বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর অনুরোধ ব্যবসায়ীদের|362461|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ মে, ২০২২ ০০:০০
বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর অনুরোধ ব্যবসায়ীদের
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর অনুরোধ ব্যবসায়ীদের

গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য না বাড়াতে সরকারকে অনুরোধ করেছেন ব্যবসায়ীরা। কভিড মহামারী, ইউক্রেন সংকটের ফলে বিশ^ব্যাপী খাদ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও উৎপাদন উপকরণসহ সব খাতে ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি, মাত্রাতিরিক্ত সার্বিক পরিবহন ব্যয় এবং মুদ্রা বিনিময় হার অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসা পরিচালন খরচ অত্যধিক বেড়ে গেছে। এই সময়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ালে শিল্প, অর্থনীতি এবং জনগণের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএ।

বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবকে চিঠি পাঠিয়েছেন এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি খাতে বিশ^ব্যাপী চাহিদা কমার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধিজনিত কারণে বৈশি^ক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার নেতিবাচক প্রভাবে শিল্পকারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সে সঙ্গে ব্যাপকহারে চাকরিচ্যুতি ও বেকারত্ব বেড়ে যাবে। ইতিমধ্যে ব্যালেন্স অব পেমেন্ট এবং বিদেশি মুদ্রার রির্জাভের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আবার সঞ্চয় কমে যাওয়ার ফলে বিনিয়োগ ও ব্যাংকিং খাতের অর্থ প্রবাহে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জসিম উদ্দিন বলেন, এই দুঃসময়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে মূল্যস্ফীতির কারণে বহুমাত্রিক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার উদ্ভব হবে। ব্যবসা পরিচালনার খরচ আরও বেড়ে যাবে। কৃষি, শিল্প, সেবা ও রপ্তানি খাতসহ সার্বিকভাবে সাধারণ জনগণের জীবন ও জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। তাই জনজীবনের ওপর অর্থনৈতিক প্রভাব পূর্ণাঙ্গভাবে বিশ্লেষণ না করে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো সমীচীন হবে না।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে বর্তমান আপৎকালীন সময়ের জন্য সব খাতে গ্যাসের বিদ্যমান মূল্যহার অপরিবর্তিত রাখা। দেশের গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৭৮ শতাংশ দেশি উৎস থেকে উৎপাদন হয় এবং অবশিষ্ট পরিমাণ আমদানি করা হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমদানি পর্যায়ে ভর্তুকি দিয়ে প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধি না করা। দেশি উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে অনশোর ও অফশোরে নিয়মিত কূপ খনন প্রকল্প গ্রহণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সকল প্রকার অপচয়, অবৈধ সংযোগসহ যাবতীয় দুর্বলতা জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে নিরসন।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ অনুযায়ী বিদ্যুৎ খাতের পরিচালন দক্ষতা, ন্যূনতম ব্যয়, ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ, সেবা ইত্যাদি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান ও কৌশল অনুসরণ এবং বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালনার লক্ষ্যে সময়াবদ্ধ সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ।

এনার্জি সিস্টেম উন্নয়ন পরিকল্পনা যথাযথভাবে অনুসরণ করে ক্যাপাসিটি, ডিমান্ড চার্জসহ মূল্য পরিশোধিত অলস বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়া যেতে পারে। ক্যাপাসিটি চার্জ বাতিল করে অলস বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীকে অর্থ পরিশোধ বন্ধ করা।

বিদ্যুতের দৈনিক গড় ব্যবহারের অতিরিক্ত ৩০ ভাগ রিজার্ভ বিদ্যুতের সংস্থান রেখে অতিরিক্ত উৎপাদন বন্ধ করে খরচ কমিয়ে আনা যেতে পারে। গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক সুদক্ষ ও সুলভ মূল্যে উৎপাদনকারী বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু রেখে অদক্ষ ও উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ করা যেতে পারে। তবে শুধু পিক আওয়ারে ডিজেল প্ল্যান্ট চলতে পারে।

বর্তমান আপৎকালীন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্প, কৃষি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবা খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে অন্যান্য ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ রেশনিং করা। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমে আসবে।

জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির (ক্রমান্বয়ে কমে আসছে) কারণে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো সমীচীন নয়। সরকার বিদ্যুৎ খাতের তহবিল থেকে আপৎকালীন পরিস্থিতি  মোকাবিলা করতে পারে। সরবরাহ মূল্য বিদ্যমান হারে বজায় রেখে বাড়তি ব্যয় সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে সমন্বয় করার সুপারিশ করেছে এফবিসিসিআই।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলেছেন, কভিড-১৯ মহামারীর কারণে সৃষ্ট প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে পোশাকশিল্প পুনরুদ্ধার শুরু হলেও বর্তমানে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। ইতিমধ্যে কাঁচামাল সংকট, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, কনটেইনার ও জাহাজ ভাড়া অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে চাপের মধ্যে রয়েছে।

এই মুহূর্তে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য কোনোরকম বৃদ্ধি করা হলে তা পোশাকশিল্পের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলবে। কারণ এতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, ফলশ্রুতিতে শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা হ্রাস পাবে। বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে প্রকৃত আয় কমে যাওয়া পোশাকের বাজার চাহিদার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

গ্যাস এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শুধু পোশাকশিল্পের ওপরই প্রভাব ফেলবে না। এটি জনগণের ওপরও মারাত্মক প্রভাব রাখবে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মূল্য বেড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।