এবার নিজেকে বেবিসিটার বলার ব্যাখ্যা দিলেন ফারুকী|361114|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ মে, ২০২২ ১৮:০৩
এবার নিজেকে বেবিসিটার বলার ব্যাখ্যা দিলেন ফারুকী
অনলাইন ডেস্ক

এবার নিজেকে বেবিসিটার বলার ব্যাখ্যা দিলেন ফারুকী

বেবিসিটিং নিয়ে পোস্ট করার পর অনলাইনে আক্রান্তের শিকার হয়ে বেশ কড়া ভাষায় পাঠক দর্শক ও সমালোচনাকারীদের জবাব দিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী।

বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া বক্তব্যে তিনি ভুল বোঝার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সঙ্গে সমালোচনাকারীদের মাস্টারের ভূমিকা নিয়ে বিব্রতকর অনুভূতির ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

নিচে তার ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে দেয়া হল-

‘আমি অনলাইনে ছড়ানো কথাবার্তার উত্তর দেয়া বন্ধ করছিলাম অনেক আগে, কারণ এইটা হইলো সময় এবং এনার্জি নষ্টের মোস্ট প্যাথেটিক ওয়ে।

এর ভালো দিক হচ্ছে জীবন শান্ত সুন্দর হয়। আর একটা খারাপ দিক হচ্ছে, অনেক আজাইরা কথা বারবার উচ্চারিত হইতে হইতে সত্যের মতো রূপ ধারণ করে।

আজকে এই বিষয়টা নিয়া বলতেছি কারণ এখানে আমার মেয়ে জড়িত। যখন আপনাকে কেউ বুঝিয়ে দিবে আপনি আপনার মেয়ের জন্য যথেষ্ট করছেন না, তখন কেমন রাগ লাগতে পারে বলেন?

“বেবিসিটিং” কথাটার জোক নিয়া ব্যাপারটা এত দূর গড়াইছে যে কেউ কেউ আগ বাড়াইয়া শিক্ষাও দিচ্ছে যে বাচ্চা বড় করা মায়ের একা দায়িত্ব না। আপনি পিতৃতান্ত্রিকতা থেকে বের হয়ে আসেন। আই মিন সিরিয়াসলি পিপল! দুনিয়াটা এক আজব জায়গা হয়ে গেছে। এখানে যে কেউ যে কোনো বিষয়ে জ্ঞান দিতে পারে। আমার ইনবক্স প্রিন্ট করলে এটা মোটামুটি একটা টেক্সট বুক হয়ে যাবে।

আমাদের ঘরের ভেতর কি হয়, বাচ্চা বড় করার ক্ষেত্রে কার কি রোল- এইসব না জেনেই আমরা শিক্ষকের ভূমিকায় বসে যাই।

গাইজ, আমাদের দেশের অভিনেতা অভিনেত্রীরা হলিউড বা এমনকি বলিউডের মতোও অর্থ বা সাপোর্ট সিস্টেম পায় না। ফলে একজন অভিনেত্রী যদি সদ্য মা হয় তার জন্য কাজে ফিরতে অনেক সময় লাগে। কিন্তু তিশা চায় না, সে তার কাজ কর্ম থেকে অনেক দিন দুরে থাকুক। আমিও চাই না। ফলে ওর কোনো কাজ আসলে আমি আমার কাজ বন্ধ করে ইলহামকে অ্যাটেন্ড করতে চাই। কিন্তু মুশকিল হলো প্রোডাকশনগুলো এই বাড়তি হ্যাপা নেয়ার জন্য খুব যে তৈরি তা বলা যাবে না। তারপরও কাজের বা ট্যুরের কথা আসলে, তিশা বলে, আমাদের বেবিসিটার নিতে দিতে হবে। বেবিসিটারের জন্য ভ্যান বা টিকিট বা হোটেলের ব্যবস্থা করতে হবে যত দিন না ইলহাম কিছুটা শক্ত সামর্থ্য হচ্ছে। এবং আমি সব সময় হাসিমুখে বলি ‘বেবিসিটার কোটায় আমাকে ইনক্লুড করো, করে বলো আমি যাচ্ছি।’

আর বাচ্চা বড় করার দায়িত্ব মায়ের একা এটা কোথায় পাইছেন? আমার আগের লেখাটা ধরে কেউ কেউ বলছে, কেন আপনি নিজেকে হেল্পিং হ্যান্ড বলছেন?

ভাইরে ভাই, জীবনে কিছুটা বিনয় ভালো। আমি চব্বিশ ঘণ্টা বাচ্চাকে অ্যাটেন্ড করলেও সেটা বড় করতে রাজি না। আর চব্বিশ ঘণ্টা অ্যাটেন্ড করলেও আমার কাছে এই মুভির স্টারিং রোল অলওয়েজ মা। বাবা কেবল সাপোর্টিং রোলের ক্রেডিটই পাইতে পারে।’