সৌদি আরবে গাড়ি চুরি মামলার সাজা শেষে ঢাকায় মোবাইল চুরি|361306|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ মে, ২০২২ ২১:৪৩
সৌদি আরবে গাড়ি চুরি মামলার সাজা শেষে ঢাকায় মোবাইল চুরি
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবে গাড়ি চুরি মামলার সাজা শেষে ঢাকায় মোবাইল চুরি

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোবাইল চোর চক্রের তিন সদস্যকে সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

তারা হচ্ছেন আজিজ মোহাম্মদ (৪৫), রনি হাওলাদার (৪০) ও মো.  জাকির হোসেন(২৫)। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কমলাপুর রেল স্টেশন, গুলিস্তান গোলাপশাহর মাজারসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি ব্র্যান্ডের ১৭টি মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়।

ডিবি জানায়, গত ২৩ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মো. মাসুদ সারওয়ারের অফিস কক্ষে ঈদুল ফিতরের অগ্রিম টিকেট বিক্রয় সংক্রান্তে সংবাদ সম্মেলন চলাকালে দুটি মোবাইল ফোন, একটি ওয়ালেটের ভেতর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও  নগদ ৪৫ হাজার  টাকা চুরি হয়। বিষয়টি বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারের পর ভাইরাল হয়। এ ঘটনার তদন্তে নামে ডিবির গুলশান বিভাগ। এর একপর্যায়ে বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে উক্ত চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার ও চোরাই মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

ডিবির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান জানান,  সংবাদ সম্মেলন চলাকালে স্টেশন ম্যানেজারের ফোন ও ওয়ালেট চুরির কথা স্বীকার করেছে গ্রেপ্তার আজিজ মোহাম্মদ। তিনি পবিত্র কোরআনের হাফেজ। দীর্ঘ ৩৩ বছর সৌদি আরবে ছিলেন। সৌদি আরবে বিভিন্ন মালিকের গাড়ির চালকের কাজ করতেন, ড্রাইভিং করতে করতে তার গাড়ি চুরির নেশা হয়। তখন থেকে তিনি বিভিন্ন দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি চুরি করতেন। এক পর্যায়ে সৌদি আরবে ২০১৫ সালে গাড়ি চুরির মামলায় সৌদি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। সেই মামলায় তিন বছর সাজা হয়। সাজা ভোগ করে ২০১৮ সালে বাংলাদেশে এসে কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান নিয়ে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষাকতা শুরু করেন। সেখানে মাদ্রাসায় মোবাইল চুরি করে ধরা পড়লে তার চাকরি চলে যায়। তারপর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন মেসে অবস্থান করে মোবাইল চুরি শুরু করেন।

ডিবির কর্মকর্তারা জানান, একটি মোবাইল চুরি করতে তিন থেকে চার সেকেন্ড সময় নেন চোরের দল। চুরি করা মোবাইলগুলো নিয়ে রনি হাওলাদার ও ফকিরাপুলের জাকিরের কাছে ১৫০০-১৮০০ টাকায় বিক্রি করে দেন। জাকির চোরাই মোবাইলগুলো কিছু দিন তার হেফাজতে রেখে লক ভাঙা, আইএমইআই পরিবর্তন করে শহরের সাধারণ মানুষের কাছে এবং বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম বিক্রয় ডটকম ইত্যাদিতে বিজ্ঞাপন দিয়ে পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। যে সব মোবাইলের লক ভাঙতে বা আইএমইআই পরিবর্তন করতে না পারেন সেসবমোবাইলের বিভিন্ন পার্টস খুলে বিক্রি করে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আজিজ মোহাম্মদ  স্বীকার করেন, তিনি তিন বছর ধরে রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশন, ঢাকা মেডিকেল, টিএসসি চত্তর, নগর ভবন, গুলিস্থান, ধানমন্ডি লেক, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতি সপ্তাহে ৮/১০টি করে মোবাইল চুরি করে। চোরাইকৃত মোবাইল রনি হাওলাদার ও জাকির হোসেনের কাছে বিক্রি করেন।

এ ঘটনায় রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশন থানায় মামলা হয়েছে।