ক্ষুধা ছড়াচ্ছে সোমালিয়ায়|362601|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ মে, ২০২২ ০০:০০
ক্ষুধা ছড়াচ্ছে সোমালিয়ায়
বাস্তুচ্যুত ৬০ লাখ মানুষ
রূপান্তর ডেস্ক

ক্ষুধা ছড়াচ্ছে সোমালিয়ায়

হালিমা হাসান আবদুল্লাহির দুই যমজ নাতনি এবলা ও আবদিয়ার কবরে এখনো রয়েছে কাঁটাগাছের ডালপালা। এক মাস আগে জন্ম নেওয়ার পর মাত্র এক দিন বেঁচেছিল এবলা-আবদিয়া। এ শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণ তাদের মায়ের পুষ্টিহীনতা ও খাদ্যের অভাব। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে হালিমা বলেন, ‘বাচ্চা দুটির জন্মের সময় তাদের মা পুষ্টিহীনতায় ভুগছিল, আমার নাতনিদের মৃত্যুর মূল কারণ ক্ষুধা।’

দীর্ঘদিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধ ও আল-শাবাবের তৎপরতায় গত কয়েক বছরে হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ায়। গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন শহরের অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে তারা। হালিমা হাসান আবদুল্লাহির পরিবারও তেমনি একটি বাস্তুচ্যুত পরিবার। মাস দেড়েক আগে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে হেঁটে ডলো শহরের ক্যাম্পে আশ্রয় নেন হালিমা ও তার পরিবারের সদস্যরা। এখানে তার অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূও ছিলেন। খাদ্যপণ্যের সংকট ও খাবারের মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে গর্ভাবস্থায়ও খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে বাধ্য হন হালিমার পুত্রবধূ। পরিণতিতেই দুর্বল দুই শিশুর জন্ম দেন তিনি, যারা শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারেনি। ডলো শহরের আশ্রয় শিবিরে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ বসবাস করে।

টানা চার বছর ধরে বৃষ্টিপাত হচ্ছে না সোমালিয়ায়; হলেও যৎসামান্য। দেশটির আবহাওয়াবিদদের মতে, গত ৪০ বছরে এমন ভয়াবহ খরা দেখেনি সোমালিয়া। পানির অভাবে দেশটির কৃষিব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে, বিপুলসংখ্যক গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে।

গৃহযুদ্ধ ও খরাজনিত কারণে বাস্তুচ্যুত হয়ে সোমালিয়ার বিভিন্ন শহরে বর্তমানে আশ্রয় নিয়েছে অন্তত ৬০ লাখ মানুষ। জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রয়োজন তাদের। জাতিসংঘের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে সোমালিয়ায় খাদ্য সংকটজনিত কারণে যে দুর্যোগ দেখা দিয়েছে, তার সঙ্গে দেশটির ২০১১ সালের মহাদুর্ভিক্ষের তুলনা করা চলে। ওই দুর্ভিক্ষে সোমালিয়ায় আড়াই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং তাদের অধিকাংশই ছিল পাঁচ বছরের কমবয়সী শিশু।

জাতিসংঘ অবশ্য ইতিমধ্যে সোমালিয়ার দুর্গত লোকজনের জন্য কিছু আর্থিক বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই তহবিলের মাত্র ১৫ শতাংশ পৌঁছেছে দেশটিতে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এ পর্যন্ত ২৮ লাখ দুর্গত মানুষ সেই তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। বিপরীতে এখনো কোনো সহায়তা পায়নি অন্তত ৩১ লাখ মানুষ।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির পূর্ব আফ্রিকা শাখার প্রধান রুকিয়া ইয়াকুব বলেন, ‘বর্তমান দুর্ভিক্ষ এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো দরিদ্রদের অর্থ সহায়তা দেওয়া।’