শিশুর প্রস্রাব নিয়ে সতর্কতা|362626|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ মে, ২০২২ ০০:০০
শিশুর প্রস্রাব নিয়ে সতর্কতা
মাওলানা আবদুল হামিদ

শিশুর প্রস্রাব নিয়ে সতর্কতা

আমাদের সমাজে শিশু-কিশোরদের পরিপালনের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে উদাসীনতা ও মাসয়ালার ভুল প্রয়োগ হতে দেখা যায়। এ বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্কতা ও পূর্ণ মনোযোগ কাম্য।

কেবলার দিকে মুখ-পিঠ দিয়ে

প্রস্রাব-পায়খানা করানো

কেবলার দিকে মুখ কিংবা পিঠ করে মলমূত্র ত্যাগ করার বিষয়ে হাদিসে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এর দ্বারা কেবলার অসম্মান করা হয়। ইসলামি স্কলাররা এটাকে মকরুহ বলেছেন। অনেকেই এ হুকুম শুধু বড়দের জন্য নির্ধারিত মনে করেন। তাই শিশুদের মলমূত্র ত্যাগ করার সময় এ বিষয়ে লক্ষ রাখেন না, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এক্ষেত্রে শিশুকে ওইভাবে যে প্রস্রাব-পায়খানা করাবে, সে দোষী হবে। রদ্দুল মুহতার : ১/৬৫৫

প্রস্রাব নিয়ে ভ্রান্তি ও বিড়ম্বনা

কেউ কেউ মনে করে, বাচ্চা যত দিন দুধ পান করবে ততদিন তার প্রস্রাব নাপাক নয়। কারণ, যতদিন শুধু দুধ পান করে ততদিন বাচ্চার প্রস্রাব বেশি দুর্গন্ধ হয় না। এ ধারণা ভুল। হাদিসে এ ধরনের শিশুর প্রস্রাবও যে নাপাক তার বর্ণনা রয়েছে। আর প্রস্রাব দুর্গন্ধময় হোক বা না হোক সর্বাবস্থায় তা নাপাক। দুর্গন্ধ না হলে নাপাক হবে না এ ধারণা ভুল। সহিহ্ বোখারি : ১/৩৫

ছেলে-মেয়ের প্রস্রাবের মধ্যে পার্থক্য করা

অনেকে ছেলে শিশুর প্রস্রাবকে নাপাক মনে করে না। শুধু মেয়ে শিশুর প্রস্রাবকে নাপাক মনে করে। এ পার্থক্যও সঠিক নয়। ছেলে-মেয়ে উভয়ের প্রস্রাবই নাপাক এবং তা পবিত্র করার নিয়মও একই। ইলাউস্ সুনান : ১/৪০৯

ঘরের মেঝেতে প্রস্রাব পড়লে করণীয়

ঘরের মেঝে যদি মাটির হয় তাহলে তা শুকিয়ে প্রস্রাবের চিহ্ন ও দুর্গন্ধ চলে গেলে ওই স্থান পবিত্র হয়ে যায়। কিন্তু সাধারণত ওই স্থানকে পবিত্র করতে গিয়ে প্রয়োজনের অধিক কসরত করতে দেখা যায়।

আর মেঝে পাকা হলে প্রস্রাব মুছে নিয়ে ভিজা কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মেঝে মুছে দিলে এবং প্রস্রাবের প্রভাব ও দুর্গন্ধ চলে গেলেই তা পবিত্র হয়ে যায়। কিন্তু অনেকেই এক্ষেত্রেও প্রয়োজনের বেশি কসরত করতে থাকে। ওই স্থান নতুন পানি দিয়ে মোছার পর তা শুকিয়ে গেলেও পবিত্র মনে করা হয় না। বরং তিনবার পানি ঢেলে প্রতিবার শুকনা করে না মোছা পর্যন্ত পবিত্র ধরা হয় না। ওই স্থানে ভেজা পা পড়লে পা অপবিত্র হয়ে যাওয়ার ধারণা করা হয়। অথচ সতর্কতার বাড়তি এ কষ্টটুকু মাসয়ালার সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে হয়ে থাকে।

প্রকাশ থাকে যে, পাকা মেঝেতে প্রস্রাব পড়ে তা শুকিয়ে গেলে এবং প্রস্রাবের চিহ্ন ও দুর্গন্ধ চলে গেলে মোছা ছাড়াই ওই স্থান পবিত্র হয়ে যায়। খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ১/৪২