঁটিতে পরিণত হয় সাগ্নিকের জীবনে’।

‘লকডাউনে আমি আর পল্লবী যে যার বাড়ি চলে যাই। তার পরে দেখতে পাই, সাগ্নিকের সঙ্গে পল্লবীর প্রেম হয়েছে। ওরা সেই ফ্ল্যাটেই থাকতে শুরু করে। আমি বাড়িতেই থেকে যাই। তার পর গত মাসে ওরা গড়ফাতেই অন্য একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়। সেখানেই এই ঘটনা’।

‘এর মধ্যে ঐন্দ্রিলার গল্পটা একটু অন্য। রেহানের সঙ্গে যখন পল্লবীর বিচ্ছেদ হয়, ঐন্দ্রিলার খুব খারাপ লেগেছিল। ওর রাগ হয়েছিল পল্লবীর উপরে। ফেসবুকে পল্লবীকে নিয়ে নানা ধরনের আজেবাজে কথা লেখা শুরু করে ও। তখন ঐন্দ্রিলার সঙ্গে পল্লবীর সম্পর্ক তিক্ততায় পরিণত হয়। কিন্তু গত ছয় মাসে আবার ওরা পুরনো বন্ধুত্বটাকে ফিরিয়ে আনে। কিন্তু সেই সময়ে আমি সেটা মেনে নিতে পারিনি। খারাপ লেগেছিল। আমি পল্লবীকে বলতাম, ‘যার সঙ্গে এত খারাপ হয়ে গিয়েছিল সম্পর্ক, তার সঙ্গে কেন আবার বন্ধুত্ব করছিস তুই?’ কিন্তু পল্লবী শোনার মেয়ে নয়। ও আসলে খুব উদার মনের মানুষ ছিল। তিক্ততা ভুলে যেতে পারত। কিন্তু আমি পারিনি। তাই গত ছয় মাস খুব বেশি কথাবার্তা হয়নি আমাদের। কিন্তু সাগ্নিকের সঙ্গে সমস্যা হলে আমাকে ফোন করত। আমি সাহায্য করতাম। এক দিন বলেছিল, ‘তোর সঙ্গে কথা না বললে হয় না আমার’।

‘গত কয়েক মাসে একে অপরকে সময় দিতে পারছিল না বলে খুব অশান্তি হচ্ছিল ওদের মধ্যে। সে কথা পল্লবীই আমাকে জানায়। আমি পরামর্শ দেই, কয়েক দিন আলাদা থাক তোরা। একটু শান্ত থাক, তার পরে একে অপরকে ছেড়ে থাকতে না পারলে আবার এক ছাদের তলায় চলে আয়। ঠিক মানিয়েও নিত একে অপরকে’।

‘কিন্তু তার পর কী এমন হল? কেন এমন করলি পল্লবী? এতটাই কষ্টে ছিলি তুই?’

গতকাল গ্রেপ্তারের পর সাগ্নিকের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।  অভিনেত্রী পল্লবী দে মৃত্যু-মামলায় তাঁর বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে সাগ্নিক চক্রবর্তীকে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের বিরুদ্ধে খুন, জালিয়াতি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ-সহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।