জাহাজ নির্মাণে ৪.৫% সুদে ঋণ|362610|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ মে, ২০২২ ০০:০০
জাহাজ নির্মাণে ৪.৫% সুদে ঋণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাহাজ নির্মাণে ৪.৫% সুদে ঋণ

ডুবে যাওয়া জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে টেনে তুলতে ২ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিলের আওতায় সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে মেয়াদি ঋণ নিতে পারবেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে এক বছর মেয়াদে চলতি মূলধন ঋণ দেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর ফলে গত কয়েক বছর ধরে ধুঁকতে থাকা জাহাজ নির্মাণ শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াবে এবং আমদানি-রপ্তানির কাজে ব্যবহৃত জাহাজের ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় প্রেক্ষাপটে দেশে নির্মিত জাহাজ ব্যবহার বাড়াতেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার এই তহবিল থেকে ঋণ নেওয়ার নীতিমালা দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি (বিআরপিডি) বিভাগ। এতে বলা হয়েছে, জাহাজ শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং আমদানি নির্ভরতা ক্রমান্বয়ে কমিয়ে এনে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষে সরকারের ‘জাহাজ নির্মাণ শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা ২০২১’-এর আলোকে তহবিলটি গঠন করা হয়েছে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১২ বছরে ঋণ শোধ করতে পারবে। মাসিক বা ত্রৈমাসিক সমকিস্তিতে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তবে ঋণ পেতে বেশকিছু শর্ত পূরণ করতে হবে উদ্যোক্তাদের।

এ তহবিলের আওতায় ডকইয়ার্ড নির্মাণ বা জমি ক্রয় বা ইজারার বিপরীতে ঋণ পাওয়া যাবে না। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর সংশ্লিষ্ট ধারা মোতাবেক কোনো খেলাপি ঋণ গ্রহীতার অনুকূলে এ স্কিমের আওতায় ঋণ দেওয়া যাবে না। এ স্কিম হতে গৃহীত ঋণ দ্বারা কোনোভাবেই অপর কোনো ঋণ বা বিনিয়োগ পরিশোধ বা সমন্বয় করা যাবে না। ব্যাংক পর্যায়ে ১ শতাংশ সুদে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেওয়া হবে। গ্রাহক পর্যায়ে এ তহবিলের ঋণের সুদ হবে সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ শতাংশ।

শুরুতেই এই তহবিলের ঋণের কোনো সীমা নির্ধারণ করে দেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের প্রয়োজন বিবেচনায় বিদ্যমান বিধিবিধান অনুসরণ করে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে এ তহবিলের আওতায় ঋণ বা বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে।

এ তহবিলের আওতায় ঋণ বা বিনিয়োগ দেওয়ার জন্য তহবিলের প্রাপ্যতাবিষয়ক আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ৩০ জুন, ২০২৪ সালের মধ্যে দাখিল করতে হবে। চলতি মূলধন ঋণের নবায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নবায়ন করা সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিতে পারবে।

জানা গেছে, ২০০৮ সাল থেকে দেশে রপ্তানিমুখী জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিনিয়োগ বাড়তে থাকে। তবে এর কিছুকাল পরেই নানা ধরনের জটিলতায় পড়ে এখাতে প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ পরিশোধে বড় ধরনের সমস্যায় পড়ে। বাড়তে থাকে খেলাপি ঋণ। দেশের বড় শিপইয়ার্ডগুলো চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, ভাটিয়ারী ও আনোয়ারায়। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পারেও গড়ে উঠেছে কিছু প্রতিষ্ঠান। ২০০৮-১৮ সময়ে ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ৪০টি জাহাজ রপ্তানি হয়েছে। তবে এ খাতের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন পরিশোধ করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে এ খাতের উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের দাবি জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিয়েছিল অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড শিপ বিল্ডার্স ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশ (এইওএসআইবি)।

২০০৮ সালে জার্মানিতে একটি সমুদ্রগামী জাহাজ রপ্তানি করে আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড সিøপওয়েজ লিমিটেড। এরপর এ শিল্পে যুক্ত হয় চট্টগ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, এফএমসি ডকইয়ার্ড, খান ব্রাদাস শিপ বিল্ডার্সসহ প্রায় কয়েকটি বেসরকারি কোম্পানি। দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে গোটা দশেক রপ্তানিমুখী জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।  রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবি বলছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জাহাজ রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ আয় করে মাত্র ৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার। তবে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির পর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ খাতের আয় দাঁড়ায় ৬ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। কিন্তু এরপর থেকেই নিম্নমুখী জাহাজের রপ্তানি বাণিজ্য। সবশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানি নেমে আসে মাত্র ২ লাখ ডলারে। এদিকে, জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিভিন্ন ব্যাংক এখন পর্যন্ত ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ দিয়েছে, যার বেশির ভাগই এখন খেলাপি।