‘দেশে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার ৫৬ শতাংশ নারী’|362428|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ মে, ২০২২ ২১:৪১
‘দেশে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার ৫৬ শতাংশ নারী’
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘দেশে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার ৫৬ শতাংশ নারী’

দেশে কর্মক্ষেত্রে ৫৬ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার হন। ফলে তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ভয়ের সঞ্চার কাজ করে। এছাড়া ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ নারী গণপরিসরে বিভিন্ন রকম হয়রানির শিকার হন এবং ৮৬ দশমিক ৮ শতাংশ নারী ও কিশোরী নিজ পরিবারেই বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার।

বুধবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এবং জাগো ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘সহিংসতার ভয়, আর নয়’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। সংলাপটি পরিচালনা করেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর গার্লস রাইটের পরিচালক কাশফিয়া ফিরোজ।

প্রায় ১২ হাজার অংশগ্রহণকারীর ওপর পরিচালিত জরিপের ফলাফল তুলে ধরে কাশফিয়া ফিরোজ বলেন, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭৪ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষক, সিনিয়র স্টুডেন্ট দ্বারা বিভিন্ন বিরূপ ও অশালীন মন্তব্যের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। এছাড় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিরূপ মন্তব্যের শিকার হওয়ার কথা জানান অংশগ্রহণকারীদের ৫৭ শতাংশ।

কাশফিয়া ফিরোজ বলেন, জরিপ হতে প্রাপ্ত তথ্য থেকে আমরা জানতে পারি ভয়ের কারণে অনেক সময় বাবা-মায়েরা মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, খেলাধুলা, পিকনিকে অংশগ্রহণ করতে দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। সহিংসতা তো বটেই, সহিংসতার ভয় তরুণদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ। ভয় দূর করা সম্ভব হলেই তরুণেরা তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ করতে পারবে।

জাতীয় সংলাপটি ছিল প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এবং জাগো ফাউন্ডেশনের প্রচারণার একটি অংশ যা বাংলাদেশের ৪টি বিভাগে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে শুরু হয়েছিল। যেখানে যুবকদের ‘সহিংসতার ভয়’ সম্পর্কে সংবেদনশীল করা হয়েছিল এবং এই সমস্যাটি কীভাবে প্রশমিত করা যায় সেই বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছিল।

সংলাপে আলোচকেরা ‘সহিংসতার ভয়’ বিষয়ক জাতীয় পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি তুলে ধরেন এই ভয় কীভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে এবং কীভাবে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই ভয়কে জয় করা সম্ভব।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিবুজ্জামান বলেন, সরকার নারীদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং সকল সরকারি ব্যবস্থায় নারীদের সম্পৃক্ত করছেন। আমরা তরুণদের এই প্রক্রিয়ায় যোগ দেয়ার জন্য উৎসাহিত করছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন বলেন, অবকাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি, যেন ভয়ের ক্ষেত্রগুলোকে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি জোর দিতে হবে সাপোর্ট সিস্টেম তৈরিতে।

মালালা ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ এম. এইচ. তানশেন বলেন, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহযোগিতামূলক জায়গা দরকার। যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানসম্পন্ন শিক্ষক নিশ্চিত করতে হবে। উপরন্তু, সহিংসতার ভয়ে শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতির উন্নতি করতে হবে।

নারীপক্ষের সদস্য কামরুন নাহার বলেন, আমরা মুক্তি চাই, রক্ষা চাই না। নারী হওয়ার জন্য আমাদের সাথে যা যা ঘটে বা ঘটতে পারে- সবই সহিংসতা। কী কী ঘটে তা নিয়ে কথা বললেও কী ঘটতে পারে সেই ভয় নিয়ে আমরা কথা বলি খুবই কম। তিনি সহিংসতার ভয়কে চ্যালেঞ্জ করার প্রক্রিয়ায় যুবক এবং সরকারি কর্মকর্তাদের কাজ করার ওপর জোর দেন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, তরুণেরা যখনই কোনো সহিংসতার মুখোমুখি হয় তখনই তাদের এগিয়ে আসা উচিত এবং নিজেদের জন্য উঠে দাঁড়াতে হবে। তাদের সকল বৈষম্য এবং সহিংসতাকে সকল অবস্থাতেই চ্যালেঞ্জ করতে হবে।